ঢাকা, সোমবার,২৯ মে ২০১৭

নগর মহানগর

হাওরাঞ্চলে ফেয়ার প্রাইস বন্ধ উৎকণ্ঠায় হাজারো পরিবার

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ১০ টাকা কেজি (ফেয়ার প্রাইস) চাল বিক্রি করা বন্ধ হওয়ায় হতাশায় ভুগছে হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। বেশির ভাগ অতিদরিদ্র পরিবার এই কর্মসূচির সুফল পেয়েছিল। ফেয়ার প্রাইস পাওয়া এসব পরিবার সরকার ঘোষিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে চাল ও টাকা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ওএমএসের চালও সঠিকভাবে পাচ্ছেন না ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসী। সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন অনেকেই। দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যায় চাল বিতরণ। 
জানা যায়, জেলার ৯১ হাজার ৫৯০টি পরিবার ১০ টাকা কেজি (ফেয়ার প্রাইস) চাল ক্রয় করে চলছিল। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল এই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। ১৯ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার কাছে জেলার সব সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালকসহ উপস্থিত সবাই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু রেখে আরো এক লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। আশ্বাসও দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী। 
এরপর জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সুনামগঞ্জের জন্য নিয়মিত রাখা ও কার্ডের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পৃথকভাবে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতরে চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু এক মাস পার হলেও এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সুনামগঞ্জের ৯১ হাজার ৫৯০টি পরিবার গত বছরের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে ১০ টাকা কেজির ৩০ কেজি করে চাল কেনার সুযোগ  পায়। কিন্তু বন্যায় বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর ৩০ এপ্রিল এই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। 
বর্তমানে জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তিন লক্ষাধিক পরিবারের মধ্যে এক লাখ ৫০ হাজার পরিবারকে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ৩৮ কেজি চাল ও নগদ ৫০০ টাকা দেয়া হচ্ছে। ফেয়ার প্রাইজ পাওয়া ওই সব পরিবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ভিজিএফের চাল ও নগদ টাকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। তাহিরপুর উপজেলার আক্তার মিয়া, আলীম উদ্দিন, জয়নাল মিয়া, নজিন উদ্দিনসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন জানান, ১০ টাকা কেজি ধরে চাল পাওয়ায় আমরা আর কোনো সুযোগ পাই না। এখন ১০ টাকা কেজি চাল বন্ধ হয়ে গেছে এখন কিভাবে চলব? আমরা ভিজিএফ কার্ড দেয়ার দাবি জানাই।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে আবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু হবে। এটি বছরের দু’টি সময়ে পাঁচ মাসের জন্য চালু হয়েছিল। গত এপ্রিলে দ্বিতীয় প্যাকেজ শেষ হয়েছে। এখন আপাতত বন্ধ থাকবে। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জানান, ১০ টাকা কেজি চাল ক্রয়ের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় আমরা খুবেই বিপদের মধ্যে আছি। দ্রুত চালু হলে ক্ষতিগ্রস্তরা উপকৃত হবে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, হাওরবাসীর সুবিধার্থে ভিজিএফ কার্ড বাড়ানোর দাবি জানাই। যারা ফেয়ার প্রাইজ সুবিধা পেয়েছিল তারা এখন হতাশায় ভুগছে। সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভিজিএফ কার্ড বাড়ালে সবাই উপকৃত হবে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ফেয়ার প্রাইস একবারেই বন্ধ হয়ে যায়নি, আবার চালু হবে। এ ছাড়া এখন ওএমএস চালু আছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, জেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নিয়মিত রাখা ও কার্ডের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করেছিলাম, এখনো কোনো চিঠি পাইনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫