ঢাকা, সোমবার,২১ আগস্ট ২০১৭

শেষের পাতা

প্রধানমন্ত্রী কাল সৌদি আরব যাচ্ছেন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের সফরে আগামীকাল সৌদি আরব যাচ্ছেন। এই সফরে তিনি রিয়াদে অনুষ্ঠেয় আরব-ইসলামিক-আমেরিকান সম্মেলনে অংশ নেবেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী মক্কায় ওমরা পালন ও মদিনায় হজরত মুহাম্মদ সা:-এর রওজা জিয়ারত করবেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী মুসলিম দেশগুলো মূলত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য। তবে এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্পও অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এটিই প্রথম বিদেশ সফর। 
ইরানের প্রভাব বলয়ের বিপক্ষে একটি সম্মিলিত অবস্থান গড়ে তোলার লক্ষ্যে সৌদি আরব এ জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল। ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হাউসি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় জোটের ভূমিকা প্রত্যাশা করেছিল সৌদি আরব। তবে শেষ পর্যন্ত গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর বাইরে ইয়েমেনে কেউ সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরের ওপর গতকাল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশ তথ্য ও গবেষণা দিয়ে সৌদি জোটকে সহায়তা দিতে আগ্রহী। এর বাইরে কেবল মক্কা ও মদিনা যদি হুমকিতে পড়ে বা আক্রান্ত হয়, তবে সৌদি আরবের অনুরোধে বাংলাদেশ সৈন্য পাঠাতে পারে। কেননা মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনায় অবস্থিত মসজিদে নববীর প্রতি বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভক্তি এবং ভালোবাসা রয়েছে।
সৌদি সামরিক জোটে গিয়ে বাংলাদেশের কী লাভ হবে? এর ফলে সৌদি-ইরান দ্বন্দ্বের মধ্যে বাংলাদেশ ঢুকে যাচ্ছে কি নাÑ জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রস্তাবিত জোট মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনতে সহায়ক হবে। ফিলিস্তিন-ইসরাইল বিরোধ নিরসনে এটি ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি। আর বাংলাদেশ সেটাই চায়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ যেভাবে বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে, তা মোকাবেলা করাই জোটের প্রধান ল্য। সে উদ্দেশ্যে ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ত্রে তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি বিভিন্ন দেশের মধ্যে যে হানাহানি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে যে যুদ্ধ-বিগ্রহ চলছে, তার শেষ হওয়া দরকার। জনগণ যাতে নিজেদের দেশে নিজেদের সামর্থ্য, চিন্তাভাবনা অনুযায়ী জীবনযাপন এবং বিকাশ সাধন করতে পারে, সে ল্েয আমাদের কাজ করা দরকার। বিষয়টিতে সেভাবেই দেখছি।
সৌদি জোটকে প্রিম্যাচিউর (অপরিপক্ক) হিসেবে আখ্যায়িত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটির নাম ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর কমব্যাটিং এক্সট্রিমিস্ট থটস’। এটি ক্রমবিকাশমান, এখনো লিখিত কিছু হয়নি। কাজেই এটা নিয়ে কোনো ধরনের অ্যাসেসমেন্ট করার সময় এখনো আসেনি।
লিখিত বক্তব্যে মাহমুদ আলী বলেন, ২১ মে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জিসিসিসহ আবর বিশ্ব ও অন্যান্য মুসলিম দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সাথে অংশ নেবেন। সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য হলো উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় নতুন অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, সহনশীলতা ও সহাবস্থান মূল্যবোধের প্রসার ঘটানো এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করা। সম্মেলনে আগামী দিনগুলোতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা এবং ফিলিস্তিন সংকটসহ ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্র জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থান এবং সন্ত্রাস দমনে সাম্প্রতিক সাফল্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখবেন। একই সাথে তিনি সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যৌথভাবে করণীয় বিভিন্ন প্রস্তাবনা উত্থাপন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সৌদি আবর সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের পাশাপাশি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫