ঢাকা, শনিবার,২২ জুলাই ২০১৭

শেষের পাতা

এবার ভালোবাসার টানে থাই তরুণী নাটোরে

মো: শহীদুল হক সরকার নাটোর

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ভালোবাসার টানে থাইল্যান্ড থেকে এক তরুণী নাটোরে এসেছেন। নাটোরের আদালতে এই তরুণী এবং বাংলাদেশী যুবক অনিক খানের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। 
থাইল্যান্ড থেকে আগত তরুণী সুপুত্তো ওরফে ওম জানান, তাদের দেশে চালু বহু বিবাহের রীতি পচ্ছন্দ না হওয়ায় বিয়ে না করেই বসেছিলেন। ফেসবুকে হঠাৎ বাংলাদেশের অনিক খানের সাথে তার পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তা ভালোবাসায় রুপ নেয়। তাকে ভালোবেসে আর আস্থা রেখেই ওকে শুধু আপন করে নিতেই বার বার নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে ছুটে আসেন তিনি। এবার তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি এখন দারুণ খুশি। প্রেমিক অনিক খানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নাটোরের আদালত চত্বরে ইংরেজি ভাষায় এসব জানান সুপুত্তো ওরফে ওম। বুধবার বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি নাম ধারণ করেন সুফিয়া খাতুন। নওমুসলিম সুফিয়া খাতুন ওরফে ওম জানান, তার বাড়ি থাইল্যান্ডের চো-অম জেলার পিচচোবড়ি এলাকায়। বাবা উইছাই ও মা নট্টাফ্রন আলাদা থাকেন ভিন্ন ভিন্ন দেশে। তিনি পড়ালেখা শেষ করে প্রথমে ব্যাংকে চাকরি করতেন। এখন ফাস্টফুডের ব্যবসা করেন। বন্ধুবান্ধবরা সবাই বিয়ে করেছেন। তারা অনেকেই বহুবিবাহে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এটা তার ভালো না লাগায় এতদিন তিনি অবিবাহিতা থেকে গেছেন। দোকানে বসে ফেসবুক ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে বাংলাদেশের তরুণ অনিক খানকে বন্ধুত্বের প্রস্তাব পাঠান। অনিক প্রস্তাব গ্রহণ করলে তাদের মধ্যে চেনাজানা শুরু হয়। ফোনে কথাবার্তাও চলতে থাকে। তারা পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি বাবা-মার অনুমতি নিয়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে বন্ধুর টানে একবার ছুটে এসেছিলেন বাংলাদেশে। বিমানবন্দরে অনিককে দেখে তার আরো ভালো লাগে। অনিকের পরিবারের সাথে দেখা করে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রথমে অনিকের পরিবার আপত্তি করে। তবে অনিক ও তার পরিবারের সদস্যদের আদর আপ্যায়নে তিনি মুগ্ধ হন। মাত্র পাঁচ দিনের ভিসা নিয়ে আসায় সেবার তিনি তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে যান। আর যাওয়ার সময় বলে যান ছয় মাস পর আবার আসবেন; কিন্তু ছয় মাস অপেক্ষা করতে পারেননি ওম। এ মাসের প্রথম দিকে তিনি আবারো অনিকের কাছে ছুটে এসেছেন। বিয়ে করার জন্য অনিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে-পায়ে ধরেন। দিনের পর দিন কান্নাকাটি করেন। অনশন পর্যন্ত করেছেন। অবশেষে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে বুধবার তারা ইসলাম ধর্মীয় রীতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তার নাম সুফিয়া খাতুন। সুফিয়া বলেন, মানুষের জীবন একটা জীবন সঙ্গীও হবে একটা; কিন্তু তাদের সমাজে তা নেই। তিনি বিশ্বাস করেন অনিক তার জীবনে একমাত্র সঙ্গী হয়েই থাকবে। তাকে পেয়ে আমি দারুণ খুশি। নাটোর আদালত চত্বরে অনিক খান জানান, তার বাড়ি নাটোরের নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায়। পড়ালেখা তেমন একটা করেননি। তবে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারেন। সেখানে তার একটা মোবাইল ফোন মেরামতের দোকান রয়েছে। দোকানে বসে অলস সময় কাটাতে গিয়ে ফেসবুকে ওমের সাথে তার পরিচয় হয়। অনিকের বাবা আজাদ হোসেন বলেন, মেয়েটি খুবই ভালো। মাত্র ক’দিনে সে আমাদের আপন করে নিয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, শিক্ষিত না কিন্তু তাতেও ওর কষ্ট নেই। আমাদের ছেড়ে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভেবে সে সারাক্ষণ মন খারাপ করে ছিল। ওর জন্য এখন আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে।  

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫