ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৭ আগস্ট ২০১৭

অপরাধ

ধর্ষণের ৪৮ মিনিটের দৃশ্য ধারণ করা হয় বেল্লালের মোবাইলে

আবু সালেহ আকন

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ২১:৫৭ | আপডেট: ১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ২২:০৮


প্রিন্ট

একই রুমে সাফাত এবং তার বন্ধু নাঈম দুই তরুণীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছিল, আর সেখানেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছিল ড্রাইভার বেল্লাল। টানা ৪৮ মিনিট মোবাইল ক্যামেরায় নির্যাতনের সেই দৃশ্য ধারণ করে বেল্লাল। রিমান্ডে বেল্লাল ওই ভিডিও মুছে ফেলার কথা জানালেও একটি সূত্র বলেছে, তার আগেই নাঈম আশরাফ ও সাফাত তাদের মোবাইলে ওই ভিডিও নিয়ে নেয়। তবে পুলিশের একাধিক সূত্র বলেছে, ভিডিওটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে গত ২৮ মার্চ দুই তরুণীকে ধর্ষণের ভিডিও করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাফাতের এক বন্ধু বলেছে, ওই ভিডিওটি ছিল মোট ৪৮ মিনিটের। সাফাত ওই ভিডিওর কথা তার বন্ধুদের বলেছিলেন। তবে ভিডিওতে কী আছে তা দেখেননি বলে জানিয়েছেন ওই তরুণ। তিনি বলেছেন, বন্ধু সার্কেলে বলাবলি হচ্ছিল ভিডিওটি সাফাতের নিজের মোবাইল এবং নাঈমের মোবাইলে রয়েছে।

গত ২৮ মার্চ রাতে রাজধানীর বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করা হয় দুই ছাত্রীকে। তাদের মধ্যে একজন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কাজ করতেন। ওই তরুণী গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ এবং সাদমান সাকিফ এবং সাফাতের বডিগার্ড রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদ এবং ড্রাইভার বেল্লালকে আসামি করে একটি মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে পাঁচজনই গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাফাত ও সাকিফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

মামলা দায়েরকারী তরুণী অভিযোগ করেন, সাফাতের ড্রাইভার বেল্লাল ধর্ষণের দৃশ্য তার মোবাইলে ধারণ করেন।

জানা গেছে, হোটেল কক্ষের বাথরুমের পাশের ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য ধারণ করেছিল বেল্লাল। তবে রিমান্ডে বেল্লাল বলেছেন, ঘটনার পর সে ওই ভিডিও ডিলিট করে দিয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের পর তার মোবাইল জব্দ করে ভিডিওটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তার মোবাইলে ওই দিনের কোনো দৃশ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলেছে, সাফাত ও সাদমানের মোবাইলেও ওই ভিডিও পাওয়া যায়নি।

এ দিকে মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও রেইনট্রি হোটেলের অন্যতম পরিচালক মাহির হারুন এখনো বহাল তবিয়তে। অভিযোগ উঠেছে, হোটেলে অবস্থান করতে এবং ধর্ষণের আলামত নষ্ট করায় সহায়তা করেছেন মাহির বিন হারুন। ধর্ষিতা তরুণীদের একজন অভিযোগ করেছেন, ঘটনার রাতে সাফাতের জন্মদিন অনুষ্ঠানে কেক দিয়ে এসেছিলেন মাহির। তবে সেখানে বেশি ক্ষণ থাকেননি। অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যের ছেলে হওয়ায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদেরও প্রয়োজন মনে করছে না। তবে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, মাহিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই ভিডিও উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় আসামিদের সবাই ওই ভিডিও ডিলিট করে দিয়েছেন। মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেছেন, ভিডিওটি উদ্ধার এখনো সম্ভব হয়নি। তবে মোবাইলে ভিডিও করলে তা ডিলিট করলেও উদ্ধার সম্ভব। তদন্তকারীরা সেই চেষ্টা চালাচ্ছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫