ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৯ জুন ২০১৭

মতামত

বাঙালির জীবন-মরণের ফাঁদ তিস্তা বাঁধ

মো: সরোয়ার উদ্দিন

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ২০:১৭


প্রিন্ট

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমের রংপুর ও দিনাজপুর এ দু’টি জেলা দেশের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার তিস্তার উজানে বাঁধ নির্মাণের ফলে ভাটিতে অবস্থিত এ দুই জেলা গ্রীষ্মকালে সেচের অভাবে মরুভূমি এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানিতে বন্যায় সব ফসল নষ্ট হচ্ছে। উল্লিখিত সমস্যার সমাধানকল্পে গত মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে সফরকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বাধা হয়ে দাঁড়ান এবং তিনি (পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী) এর বিকল্প পথ খোঁজার পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারকে উল্লিখিত তিনটি বিকল্প সিদ্ধান্তের ভেতর যেকোনো একটি অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে।
১. তিস্তার পানির অধিকারে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় : তিস্তা নদীর উজানে (উত্তরে) হিমালয় পর্বত থেকে দক্ষিণে নেপাল, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দিনাজপুর ও রংপুর জেলা হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে বিধায় পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এ আন্তর্জাতিক নদীর পানির প্রবাহে কোনো রূপ বাধা সৃষ্টি না করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ (ভারত) ও বাংলাদেশ উভয়ই গ্রীষ্মকালে সেচসুবিধা গ্রহণ করতে পারে। অথবা
২. ডালিয়া প্রজেক্ট কার্যকর করা : ইতঃপূর্বে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত ডালিয়া প্রজেক্ট যথাযথভাবে সংস্কার ও কার্যকর করার মধ্য দিয়ে গ্রীষ্মে দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সেচ দেয়া সম্ভব। অথবা
৩. বিকল্প বাঁধ নির্মাণ : দিনাজপুর ও রংপুরের আবাদি জমিতে গ্রীষ্মকালে সেচ নিশ্চিত করার নিমিত্তে তিস্তা নদীতে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করা খুবই জরুরি। যদিও আন্তর্জাতিক বিধিবিধান লঙ্ঘন, তবুও এক লাখ ৫৫ হাজার ২৬ বর্গমাইল ক্ষুদ্রায়তন ও উন্নয়নশীল দেশে ১৭ কোটি এ বিশাল জনগোষ্ঠীর দুই বেলা খাবার নিশ্চিত করার জন্য এ শস্যভাণ্ডারকে কখনো মরুভূমিতে পরিণত হতে দেয়া যায় না। এ অবস্থায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্যই এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারকে সাহায্য ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবে- এ আশা দেশবাসীর।
লেখক : গবেষক ও কলেজশিক্ষক

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫