ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

নষ্ট সমাজে উৎকট দুর্গন্ধের মহামারী!

গোলাম মাওলা রনি

২৫ মে ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:১৮


গোলাম মাওলা রনি

গোলাম মাওলা রনি

প্রিন্ট

প্রথম ঘটনাটি বছর তিনেক আগের। কেতাদুরস্ত এক ভদ্রলোকের সাথে পরিচয়ের শুরুতে তিনি হ্যান্ডশেক করে আমার হাতটিকে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে নিজের শক্তিমত্তার জানান দিলেন। তারপর নিজের বংশলতিকার বিস্তারিত বর্ণনা এবং বাড়িগাড়ির হিসাব দেয়ার পাশাপাশি তার পরিধেয় বস্ত্র, ঘড়ি, কলম, আংটি আর জুতার মূল্যমান সম্পর্কে সচেতন করলেন। কথা প্রসঙ্গে আমার বয়স জানলেন এবং তার বয়স সম্পর্কে আমার কী আন্দাজ, তা জানতে চাইলেন। ইতস্তত করে যখন বললাম, হয়তো পঞ্চান্ন বা ছাপান্ন হবে, তিনি হো হো করে উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন। তারপর বড় বয়সী তৃপ্তির নিঃশ্বাস নিয়ে বললেন, ‘হলো না! হলো না! সবার মতো আপনিও ভুল করলেন। আমার বয়স বর্তমানে আটষট্টি বছর।’
আলোচনার দ্বিতীয় পর্যায়ে তার সুদীর্ঘ যৌবনের রহস্য জানাতে গিয়ে প্রথমেই জানালেন, তিনি নিয়মিত রেড ওয়াইন খান এবং সমবয়স্ক মেয়েদের সাথে মেলামেশা করেন। তার সাথে কোন কোন সুন্দরী নায়িকা, গায়িকা এবং মডেলকন্যার ‘ইতিউতি’ রয়েছে, তার রসময় আলোচনা করে তিনি আমাকে লোভাতুর করতে চেষ্টা করলেন। তার ধারণা হলো- আমার ধনসম্পত্তি, ব্যবসাবাণিজ্য এবং অর্থবিত্তের যে সফলতা সেই সময়ে ছিল, তার কিছুটা হাতিয়ে নেয়ার সবচেয়ে মোক্ষম উপায়টি আমার ওপর প্রয়োগ করলে তিনি হয়তো সফল হবেন; কিন্তু তার ফাঁদে পা না দিয়ে যখন আমার চিরায়ত অভ্যাস মতো নীতিবাক্য আওড়াতে শুরু করলাম এবং বৃদ্ধ বয়সে অনাচারে লিপ্ত থাকার জন্য তাকে ভর্ৎসনা করলাম, তখন তিনি যারপরনাই বেদনাহত ও অপমানিত বোধ করে চলে গেলেন। আমি সেক্রেটারিকে ডেকে বলে দিলাম, আগামীতে এই লোককে যেন আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো অনুমতি দেয়া না হয়।
দ্বিতীয় ঘটনাটি বছর দুয়েক আগের। একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের বৈঠকে দুই বৃদ্ধের সাথে চোখাচোখি হতেই তারা আমার দিকে এগিয়ে এলেন। মুহূর্তের পরিচয় এবং ক্ষণিকের আলাপের সূত্রে তারা নিজেদের অশ্লীল এবং অবৈধ যৌনাচার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা শুরু করলেন। কথা বলছিলেন মূলত দুই বৃদ্ধ, আর আমি ছিলাম শ্রোতা। তারা উভয়েই যথেষ্ট ধনাঢ্য, জাত ব্যবসায়ী এবং সেই সাথে শয়তানি কর্মে একবারে পাকা ও সিদ্ধহস্ত। নিজেদের কুৎসিত কুকর্ম এবং বিকৃত আচরণ নিয়ে তাদের কোনো অনুশোচনা তো দূরের কথা, বরং এসব নিয়ে তারা রীতিমতো অহংকার অনুভব করেন। তাদের কথাবার্তা মুদ্রণের অনুপযোগী এবং ওগুলো শোনাও কোনো রুচিশীল ভদ্রলোকের জন্য রীতিমতো জাহান্নামের আজাবের শামিল। তারা বাস্তবে কতটুকু অপকর্ম কোন পরিধিতে করতে সক্ষম, তা বুঝা না গেলেও এ কথা স্পষ্ট বুঝা যায়, বৃদ্ধদ্বয় তাদের কুকর্ম বর্ণনা করতে গিয়ে যতটা না পৈশাচিক আনন্দ লাভ করেন, তার চেয়েও বেশি আনন্দ পান ওসব নোংরা কথা প্রচার করে।
এবার বালকদের প্রসঙ্গে আসি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠরত বালক-বালিকাদের প্রেমাচার ইদানীং সমাজে রীতিমতো মহামুসিবত হিসেবে দেখা দিয়েছে। বালিকাদের যন্ত্রণায় স্কুলের শিক্ষকেরা বিব্রত। অন্য দিকে, বালকেরা তাদের তরুণী শিক্ষয়িত্রীদের যেভাবে অহরহ ইভটিজিং করে থাকে, তা শুনলে কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ মেজাজ ঠিক রাখতে পারবেন না। রাজধানীর নাম করা একটি সরকারি বিদ্যালয়ে দুইজন নতুন মধ্যবয়সী শিক্ষয়িত্রী যোগদান করার পর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে পড়–য়া বালকেরা যে বিপত্তি ঘটিয়েছিল, তা দেখার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছিল। শিক্ষয়িত্রী দু’জনের মধ্যে একজন অপেক্ষাকৃত গৌরবর্ণের এবং অন্যজন কৃষ্ণকায়। বালক ছাত্ররা তাদের দেখে শিস দেয়। ক্লাসে হইহুল্লোড় করে এবং নানা রকম বাজে মন্তব্য করে তাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে। বালকেরা ফর্সা শিক্ষিকাকে সানি লিয়ন এবং কালো বর্ণের শিক্ষিকাকে কালি লিয়ন বলে ইভটিজিং পর্যন্ত করেছে।
শিক্ষয়িত্রীদ্বয় বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি অভিযুক্ত ছাত্রদের অভিভাবকদের ডেকে পাঠান। একটি কাজে উল্লিখিত বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীরা অনুরোধ জানান, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে অভিযুক্ত ছাত্রদের এবং তাদের অভিভাবকদের বাস্তব অবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য। নিজের লেখকসত্তার স্বভাবজাত কৌতূহলের জন্য আমি থেকে গেলাম এবং হাল আমলের নষ্ট সমাজের নোংরামির তীব্রতা অনুভব করার একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ পেয়ে যাই। লক্ষ করলাম, শিক্ষয়িত্রীদ্বয় যখন অশ্রুসজল নয়নে কান্নাভরা কণ্ঠে অভিযোগ করছিলেন, তখন অভিযুক্ত বালকেরা মুচকি মুচকি হাসছিল। তাদের বাবারা ছিলেন নির্বিকার এবং মায়েরা ছিলেন বিষণœ। আরো জানলাম, অভিযুক্ত বালকেরা সত্তর/আশি হাজার টাকার দামি মোবাইল সেট ব্যবহার করে এবং সরকারি গাড়িতে চড়ে বিদ্যালয়ে আসে। কারণ তাদের অভিভাবকেরা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তা।
বালকদের নষ্টামির পেছনে কিছু অভিভাবক কিভাবে ভূমিকা রাখেন, তা হয়তো অনেকেই জানেন; কিন্তু এসব কাণ্ডকারখানা নিয়ে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে কত যে অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, তার খবর আমরা ক’জন রাখতে পারি। খুবই অসংযত, উচ্ছৃঙ্খল, অশ্লীল জীবনযাপনে অভ্যস্ত মধ্যবয়সী এক ব্যবসায়ী হঠাৎ একদিন তার স্কুলপড়–য়া বড় ছেলের কামরায় ঢুঁ মেরে দেখেন, ছেলেটি তার কম্পিউটারে অশ্লীল ছবি দেখছে। লোকটি ছেলেটিকে বেদম প্রহার করলেন, ছেলের মাকেও মারলেন এবং মনের দুঃখে ঘর ছেড়ে অফিসে চলে গেলেন। সারা দিন অফিস করার পর মনের দুঃখ আরো বেড়ে গেল। মনের মধ্যে একধরনের বৈরাগ্য চলে আসার কারণে সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি রাতে অফিসেই থাকবেন। সন্ধ্যার পর তার মনে ছেলের কুকর্মের কথা বারবার ভেসে উঠতে লাগল। দুঃখ ভোলার জন্য তার কয়েকজন বন্ধু ও বান্ধবীকে অফিসে দাওয়াত দিলেন। তার মনে হলো, সবাই মিলে মদ খেয়ে এবং আলাপ-আলোচনা বা মেলামেশা করলে হয়তো মনের দুঃখ কিছুটা হলেও কমে যাবে। পরিকল্পনা মতো লোকটি তার অফিসে সুরা ও সাকির আয়োজন করে সারারাত মনের দুঃখ দূর করার চেষ্টা করলেন এবং সকালে মনের সুখে বাসায় ফিরে গেলেন আরামে ঘুমানোর জন্য।
বৃদ্ধ ও বালকদের কাহিনী বলার পর নারীদের সম্পর্কে দুটো বাস্তব ঘটনা বলে শিরোনামের প্রসঙ্গে চলে যাবো। নারীদের প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল রাজধানীর কথিত ধনীদের একটি এলাকায়। ভদ্রমহিলা মধ্যবয়সী এবং স্বাস্থ্যবতী সুন্দরী। তার স্বামী কাজকর্মের কারণে প্রায়ই বিদেশে অথবা ঘরের বাইরে থাকেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাব এবং পাঁচতারা হোটেলের বিভিন্ন পার্টিতে যান। স্বামী দেখতে অতটা সুন্দর না হলেও সব কাজে ভীষণ দক্ষ। মুহূর্তেই বিভিন্ন মহিলার সাথে খাতির জমিয়ে ফেলেন এবং ইচ্ছেমতো কারো সাথে হ্যান্ডশেক, কারো সাথে কোলাকুলি কিংবা গালে গাল লাগিয়ে হিন্দি সিনেমা বা পশ্চিমা সমাজের ফ্যাশন অনুযায়ী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। স্ত্রীর খুব ইচ্ছে হয়, তিনিও এমনটি করবেন; কিন্তু তার স্বামীর মতো কোনো সাহসী পুরুষ এগিয়ে এসে তার সাথে যেমন ঘনিষ্ঠ হয় না- তেমনই নিজেও সাহস করে উপযাচক হয়ে কোনো পুরুষের সাথে মনমতো ‘খোলামেলা’ মেলামেশা করতে পারেন না।
মহিলা মনের দুঃখ বহু দিন বয়ে বেড়ালেন। তারপর নিজের দুঃখের কথা একদিন ঘরের কাজের বুয়ার কাছে খুলে বললেন। কারণ বুয়াটিকে তার সব দিক থেকেই চালাক-চতুর এবং সফল বলে মনে হয়। বুয়ার অনেক ঘটনাই তিনি জানেন এবং প্রায়ই সময়-সুযোগ পেলে ওসব ঘটনা শুনে তিনি নিজে নিজে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বুয়া তাকে বুদ্ধি দিলো যে, পার্টিতে গিয়ে এলোমেলো ঘোরাফেরা করে নাগর পাওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত তার যে বয়স, সে বয়সে কোনো প্রেমিক পাওয়া দুষ্কর। কারণ প্রেমিকেরা সব সময় অল্প বয়স্ক মেয়েদের পেছনে ছোটে। সুতরাং তাকে টার্গেট করে এগোতে হবে এবং ছলে বলে কৌশলে টার্গেটকে করায়ত্তে নিয়ে এসে প্রেমিক হতে বাধ্য করতে হবে। বুয়ার পরামর্শে ভদ্রমহিলা খুবই থ্রিল অনুভব করলেন এবং যেকোনো মূল্যে নিজের লিপ্সা বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প প্রস্তুত করে ফেললেন।
ভদ্রমহিলা টার্গেট হিসেবে তাদের পাশের ফ্ল্যাটের হাবাগোবা অথচ শিক্ষিত ও ভদ্রলোক বলে পরিচিত ধনাঢ্য ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে বসলেন। তারপর সুযোগ বুঝে একদিন নির্জন সন্ধ্যায় ভদ্রলোককে জরুরি কথা আছে বলে বাসায় ডেকে নিলেন। ভদ্রলোক ঢোকামাত্রই মহিলাটি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং আরো কিছু ঘনিষ্ঠ কর্ম করে ফেললেন মুহূর্তের মধ্যে। দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে বুয়াটি বেশ দক্ষতার সাথে সে দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করল। পরে কয়েক মাস মহিলাটি নিরীহ গোবেচারা ভদ্রলোকটিকে ধারণ করা ভিডিও ক্লিপের ভয় দেখিয়ে তার জীবন অতিষ্ঠ করে তুললেন। শেষমেশ ভদ্রলোকটি লাজলজ্জা ভুলে তার এক গোয়েন্দা বন্ধুর কাছে ঘটনা খুলে বলেন এবং নষ্ট সমাজের এহেন উৎকট দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ক্রয় করা ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে অন্যত্র ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন।
এবার এক যুবতী ও চতুর নারীর কাহিনী শোনা যাক। এই নারী নি¤œবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা বালিকা বয়সে তাকে বিয়ে দেন তার চেয়েও প্রায় ২০ বছর বেশি বয়সী বেসরকারি কলেজের এক প্রভাষকের কাছে। নারীটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিভিন্ন কারণে উচ্চাভিলাষী হয়ে পড়েন। ধনাঢ্য লোকদের আকৃষ্ট করার যাবতীয় কলাকৌশল রপ্ত করে ফেলেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই চরিত্রহীন টাকাওয়ালাদের সান্নিধ্য পেয়ে নিজের বৃদ্ধ স্বামীকে তা মেনে নিতে বাধ্য করেন। একটু উন্নত জীবন, দামী পোশাক-আশাক এবং দু’হাতে টাকা খরচ করার অবাধ সুযোগের জন্য তিনি অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে চরিত্রহীন ধনীদের দেউলিয়া করার কাজে দক্ষতা অর্জন করে ফেলেন। তার দ্বারা প্রতারিত ধনীরা ভুক্তভোগী হওয়ার পর লোকলজ্জার ভয়ে সব কিছু চেপে যেতে বাধ্য হন, কিন্তু কোনো ধর্ষিতা নারীর মতো সাহস করে প্রতারক যুবতীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন না। ফলে ধুরন্ধর মহিলাগুলো দিনকে দিন তাদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি করে নষ্ট সমাজকে সম্পূর্ণরূপে পচিয়ে দেয়ার মিশনে উঠেপড়ে লেগেছেন।
আমাদের সমাজের উল্লিখিত বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে একত্র করে কেউ যদি মূল্যায়ন করেন, তবে খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে, দুর্নীতি, যৌনতা, অশ্লীলতা, অনিয়ম এবং অনাচার-ব্যভিচার আমাদের চর্তুদিক থেকে অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরেছে। রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিবেকবোধ, নীতি-নৈতিকতা এবং ধর্মবোধ নির্বাসনে যেতে বসেছে। প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি, অত্যাচার ও অবিচার একত্র হয়ে ভুক্তভোগীদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। শিষ্টের দমন এবং দুষ্টের পালন এখন অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তির সফলতার মূলমন্ত্র বলে বিবেচিত হচ্ছে। মানুষের মধ্যে মোনাফেকি ও বিশ্বাসঘাতকতা ভয়াবহরূপে বিস্তার লাভ করছে জীবনসংহারী মহামারী রোগ-জীবাণুর মতো। ফলে মেধাবী ও সামর্থ্যবানেরা শান্তির সন্ধানে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন এবং নিরীহ ও দুর্বল লোকেরা সব কিছু থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নির্জনতা বা একাকিত্বকে বেছে নিয়েছেন।
সমাজে দুর্নীতিবাজ ও দুর্বৃত্তদের উল্লম্ফন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। অপরাধীরা মজলুমের ভাগ্যবিধাতারূপে আবির্ভূত হয়েছে। সত্য ও ন্যায়কে নির্বাসনে পাঠানোর যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করার পর মিথ্যাচার, ব্যভিচার, অনাচার এবং অবিচারকে জাতীয় পোশাক-পরিচ্ছদ আর অলঙ্কার বানানোর তোড়জোড় পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। শিক্ষা-দীক্ষা, মানবতা, নম্রতা-ভদ্রতা, শালীনতা ইত্যাদি সুবচন এখন অবধি বই-পুস্তকে লেখা আছে। তবে নষ্ট সমাজের উৎকট দুঃসহ দুর্গন্ধ মহামারী আকারে যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে বই-পুস্তকের ভালো ভালো কথা, উপদেশ, সুবচন এবং নীতিকথা উবে যায় কি না সে ব্যাপারে সৎ ও সজ্জন মুরব্বিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কারণ কিয়ামতের আগে লক্ষণ হিসেবে কুরআনের বর্ণমালাগুলো উঠিয়ে নেয়া হবে বলে যুগযুগান্তর ধরে আমরা যা জেনে আসছি, তা যদি আমাদের জীবদ্দশায় ঘটে যায়; তবে আমাদের মতো অভাগা ও কপাল পোড়াদের জায়গা কোথায় হবে, তা কেবল আল্লাহ মালিকই বলতে পারবেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫