ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নিয়ে দাবা খেলা

সামি মোবাইদ

২৪ মে ২০১৭,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট
গত মাসে সিরিয়ার যুদ্ধ ছয় বছরে পদার্পণ করেছে। ২০১১ সালের ১৫ মার্চ এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ ক্রমে জটিল আকার ধারণ করে এক প্রলম্বিত যুদ্ধে রূপান্তরিত হয়েছে। সিরীয় যুদ্ধে বাইরের বহু খেলোয়াড় এবং ভাড়াটে সৈন্য প্রবেশ করার কারণে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এই যুদ্ধক্ষেত্রে ২০১২ সালে ইরানি সৈন্য এবং হিজবুল্লাহর অনুপ্রবেশ ঘটে। এরপর ২০১৪ সালে কথিত ইসলামিক স্টেট, পরবর্তীকালে ২০১৫ সালের শেষের দিকে রাশিয়া এবং অতিসম্প্রতি আমেরিকার স্থলসৈন্য প্রবেশ করেছে। আমেরিকার স্থলসৈন্যরা তাদের সামরিক যান নিয়ে ২০১৭ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ক্রমবর্ধমানভাবে সিরিয়া-ইরাক সীমান্ত অতিক্রম করে সিরিয়ায় প্রবেশ করায় এই যুদ্ধ সম্পূর্ণ নতুন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
২০১১ সালের মার্চে সিরিয়ার যুদ্ধ যখন শুরু হয়েছিল তখন তা ছিল সিরীয় সরকার ও তার বিরোধীদের মধ্যকার নিছক একটি ক্ষমতার লড়াই। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। সিরিয়ার দৃশ্যপটে এখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়রা মধ্যপ্রাচ্যের একটি নতুন মানচিত্র প্রণয়নের লক্ষ্যে দাবার ঘুঁটি হিসেবে বিশাল দাবা প্রতিযোগিতায় নিয়োজিত। যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা হচ্ছে কনভেনশনাল। ২০০ মেরিন এবং ৭৫তম রেজিমেন্ট আর্মি রেঞ্জারস। আগে কাবুল, বাগদাদ এবং মসুলে হিট অ্যান্ড রান স্পেশাল অপারেশনের জন্য একটি এলিট ফোর্স ব্যবহার করা হয়েছে। 
মার্কিন সৈন্যদেরকে সাময়িকভাবে ইউফ্রেটিস নদীর ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে কৌশলগত শহর মানবিজে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা বহুমুখী এজেন্ডা নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) স্বঘোষিত রাজধানী আল রাক্কা শহরে একটি বড় ধরনের হামলা পরিচালনা করা এবং মানবিজ শহরকে আইএস আর তুর্কিদের থেকে মুক্ত করার বিষয় নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) নামে পরিচিত মার্কিন সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিরোধিতা না করা।
দুই বছর আগে বারাক ওবামার অধীনে গঠিত এসডিএফের যোদ্ধারা এখনো আমেরিকান পে-রোলে পরিচালিত হচ্ছে। তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলভিত্তিক সিআইএ কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিদ্রোহী গ্রুপকে তীব্র হুমকি দেয়া সত্ত্বেও তারা অর্থাৎ এসডিএফ যোদ্ধারা আমেরিকান পে-রোলে রয়েছে। বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর প্রতি মাসের শেষে একটি সামরিক কমান্ডের অধীনে ঐক্যবদ্ধ না হলে মার্কিন সহায়তা বন্ধ করে দেয়া এবং তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে স্থান ত্যাগ করে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। বিদ্রোহী গ্রুপগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করা এখন খুব কঠিন কাজ। কারণ বিদ্রোহীদের মধ্যে একপক্ষকে ‘উদারপন্থী’ এবং অপরপক্ষকে সিরিয়ার আলকায়েদার শাখা জাবহাত আল নুসরা হিসেবে আগে পরিচিত, এখন জাবহাত ফাতাহ আল শাম-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বলে চিহ্নিত করে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করা খুব কঠিন। কয়েক বছর ধরে আমেরিকা সিরিয়ার বিদ্রোহীদেরকে জাবহাত আল ফাতাহ আল শাম থেকে দূরে রাখার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। এটা হচ্ছে অত্যন্ত কার্যকর অল সিরিয়ান ফাইটিং ফোর্স। তারা সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই বিদ্রোহীদেরকে জাবহাত ফাতাহ থেকে দূরে সরানো বাস্তবে অসম্ভব। অপর দিকে আইএস বিদেশী যোদ্ধাদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কালো তালিকাভুক্ত হয়ে গেছে। এই চূড়ান্ত শর্ত বা প্রস্তাবের একমাত্র ব্যতিক্রম হলো এসডিএফ।
এসডিএফের সৈন্যরা গত আগস্ট মাসে মানবিজে গুড় গুড় করে মাঝে মধ্যে ঝাঁকানি দিতো। তারা শহরটিকে সম্পূর্ণরূপে আইএসমুক্ত করে কেবল শহরটিকে গত মার্চ মাসে সরকারি সৈন্যদের কাছে হস্তান্তর শুরু করেছে। কুর্দি কমান্ড এবং রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর মধ্যে যে চুক্তি হয়েছেÑ তাকে ধন্যবাদ জানাই। 
বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার 
সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতির অর্থ সিরীয় যুদ্ধে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের কাছে বিভিন্ন বিষয় বোঝায়। তারা ভিন্ন ভিন্নভাবে এটাকে উপলব্ধি করে। সিরিয়া সরকারের জন্য এতে বলা হয়, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে রাশিয়ান ও আমেরিকানদের কাছ থেকে সিরীয় সরকার যৌথভাবে অনুমোদন পেতে শুরু করেছে। মানবিজ বাহিনী বা সৈন্যদের ক্ষতি হলোÑ প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে তার বাফার জোনের ধারণাকে ছোট করতে হয়েছে। এরদোগান এবং পুতিন গত গ্রীষ্মে একটি বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন। এখন মনে হচ্ছে, কেবল সীমান্ত শহর জারাব্লুস ও আজাজকে এবং আল বারের একটি মধ্যাঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করে একটি বাফার স্টেট গড়ে তোলা যাবে। এই এলাকাগুলোর সবই বর্তমানে তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এরদোগান সেখানে থামবেন না। মানবিজের দিকে অগ্রসর হয়ে এবং আল রাক্কাকে একীভূত করার মাধ্যমে এরদোগান যুগপৎভাবে রাশিয়ান ও আমেরিকান উভয়কে ুব্ধ করে তুলেছেন। উভয় দেশ আইএস থেকে মুক্ত করে আল রাক্কাকে স্বাধীনতা দিতে চায় না। তারা এরদোগানের নিয়ন্ত্রণেও রাক্কাকে দিতে চায় না। এরদোগান পাঁচ হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের একটি জোন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সচেতন ও বেপরোয়া। তার সীমান্তে কুর্দিদের একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উচ্চাভিলাষকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ২০ লাখেরও বেশি সিরীয় শরণার্থীর তত্ত্বাবধান ও আশ্রয়দানের লক্ষ্যে একটি পরিচ্ছন্ন ভূমি দিতে চান এরদোগান। উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে এসব সিরীয় শরণার্থী তুরস্কে অবস্থান করছেন।
ওই ফর্মুলা আলোর মুখ দেখলে, ইরান সিরিয়ায় দামেস্ক-বৈরুত মহাসড়ক নামক ‘পকেট’ ছাড়া আর বেশি কিছু পাবে না। দামেস্কে শিয়াদের পবিত্র স্থান বরাবর চলে যাওয়া এই মহাসড়কটি হচ্ছে হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন, দামেস্কের পশ্চিমের কালামুন জেলার সাথেও মহাসড়কটির সংযুক্তি রয়েছে। কালামুন জেলাটি লেবানন সংলগ্ন। পাঁচ বছর ধরে সড়কটির ওপর হিজবুল্লাহর সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। 
সিরিয়ান কেক বা খাদ্যে এটাই হলো তাদের ভাগের সীমা। তারা এর চেয়ে বেশি ভূখণ্ডে কামড় বসাতে পারবে না। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়ারা লেবানন ও ইরাকে যেভাবে অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ করে জীবন দিতে চায়Ñ সিরিয়ায় তারা সেভাবে মরতে চায় না। 
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা মানবিজে এসডিএফকে অব্যাহতভাবে সমর্থন জানাতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের সম্পর্ক ‘মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে তুরস্ক হচ্ছে আমেরিকার অত্যন্ত নির্ভরশীল ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার। এ পর্যন্ত এই সম্পর্ক নষ্ট করার কোনো ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কিছু সামরিক প্রয়োজন পূরণ করেছে এবং আল রাক্কাকে মুক্ত করতে আমেরিকা তুরস্কের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করবে। তুরস্ক রাক্কায় কখনো কুর্দিদের শাসন করতে দেবে না। ট্রাম্প প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সিরিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্টের তিনটি অগ্রাধিকার রয়েছে। সেগুলো হলো : ইউফ্রেটিসের পূর্বে কুর্দিদের ক্ষমতায়ন। ট্রাম্প প্রশাসন আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এবং তাদের নির্মূল করতে কুর্দিদের গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। এই প্রশাসনের অগ্রাধিকারে আরো রয়েছেÑ সিরিয়া থেকে ইরান ও হিজবুল্লাহকে বের করে দেয়া। ২০১২ সাল থেকে তাদের অর্থাৎ ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর সিরিয়া সরকারের আস্থার কারণে এই কথা বলা সহজ হলেও করা কঠিন।
‘ইউফ্রেটিসের পূর্বে’ এই কথার মাধ্যমে সাধারণভাবে সিরিয়ার কুর্দি অঞ্চলকে উল্লেখ করা হলেও একসময় যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থনের কারণে সেখানে গোলাগুলি বন্ধ হয়ে যায়। আবার মার্কিন সমর্থন বাদ দিয়ে পরে প্রধানত, ‘ইউফ্রেটিসের পশ্চিমে’ এবং সিরিয়ার অন্যান্য প্রধান শহর হোম, হামা, আলেপ্পো ও দামেস্কে রাশিয়া নিজের প্রভাব বিস্তার করে বসে।
ইউফ্রেটিসের পূর্বে সব ভূখণ্ড কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে নেই। বিশেষভাবে আল রাক্কাÑ যেটা ইউফ্রেটিসের পূর্বাঞ্চলীয় তীরে অবস্থিত অথবা অপর শহর তেলসমৃদ্ধ দেইর ইজ জোর যেটাকে ট্রাম্প দ্রুত আইএসমুক্ত করতে চানÑ সেটি কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আল মালিকিহ, আল হাসাকিহ এবং আল কামিশির মতো শহরের মধ্যেই কুর্দি অঞ্চল সীমাবদ্ধ।
দাবা খেলার ছক কাটা ফলের সশস্ত্র বিরোধিতা করা কিভাবে শোভন বা মানানসই হয় সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে বললে তাহরির ইনস্টিটিউট ফর মিডলইস্ট পলিসির সিনিয়র ফেলো হাসান হাসান গালফ নিউজকে বলেন, আক্ষরিকভাবে বিদ্রোহীরা অত্যন্ত টাইট স্পটে রয়েছে। গত অর্ধবছরে তুরস্কের অগ্রাধিকার পরিবর্তন হয়ে গেছে। সিরিয়া রাশিয়ার সাথে সমঝোতার ফলে কাতারের হাত বাঁধা রয়েছে। কাতারিরা আগে যেভাবে সমর্থন দিয়েছিল সেভাবে আর সমর্থন দিতে পারবে না। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ক্রমবর্ধমানভাবে খেলার আইনকানুনের দিকে দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। এর আরো অর্থ হচ্ছে, তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোকে মস্কোর সাথে চুক্তি করতে হবে। দামেস্ক আইএস এবং আলকায়েদার উত্থান থেকে ফায়দা হাসিল করার ফন্দি আঁটে।
পেন্টাগনের কর্মকর্তারা আসন্ন যুদ্ধের যাবতীয় বিষয় পরিচালনায় যখন ব্যস্ত তখন এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনসহ পররাষ্ট্র দফতর একেবারেই নীরব। অবশ্য রেক্স টিলারসন গত সপ্তাহে জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় জেনেভায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। ২০১৪ সালের পর এই প্রথম এ ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
রেক্স টিলারসনের পূর্বসূরি জন কেরি আগ বাড়িয়ে বিষয়টি জানালেও গত এপ্রিলে সেই উদ্যোগ থেমে যায়। মস্কো অথবা তেহরান কেউই প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী না হওয়ায় বিষয়টি অমীমাংসিত থাকে। কিন্তু সৌদি আরব, ফ্রান্স ও আমেরিকা এখন পর্যন্ত বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে। 
বৈশিষ্ট্যহীন নীরবতা
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির রাজনৈতিক পরিবর্তনের ব্যাপারে টিলারসন এবং তার সরকারের অবস্থান সম্পর্কে তিনি একেবারেই নীরব। এ ব্যাপারে ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউজও নীরব। মস্কোয় তেহরান এবং দামেস্ক এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিগ্রাহ্য পশ্চাৎপসারণ এবং ‘সিরিয়া ফাইলের’ আউট সোর্সিং হিসেবে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্র অন্ততপক্ষে এটাকে পুতিনের কাছে তাদের রাজনৈতিক উপাদান হিসেবে দেখছে।
রুশরা এখনো আলোচনার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা চলতি মাসে সুইজারল্যান্ডে দুই দফা আলোচনায় মিলিত হয়। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নি¤œপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং ডেপুটি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেন্নাদি গাতিলোভ উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল প্রক্রিয়া শেষ করার ওপর জোর দেন। তারা সরকারি শাসন থেকে বিরোধীদলীয় শাসন নয়Ñ বরং ক্ষমতা ভাগাভাগির ফর্মুলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই ফর্মুলায় একটি নতুন সংবিধান, নতুন পার্লামেন্ট, নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করাÑ যাতে বাশার আল আসাদ আরো দুই মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনÑ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সম্প্রতি নতুন করে প্রণীত সংবিধানে রাশিয়া প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হ্রাস করার এবং বাশারকে আগামী নির্বাচনসহ দুই মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেয়ার পরামর্শ দেয়। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তারা মস্কো সমর্থিত সিরীয় বিরোধী দলকে ৩০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ১০টি মন্ত্রণালয় দিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু তারা সৌদি অর্থ সহায়তায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচক কমিটি (এইচএনসি) সাথে ব্যবসাবাণিজ্য নিয়ে এবং বেসামরিক রাজনীতিকদের সাথে কথা বলেনি। সব পক্ষ ২৩ মার্চ প্রস্তাবিত শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে যাওয়ার কথা। তারা বছরের অবশিষ্ট সময়ে এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্তি করেছেন। তারা ২০১৭ সাল শেষ হওয়ার আগে আলোর মুখ দেখতে পাবেন বলে আশা করছেন। 
লেখক : সিরীয় ইতিহাসবিদ। আন্ডার দ্য ব্ল্যাক ফ্যাগ : অ্যাট দ্য ফ্রন্টিয়ার অব দি নিউ জিহাদ গ্রন্থের লেখক। 
গালফ নিউজ থেকে ভাষান্তর : মুহাম্মদ খায়রুল বাশার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫