ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

বাকশালের চাপে ভূমিষ্ঠ বিএনপির খবর কী?

মিনা ফারাহ

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ২০:০১


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

একদলীয় শাসনের তাণ্ডবে ভূমিষ্ঠ, বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফের একদলীয় বানানো সত্ত্বেও পল্টনের চরম মৌনতায় জনমনে আতঙ্ক, বিএনপি কি ডেড? কাগজে-কলমে না হলেও বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আর্কিটেক্ট দলটি ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’, যে জন্য শতভাগ দায়ী একদলীয় শাসনের আর্কিটেক্ট আওয়ামী লীগ। এই সমীকরণে কোনো রকম ধানাই-পানাই নেই। জোট সরকার আমলে অজস্র সুযোগ সত্ত্বেও বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যাকারীদের বিচার না করে, নিজের পায়ে কুড়াল মারা হলো। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত কবরটিকে এতটাই ভয়, তুলে ফেলতে ঢাকা থেকে আমেরিকা পর্যন্ত লঙ্কাকাণ্ড করছে একদলীয় শাসনের উত্তরাধিকার। কারণ কবরটি যত দিন থাকবে, মানুষ মনে রাখবে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সে জন্যই বহুদলীয় গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে ফেলতে একদলীয় শাসনের চরম আচরণ।
শুরুতেই ক্যান্সার মোকাবেলার অজস্র সুযোগ ছিল, কিন্তু এখন কেমোথেরাপি দিলেও কাজ হবে না। রাজনৈতিক মাফিয়ারা আধা-সফল, ১/১১ দিয়ে ক্লিনিক্যালি মেরে ফেলেছে। এখন বিএনপির অবশিষ্ট শক্তি মাত্র ১৫ ভাগ। জিহ্বার কোনো লাগাম নেই, মুরব্বি বলেও ইজ্জত নেই। ঊর্ধ্বশ্বাসে গালিগালাজই একদলীয়দের একমাত্র সম্বল। তখন বহুদলীয় গণতন্ত্রের ইজ্জত লুটেছে, এখন ভিশন ২০৩০-এর লেজ ধরে টানছে। গালিগালাজের আগুনে গাছ পুড়ে গেলেও গরমটুকুও কেন অনুভব করে না পল্টন?
ন্যূনতম ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতার নিশ্চয়তা খণ্ডন করা হলো বলেই নির্বাচন বর্জন একমাত্র পথ। তা হলে দেশে-বিদেশে এ মেসেজটি যাবে, প্রথম সংসদ থেকেই একদলীয় শাসনের বাঘে ধরেছে দলটিকে। পরিস্থিতি এতটাই জঘন্য, প্রতি মাসেই হলমার্ক আর লতিফ সিদ্দিকীর ঘটনা ঘটলেও কিছুই হবে না। এসব লেখার উদ্দেশ্য, বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যাকারী গোপন তিন মাথার মুখোশ উন্মোচন।
১৫ বছর গৃহবন্দী সু চির সাথে খালেদার বিষয়টি মিলে গেলেও বহুদলীয় গণতন্ত্র উদ্ধারে পুঁজিবাদীদের ইন্টারেস্ট নেই, বরং ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে আবারো একদলীয় শাসনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ। কারণ একদলীয় শাসন ছাড়া পুঁজিবাদ অসম্ভব, যে দৃষ্টান্ত মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার খনিজসম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলো। নজিরবিহীন ইজারা আর গোপন চুক্তি এবং দায়মুক্তির ফ্যাসিজম...। ভারতকেন্দ্রিক উপনিবেশবাদীরা বাংলাদেশেও একই লুটপাটে লিপ্ত। স্বাধীনতার অর্থ এই নয়, পাকিস্তানের কাছ থেকে ক্ষমতা বুঝে না পেলেও পরে ভারতের শর্তেই ক্ষমতায় আসার বাধ্যবাধকতা। গণতন্ত্রকামীরা মনে করেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছেÑ দিল্লি, আওয়ামী লীগ এবং এরশাদের হাতে।
বিএনপি জন্মের একমাত্র কারণ বাকশালের তাণ্ডব। অন্যথায় তাদের শাসন চলতে পারত অনন্তকাল। ’৭২ থেকে ’৭৫, যে ধরনের রাষ্ট্র কায়েম, বহুদলীয় গণতন্ত্রের শুরুতেই গর্ভপাত। পরে বিএনপির বহুমুখী সাফল্য সত্ত্বেও একমাত্র প্রচারের অভাবেই সব সাফল্য উধাও। অন্য দিকে দুর্নীতির ‘খাওয়াভবন’ সৃষ্টিকারীদের, ফেইকনিউজ ব্যবহারের তাণ্ডব যেন ’৭৪-এর প্রত্যাবর্তন।
মানুষ দেখছে, বাকশালের শুরু ও শেষের প্রতিটি কর্মকাণ্ডই চেতনাবিরোধী। একদলীয় শাসনের জন্য শহীদদের আত্মদান হলে ’৭১-কে নিয়ে ভাবতে হবে। এভাবেই ধ্বংস হয়েছিল গণতন্ত্রের আর্কিটেকচার। অ্যান্থনি ম্যারকানহ্যাসকে দেয়া বিবিসির সাক্ষাৎকারে কিছু বিপথগামী অফিসারের বক্তব্য এখনো ইউটিউবে। তখন বয়স কম বলেই সাড়ে তিন বছরের লাল ঘোড়াকে গুরুত্ব দেইনি। আওয়ামী লীগের প্রধান সাফল্য, পশ্চিমা মিডিয়াকে দূরে রেখে, দেশের মিডিয়াগুলোর ওপর ক্রমাগত লাল ঘোড়া দাবড়ানো। অতিসাম্প্রতিককালে অ্যামনেস্টিকেও ভিসা না দিয়ে আবারো প্রমাণ করল, ৪৪ বছর পরও বাকস্বাধীনতার ওপর লাল ঘোড়ার তাণ্ডব বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশের ভিসা না পেয়ে, বাধ্য হয়ে ভারত থেকে রিপোর্ট প্রকাশ করা অ্যামনেস্টি, কী বার্তাটি দিয়ে গেল?

আওয়ামী লীগ যা পারছে, বহুদলীয় গণতন্ত্র থাকলে অসম্ভব। এই বিষয়গুলোকে আলোচনার টেবিলে তুলতে হবে। যেমন জিয়া হত্যার গোপন ষড়যন্ত্র। জিয়া হত্যা চক্রান্তের শুরুতেই সাফল্য। এই হত্যাকাণ্ডকে কখনোই লাইমলাইটে আসতে দেয়নি একদলীয়রা। দৃশ্যত এরশাদের অভ্যুত্থানের পেছনে যারা, বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যাকারীও তারা। প্রমাণ, হত্যাকাণ্ডের পরই জান্তার সংসদে বিরোধী দলে আবির্ভাব। ১৯৮২ থেকে ২০১৭, জান্তাকে কখনোই ত্যাগ করেনি বরং এক নাড়িতেই পেঁচিয়ে আছে। ’৮৬-এর সাথে ২০১৪-এর সংসদের পার্থক্য, তখন এরশাদ ক্ষমতায়, এখন বিরোধী দলে। স্বৈরাচারবিরোধী পাবলিক সেন্টিমেন্ট তুঙ্গে উঠলে ম্যাডাম জিয়ার আন্দোলনে যোগ দিতে বাধ্য হলো লীগ। ’৯০-এর আন্দোলনের সব কৃতিত্বই যার, তাকেই ‘আপসহীন নেত্রী’র পদবি। তিনি যদি জীবনে আর কিছু নাও করেন, ক্ষমতায় আর নাও যান, তার পরও সেই আন্দোলনের পুরস্কার বেঁচে থাকবে যুগযুগ। এ পদবি পয়সা দিয়ে কিনতে হয়নি, লবিও করতে হয়নি, পুরস্কারের বিলবোর্ড ছাপিয়ে মানুষ হাসাতে হয়নি।
এমন কোনো অপরাধ বাকি ছিল না, যা হয়নি তখন। গণতন্ত্র কায়েমে যাদেরকে সাথে নিলো, খাওয়াভবনের দুর্নীতিবাজরা দেশবাসীকে বুঝিয়েছেÑ ‘জামায়াত সন্ত্রাসী, কিন্তু জান্তা এরশাদ ভালো’। অথচ এ জান্তাই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে। পরে সেনাবাহিনীর মধ্যে ঢুকে, বিদেশের সহায়তায় ক্ষমতা দখল করে, শিশু গণতন্ত্রকে হত্যা। জিয়া হত্যার বিচারের নামে বহু মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়া হয়, যাদের বেশির ভাগই সাক্ষী। এই জান্তা যাদের সাথে দশম সংসদে, তারাই ’৮৬-এর বিরোধী দল। সুযোগ থাকতেও খুনিকে ফাঁসিতে না ঝুলিয়ে যে ভুল করল জোট সরকার, সেই সুযোগই নিলো তার প্রতিপক্ষ। ঢাকা-দিল্লির ষড়যন্ত্রে, দশম পার্লামেন্ট দাপিয়ে বেড়ানো অপরাধী আবারো বাইরের চক্রান্তে ভুয়া জোট বানিয়ে, ২০১৯-এর নির্বাচনটি ছিনতাইয়ে ব্যস্ত। সেক্টর কমান্ডারসহ বহু মুক্তিযোদ্ধার অধিকার থাকতে পারে কি?

জোট সরকারকে বরাবরই ঘৃণা করে সাউথ ব্লক, বরং সৌজন্যের পুরোটাই লোক দেখানো। অন্য দিকে ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন, সন্তানের মতো লালন-পালন। আজীবন ক্ষমতায় রাখতে তাকেই বেছে নেয়া। জোট সরকারকে রাজনীতি থেকে বিদায় করতেই যত ষড়যন্ত্র।
অথচ হাজার হাজার ভিন্নমতাবলম্বীকে মুক্তি দিয়ে ম্যান্ডেলার আগেই মুজিব বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ভিন্নমতের ওরাও দেশেই থাকবে। সুতরাং সমঝোতা করেই এগিয়ে যেতে হবে। তবে এখানেই সফল দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্যর্থ বাংলাদেশ। আমাদের পরে স্বাধীন হলেও ওদের কাছেই রেমিট্যান্সের জন্য হাত পাতি। শুরুতেই রাজনীতির কালচার পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে লীগ, অন্যথায় দশম পার্লামেন্টের চেহারা ’৭৫, ’৮৬-এর মতো হতো না। একদলীয় শাসনের মানসিকতা ত্যাগ না করলে এমনই হয়।
সুতরাং বিশেষ পরিবারের সাথে বিশেষ কারো সখ্য, জোট সরকারের জন্য অভিশাপ বলে প্রমাণিত। বিএনপিকে মৃত্যুশয্যায় পাঠিয়ে শরিকদের নির্মূল করেছে। চক্রান্ত লিখেছি সংক্ষিপ্ত আকারে কিন্তু ‘মাসুদ রানা সিরিজ’ লেখার দায়িত্ব বিএনপির। আজ অবধি ম্যাডাম জানতে চাননি, শরিক দলটিকে ধ্বংসের মূলে কে? সন্দেহাতীত বিচারের তথ্যপ্রমাণ কার হাতে? এমনকি বিএনপির শত্র“রাও একই প্রশ্ন তুলে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের কথাই বলছে।
ক্ষমতাসীনরাও জানে, ওরা যা করছে তারেকের বেলায়, সেটাই পারতেন জিয়া। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে শুধু রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা নয়, তার নেত্রীও দেশে ফিরিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় করার কৃতিত্ব তারই। এখানেই প্রমাণ, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিপক্ষ হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তারেককে আজীবন নির্বাসিত রাখতে যা করছে, তাতে ২০৪১ পেরিয়ে যাবে একদলীয় শাসন। মইন-ফখরুকে দিল্লিতে আপ্যায়ন, ১/১১ এবং ৫ জানুয়ারি ২০১৭-তে দিল্লি সফর। এসব কিছুর মাঝে রহস্য, সন্দেহ, আঁতাত। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে যারাই নিজেদের অর্থনীতি চাঙ্গা করছে, সেই কথিত উন্নতির পার্টনারদের বিরুদ্ধে এখনো নীরব বিএনপি? অথচ অর্থনীতির বেশির ভাগই আন্তর্জাতিক মাফিয়াদের দখলে।
’৭৪-এর মঙ্গার মধ্যে স্বর্ণের মুকুট পরিয়ে বিবাহ অনুষ্ঠান বনাম ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশীদের মৃত্যুমিছিলের মধ্যেই কক্সবাজারের এক ইঞ্চি পানিতে কারো চরণযুগলের ভাইরাল খবর! ’৭৪-এর মঙ্গার মতোই কেন গুরুত্ব পেল না একই দিনে প্রকাশিত লিবিয়া থেকে ইতালিগামী বাংলাদেশীদের মৃত্যুর খবর? এসবই বহুদলীয় গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিশাপ। এখান থেকে বের না হলে, ন্যূনতম ২০৪১ পর্যন্ত মানবিক দুর্যোগ বজায় থাকবে।

বিএনপির ভুলত্র“টি থাকলেও খাওয়াভবনের চেয়ে তুলনামূলকভাবে শিশু। আফ্রিকার সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম। ‘খাওয়া’ভবনের দুর্নীতির তালিকা এখনো করেনি বিএনপি...।
যে কথাগুলো বারবার মনে করিয়ে দেয়া উচিত ছিল : বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছিল বিএনপিই। ’৮৬ ও ২০১৪-এর ভুয়া নির্বাচন প্রত্যাখ্যান তারাই করেছে। ’৯৬-তে বাধ্যতামূলক নির্বাচনের মাত্র চার মাস পরই জাতীয় নির্বাচন দেয়া হলে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। ৩৩০ দিন আওয়ামী হরতালের রেকর্ড ভাঙতে পারেনি বিএনপি। বিচারহীনতার দৃষ্টান্ত কখনোই নয়। ’৯৬-এর জুনে জাতীয় নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করা, বাকশালের উত্তরাধিকার এরশাদ ও আওয়ামী লীগ।
অবৈধ ক্ষমতার পুরো টার্মই পূর্ণ হবে। আরো কয়েক টার্মের পাকা বন্দোবস্ত। ফলে বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফেরার সুযোগও শেষ। আশঙ্কা, শরিক দলের ভাগ্যবরণ করতে যাচ্ছে বিএনপিও। প্রশ্ন, এরশাদ ও আওয়ামী লীগ, ভোট ছাড়াই বারবার কিভাবে বছরের পর বছর ক্ষমতায় থাকে?
বিএনপির ক্ষমতা হারানোর ১০ বছর পূর্ণ হওয়া খুব খারাপ ব্যাপার। প্রতিরক্ষা সমঝোতা সইয়ের অন্যতম কারণ, নিজেদের প্রচণ্ড পতনের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করতে অভিযানে সম্মতি। কাদেররা বারবার আরেকটা ১৫ আগস্টের কথাই বলছিলেন। ফেব্র“য়ারির চুক্তির সারমর্ম, গণবিরোধী নিপীড়ক হলেও সরকারকে রক্ষা করবে ভিনদেশী সেনাবাহিনী।
যে কথাগুলো অস্বীকার করতে পারবে না, তা হলোÑ ক্ষমতায় এসেই নিজের ১৫টি মামলার মধ্যে ৯টি রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং ছয়টি হাইকোর্টকে দিয়ে খারিজ করিয়ে নেয়া। বিরোধী নেত্রীর বিরুদ্ধে একই মামলা জীবিত রেখে আদালতে টানাহেঁচড়ার অমানবিক দৃষ্টান্ত। মানসিক চাপে এক সন্তানকে হত্যা, অন্যজনকে নির্বাসন। একজন বৃদ্ধার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী আচরণ দেখেও নীরব মানুষগুলোর আত্মসমর্পণ এটি।
বিএনপি যদি গ্যাস বিক্রির দস্তখত দিয়ে ক্ষমতায় যায়, আওয়ামী লীগের বিক্রির মেনুতে কোন কোন আইটেম ছিল? বিডিআর বিদ্রোহের শুরুতেই প্রণবকে ফোনের বার্তা কী? গোপন চুক্তি ঘিরে রহস্য এবং জনমনে আতঙ্ক। ভারতীয় মিডিয়া বলছে, ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে দিল্লি। বিডিআর বিদ্রোহ শেষে, সীমান্তরক্ষীদের নাম ও পোশাক বদলে দেয়ার মধ্যে অশনিসঙ্কেত। সীমান্তে প্রতি মাসেই মানুষ খুন হওয়া সত্ত্বেও গণভবনের মুখে কুলুপ। আনন্দবাজারিরা বলছেন, প্রণবসহ অনেক রাজনীতিবিদেরই ব্যবসা রয়েছে বাংলাদেশে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রতি মাসে নিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার কোটি টাকা। আম্বানি ও রিলায়েন্সের মতো মাল্টিবিলিয়নিয়ার কোম্পানিগুলোকে পাইকারি হারে ইজারার সাথে, দায়মুক্তির উপহার। সর্বশেষ, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসাও নিয়ে গেল ভারত। এ দেশে প্রণবদের কী কী ব্যবসা আছে, জানার অধিকার আছে পাবলিকের। কিন্তু বিএনপির অদূরদর্শিতা বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার পথ করে দিতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ যে কত বড় অপরাধ, ট্রাম্পের নাভিশ্বাস তুলে ফেলেছে বিরোধী দল। নির্বাচিত সরকারের সমালোচনায় এমনকি ওয়াটারগেটেরও রেকর্র্ড ভাঙল মার্কিন মিডিয়া। ভাবছিলাম, ক্যাপিটলহিলটা বাংলাদেশে হলে, গদি হারানোর সম্ভাবনা থেকে বেঁচে যেতেন ট্রাম্প। অথচ আমাদের নির্বাচনকে গ্যাংরেপ, খুন, রাহাজানি, গানপাউডার দিয়ে পুড়িয়ে মেরেও নাকি বন্ধুরাষ্ট্র থাকা যায়।

পড়শির খুশি-অখুশির দিন শেষ। বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভয়ে সংসদকে শুধু হাইজ্যাকই নয়, গালিগালাজের যে কালচার সৃষ্টি হলো, প্রতিক্রিয়ায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা তুঙ্গে। মিডিয়ায় লীগের খবর বলতে শুধুই খুন-রাহাজানি-মাদক-ফেনসিডিল-চাপাতি-বন্দুক-ধর্ষণ...।
অপরাধপ্রবণতা থেকেই খালেদাকে ভয়। তার বক্তব্যকে ভয়। বহুদলীয় রাজনীতিকে ভয়। ভিশন ২০৩০-কে ভয়। ভয়ে নাড়িভুঁড়িও হজম হয়ে গেছে। ফলে ম্যাডাম কিছু বললেই ওবা. কাদেরদের খিস্তিখেউর, প্যারোডি, কমেডি, ব্যঙ্গ, ব্যান্ডসঙ্গীত...। ফলে সংসদে ও বাইরে রাজনীতির বদলে যাত্রাদলের দৃশ্যপট। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন বর্জন করে যেতেই হবে। বিরোধী দলে যাওয়ার ষড়যন্ত্রে পা দিলে, এরশাদের মতোই ঘৃণা পেতে হবে। ১৫ ভাগ শক্তিকে কাজে লাগাতে চাইলে ’৯০-এর মতোই আবারো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ভিশন ২০৩০-এর গর্ভপাত ঠেকাতে চাইলে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এমন প্রোগ্রাম বেছে নিতে হবে, এমন কিছু হাইলাইটস, যে জন্য একদলীয় শাসনকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে মানুষ।
কী ভাবছে পাবলিক? সোস্যাল মিডিয়ায় নির্বাসিত সুবচনের মন্তব্য, ‘জুনায়েদ আহমেদ পলকদের ডিজিটাল বাংলাদেশ মানেই হাতে হাতে সানি লিওন দেখতে পারার স্মার্টফোন। নেই সলিল সমাধি লাভ করা পিনাক শনাক্তের প্রযুক্তি, নেই রানা প্লাজার দেয়াল কাটার মেশিন। নেই তাজরীনের আগুন নেভানোর লম্বা মই, হাওরের জলে মেশা ইউরেনিয়াম শনাক্তের প্রযুক্তি, নেই শেল্য নদীর তেল অপসারণের মেশিন... কেবল একটা জিনিসই আছে, সেটি হলোÑ সানি লিওন আর বাহুবলী দেখতে স্মার্টফোন।’
ই-মেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫