ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

শিক্ষা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা নিয়োগ বিধিমালা হচ্ছে

খসড়া চূড়ান্ত করছে ইউজিসি : অনুমোদন পেলেই প্রজ্ঞাপন

আমানুর রহমান

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০৬:৩৫ | আপডেট: ১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০৬:৪২


প্রিন্ট

দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০০ ছুঁই ছুঁই করছে। অথচ এখানে মানসম্পন্ন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের কোনো বিধিমালা নেই। এ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের নিয়োগ ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে সম্পন্ন হয়ে থাকে। কোনো ধরনের নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করে না ওই বোর্ড। ফলে নিয়োগকৃতদের চাকরির নিশ্চয়তা যেমন নেই, তেমনি যোগ্য ও মানসম্পন্নদের নিয়োগ দেয়া হয় না মুনাফা লাভের বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিশ্চিত করা না গেলে কাক্সিত এবং মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রায় নিশ্চিত করার পর এবার মানসম্পন্ন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপারে তৎপরতা শুরু করতে যাচ্ছে উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও যোগ্যতাকে বাধ্যতামূলক করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে বিধিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে ইউজিসি। প্রতিটি স্তরে নিয়োগের বাধ্যতামূলক যোগ্যতা, নিয়োগের শর্ত, বেতন কাঠামো, পদোন্নতির স্তর বিন্যাসসহ সব কিছুই এতে সংযুক্ত করা হবে। এ ছাড়া অবসর সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের বিধানও থাকবে এতে। এরূপ একটি খসড়া নিয়ে ইউজিসি কাজ শুরু করেছে কিছুদিন থেকে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগের বিদ্যমান নীতিমালার আলোকেই এটি প্রণীত হচ্ছে। চলতি মাসেই এর খসড়ার একটি চূড়ান্ত রূপ দেয়া হবে বলে সূত্র জানান। এরপর প্রস্তাবিত খসড়াটিকে শিা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে পরে ইউজিসি বিধিমালাটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। জারিকৃত প্রজ্ঞাপনটি সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবশ্য পালনীয় হিসেবেই চিহ্নিত হবে। এর ফলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরতদের চাকরির নিশ্চয়তা যেমন হবে তেমনি মানসম্পন্ন শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলে মনে করছেন ইউজিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা। 
দেশে বর্তমানে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯৫টি। এর মধ্যে ৮৪টি এখন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সর্বশেষ অনুমোদনপ্রাপ্ত অবশিষ্টগুলো এখনো শিক্ষাকার্যক্রম নীতিমালার শর্তমত শুরু করতে পারেনি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ কালীন শিক্ষকের চেয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকের সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে। ইউজিসি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের সংগঠন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিইউওএবি) সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন মিলিয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ১৮ হাজারের মতো। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির কোনো ধরনের নিশ্চয়তা নেই। হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগপত্রও না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ডের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরই চাকরি নির্ভর করে। কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার এবং কর্মচারীর সংখ্যা আট হাজারের কাছাকাছি। কর্মচারীদের মধ্যে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর বেশির ভাগেরই দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, দেশের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন বাস্তবতা। এটাকে এগিয়ে নিতে সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপ এখন বাস্তবায়নের পথে। তারই অংশ হিসেবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা। এরই অংশ হিসেবে এখানে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগের একটি বিধিমালা থাকা বাঞ্ছনীয়। এর কাজ চলছে, দ্রুতই এটিকে চূড়ান্ত করা হবে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫