ঢাকা, শুক্রবার,২৩ জুন ২০১৭

অপরাধ

যাত্রীর লাগেজ কেটে মুদ্রা চুরির অভিযোগে বিমানের ৬ কর্মী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ২১:৩৭


প্রিন্ট

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আসা এক যাত্রীর লাগেজ কেটে দেশী-বিদেশী মুদ্রা চুরির অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ছয়জন কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশে দিয়েছে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে এপ্রোন এলাকায় এঘটনা ঘটে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যার আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওসি নূরে আযমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে টেলিফোন কেটে দেন। ডিউটি অফিসার সাব ইন্সপেক্টর বিকাশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মামলা অনলাইনে হয়েছে। সার্ভারে সমস্যা থাকার কারণে কোনো তথ্য দিয়ে সাহায্য করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। গ্রেফতার হওয়া ছয়জনকে শনিবার আদালতে পাঠানো হবে।

বিমানবন্দর সুত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ছয়জন কর্মী হচ্ছেন- শামীম হাওলাদার, আবুল কালাম আজাদ, লাভলু মিয়া, মনিরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও আমিরুল ইসলাম।

তারা বিমানবন্দরে ক্যাজুয়াল শ্রমিক হিসাবে (ট্রাফিক হেলপার) কাজ করছিলেন।

সুত্র মোতাবেক বৃহস্পতিবার রাতে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট (এমএইচ-১৯৬) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর বিমানের কার্গো হোল্ডিং থেকে যাত্রীদের লাগেজ খালাসের কাজ শুরু করেন বিমানের ট্রাফিক বিভাগের হেলপাররা। এসময় এক যাত্রীর লাগেজ কেটে তারা কৌশলে মালয়েশিয়ান মুদ্রা ও বাংলাদেশী টাকা সরিয়ে ফেলেন। বিষয়টি কর্তব্যরত এপিবিএন সদস্যরা দেখতে পেয়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক হেলপারদের আটক করে তল্লাশি করেন। এসময় তাদের কাছ থেকে ৯শ’ মালয়েশিয়ান রিংগিত এবং ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। যা তাদের কাছে থাকার কথা নয়। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শুক্রবার সকালে ছয়জনকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়।

রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এএসপি জাহিদুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, এঘটনায় এপিবিএনের সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) নিয়ামুল হক বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে ভোররাতের কোনো এক সময়ে ওয়ানএক্স বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় চুরির ঘটনাটি ঘটেছে।

মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের কোনো এক যাত্রীর লাগেজ কেটে বিমানের ছয় ট্রাফিক হেলপার দেশী-বিদেশী মুদ্রা সরিয়েছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কর্তব্যরত এপিবিএন সদস্যরা কাটা লাগেজ দেখেননি। তবে বিমানের কর্মীদের গতিবিধি দেখে চ্যালেঞ্জ করেন। পরে তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকার নয়টি মালয়েশিয়ান রিংগিট ও বাংলাদেশী নয় হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করেন। পরে আটক বিমানের কর্মীরা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের যাত্রীর লাগেজ কেটে দেশী-বিদেশী মুদ্রা সরানোর কথা স্বীকার করেন।

ওই রাতে বিমানবন্দর থেকে একাধিক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে নয়া দিগন্তকে বলেন, এমনিতেই বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। এর মধ্যে যদি আবার বিমানের কর্মচারিরা সেবার নামে যাত্রীর লাগেজ কেটে মালামাল সরিয়ে ফেলেন এর চেয়ে লজ্জার ঘটনা আর কি হতে পারে? এটা শুধু বিমানের নয়, দেশেরও ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বিষয়টি বিমান কর্তৃপক্ষকে এখনই গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে বলে তারা মনে করছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫