ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৭ আগস্ট ২০১৭

নগর মহানগর

যশোরে অনিশ্চয়তায় টিসিবির পণ্যবিক্রি কার্যক্রম

পণ্য উত্তোলনে আগ্রহী নন ডিলাররা

যশোর অফিস

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
রমজানের আগে যশোরে ন্যায্য মূল্যের টিসিবির পণ্য বিক্রি অনিশ্চিতার মুখে পড়েছে। জেলার ৮৪ জন ডিলারের বেশির ভাগই এখনো পণ্য উত্তোলন করেননি। এমনকি জেলা প্রশাসনের আহ্বান করা টিসিবির পণ্য বিক্রিসংক্রান্ত বৈঠকে বেশির ভাগ ডিলার হাজির হননি। ফলে রমজানে যশোরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসন বলছে, যারা পণ্য উত্তোলন করবে না তাদের ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।
জানা যায়, রমজান ও ঈদের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি করে। এ জন্য এবার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ছোলা ৭০ টাকা, চিনি ৫৫ টাকা, ডাল ৮০ টাকা এবং প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা করে। একজন ডিলার প্রতিদিন ৩০০ কেজি করে চিনি, ছোলা, ডাল এবং ২০০ লিটার সয়াবিন তেল উত্তোলন করতে পারবেন। গত ১৫ মে থেকে ডিলারদের এই পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু করার কথা। তবে এখনো পর্যন্ত যশোর সদর উপজেলায় মাত্র দু’জন ডিলার পণ্য উত্তোলন করেছেন। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যশোরে টিসিবির ন্যায্য মূল্যের পণ্য বিক্রির জন্য ৮৪ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যশোর সদর উপজেলায় ৩০ জন, কেশবপুরে ১৭ জন, মনিরামপুরে ১৪ জন, অভনগরে ১১ জন, ঝিকরগাছায় পাঁচ জন, চৌগাছা ও বাঘারপাড়ায় তিনজন করে এবং শার্শা উপজেলায় একজন ডিলার রয়েছেন। কিন্তু এসব ডিলারের মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় মাত্র দু’জন ডিলার পণ্য উত্তোলন করেছেন। পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরুর তিন দিন পরেও এখনো বাকি ডিলাররা কোনো পণ্য উত্তোলন করেননি। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে যশোরে খোলা বাজারে টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রম।
যশোরে পণ্য উত্তোলনকারী একজন ডিলার রাসেল সরদার বলেন, আমি নির্ধারিত সময়ে পণ্য বিক্রি শুরু করেছি। তবে আমাদের খুলনা থেকে পণ্য উত্তোলন করতে হয়, যা সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ। যদি যশোরে টিসিবির হিমাগার থাকত তাহলে সহজে পণ্য উত্তোলন করা সম্ভব হতো।
একাধিক ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিভিন্ন কারণে তারা টিসিবির পণ্য উত্তোলন করতে নিরুসাহিত হন। তাদের খুলনা থেকে পণ্য উত্তোলন করতে হয়। এ ছাড়া একবারে দুই থেকে তিন দিনের বরাদ্দের বেশি পণ্য উত্তোলন করা যায়  না। সেই পণ্য বিক্রি শেষ করে আবার খুলনায় পণ্য উত্তোলন করতে যেতে হয়। ফলে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে। এতে তাদের লাভ হয় না। এ জন্য তারা টিসিবির পণ্য উত্তোলনে আগ্রহী নন।
এ দিকে, গত বুধবার যশোর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য একটি সভা আহ্বান করেন জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর। ওই বৈঠকে যশোর সদর উপজেলার ৩০ জন ডিলারের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ছিলেন মাত্র ছয়জন।
 এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, টিসিবির কার্যক্রম নিয়ে আমরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। গত বছর কারা কারা পণ্য উত্তোলন করেছেন আর কারা করেননি তা জানি না।
এবার আমরা খুলনা টিসিবি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়ে পণ্য উত্তোলন না করাদের তালিকা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। যশোর সদর উপজেলার যেসব ডিলার আজকের সভায় উপস্থিত হননি তাদের ডিলারশিপ বাতিলসংক্রাত একটি চিঠি আগামী সপ্তাহে দেয়া হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫