ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৭ জুলাই ২০১৭

প্রথম পাতা

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী সাফাত ও সাকিফের

আদালত প্রতিবেদক

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
নাঈম আশরাফকে ডিবি কার্যালয় থেকে আদালতে নেয়া হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

নাঈম আশরাফকে ডিবি কার্যালয় থেকে আদালতে নেয়া হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পুলিশ পরিদর্শক ইসমত আরা এমি জবানবন্দী দেয়ার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করেন। আদালত আসামি সাফাতের জবানবন্দী রেকর্ড করার জন্য ঢাকার মহানগর হাকিম আহসান হাবিবকে দায়িত্ব দেন। অপর দিকে আসামি সাদমানের জবানবন্দী রেকর্ডের জন্য ছাব্বির ইয়াসির আহসান চৌধুরীকে দায়িত্ব দেন। আদালতদ্বয় তিন ঘণ্টা জবানবন্দী দেবে কি দেবে না সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য আসামিদের সময় দেন। তিন ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। আদালত তাদের জবানবন্দী রেকর্ড করেন। জবানবন্দী শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 
প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চপ্রন্ধুর সাথে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণী। ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম) ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভিকটিম। গতকাল প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে বলে জানান জিআরো এসআই আবদুল মান্নান। ছয় দিনের রিমান্ডের এক দিন বাকি থাকতে সাফাতকে এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সাদমানকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতে পুলিশের এসআই আবদুল মান্নান জানান, আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত জবানবন্দী দেয় মহানগর হাকিম আহসান হাবিবের কাছে। আর রেগনাম গ্রুপ ও পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান জবানবন্দী দেয় মহানগর হাকিম ছাব্বির ইয়াসির আহসান চৌধুরীর খাস কামরায়।
সাফাত ও তার বন্ধু সাদমানকে গত ১১ মে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। পর দিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সাফাতকে ছয় দিন এবং সাদমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান। এরপর ১৫ মে এ মামলার অপর দুই আসামি সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরী রহমত আলীকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালত বিল্লালকে চার দিন এবং রহমতকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান।
এ দিকে, নাঈম আশরাফকে গত বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকেও সাত দিনের রিমান্ডে পাঠান। 
এ দিকে গতকাল সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, রিমান্ডে চার আসামি অভিযোগ ‘অনেকটাই স্বীকার করেছে’ এবং তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
নারী নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের যে সংজ্ঞা দেয়া আছে সে অনুযায়ী অভিযোগের সমর্থনে প্রাথমিক কিছু তথ্য তারা জিজ্ঞাসাবাদে পেয়েছেন। অভিযোগকারী তরুণীদের দাবি, সেদিন রেইনট্রি হোটেলে নাঈম ও সাফাত ধর্ষণের পাশাপাশি তাদের নির্যাতনও করে। পা ধরে নিস্তার চাইলেও তারা ছাড়া পাননি।
সাফাত আহমেদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের চিত্র পাওয়া যায় তার সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার বক্তব্যে। তার ভাষ্য, ইয়াবা আসক্ত সাফাত ও তার বন্ধুরা বনানীর এক রেস্তোরাঁয় নিয়মিত নেশার আসর বসাত। ওই হোটেলের ‘যেকোনো ওয়েটারকে জিজ্ঞাসা করলে’ তাদের কর্মকাণ্ডের বিবরণ পাওয়া যাবে।
ধর্ষণের ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রস্থল বনানীর রেইনট্রি হোটেলের মালিক ঝালকাঠির সরকারদলীয় সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন ও তার সন্তানেরা। হারুনের ছেলেদের মধ্যে এইচ এম আদনান হারুন আছেন ওই হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে। তবে দেখাশোনা করেন মূলত তার ভাই মাহির হারুন। মাহিরের বন্ধু পরিচয় দিয়েই ধর্ষণের ঘটনার দিন সাফাত ওই হোটেলে উঠেছিল বলে হোটেলকর্মীরা পুলিশকে জানায়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫