ঢাকা, শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭

প্রথম পাতা

অ্যাটর্নি জেনারেলকে কটুবাক্যে ড. কামালের দুঃখ প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির এজলাসে একটি মামলার আপিল শুনানিকালে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ করে কটুবাক্য উচ্চারণ করেছেন প্রবীণ আইনবিদ ও অন্যতম সংবিধানপ্রণেতা ড. কামাল হোসেন। আদালতে শুনানিকালে ড. কামাল হোসেন অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘শাট আপ, ...। ইউ টেক ইউর সিট।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩৮ জন চিকিৎসকের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে এক মামলার শুনানিতে বুধবার এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, আদালতে যা ঘটেছে সব সত্য। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো মামলা করতে এসে বাবা-মা নিয়ে গালি খেতে হয়েছে। এ ঘটনায় আমি খুবই মর্মাহত। যদিও আদালতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু তার পরও আমার ক্ষোভ প্রশমন হচ্ছে না। 
আদালতে চিকিৎসকদের পে শুনানি করেন প্রবীণ আইনবিদ ড. কামাল হোসেন, এম আমীর উল ইসলাম ও কামরুল হক সিদ্দিকী। সাথে ছিলেন আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া ও তানিম হোসেইন শাওন।
অন্য দিকে বিএসএমএমইউর পে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আইনজীবী তানজিব উল আলম।
মাহবুবে আলম বক্তব্য উপস্থাপনের পর আদালত ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য জানতে চান।
ড. কামাল হোসেন তখন বলেন, বিএসএমএমইউর সিন্ডিকেটে একসময় এসব ডাক্তারের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এখন তারা সেই সিন্ডিকেটের বিপে স্ট্যান্ড নিচ্ছে। এগুলো হলো ইন্টেলেকচুয়াল প্রস্টিটিউশন।
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল দাঁড়িয়ে এ ধরনের শব্দ চয়নে আপত্তি জানান। তখন তাকে উদ্দেশ্য করে কামাল হোসেন বলেন, শাট আপ, ...। ইউ টেক ইউর সিট।
প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ইউ ক্যান নট আটার দিজ ওয়ার্ড।
এ সময় প্রধান বিচারপতির হস্তেেপ ড. কামাল হোসেন তার আসনে বসে পড়েন।
ওই সময় প্রধান বিচারপতি ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি একজন সিনিয়র আইনজীবী, এ ধরনের শব্দ চয়ন ঠিক না।
তখন অ্যাটর্নি জেনারেল প্রধান বিচারপতিকে বলেন, আপনি তো উনাকে তোষামোদ করলেন। একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট যেভাবে আমাকে গালি দিলেন, এটার কী হবে?
এ পর্যায়ে আদালত বিরতিতে যায়। ফের আদালত বসার পর ড. কামাল হোসেন এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে মা চান।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ১৮ অক্টোবর চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় বিএসএমএমইউ কর্তৃপ। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েক শ’ চিকিৎসককে নিয়োগ দেয়া হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সলান। ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা লিভ টু আপিল আবেদন করেন। এতে আপিল বিভাগ গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তা খারিজ করে হাইকোর্টে রায় বহাল রাখেন।
এরপর ওই খারিজের আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য ১১০ জন চিকিৎসক আবার আবেদন করেন। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ তা গ্রহণ করে আপিল করার অনুমতি দেন। এরপর ১৩৮ জন চিকিৎসক পৃথক পাঁচটি আপিল আবেদন দায়ের করেন, ওই আবেদনের ওপর বুধবার শুনানি শেষে আগামী রোববার রায়ে দিন ধার্য করা হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫