ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

নগর মহানগর

চিকুনগুনিয়া হলে অনেক পা ও হাতের জোড়ায় ব্যথা থাকে : ওষুধ হিসেবে শুধু প্যারাসিটামল

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে পায়ের ব্যথা কয়েক মাস থাকে। ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস প্রজাতির ইজিপ্টাই ও অ্যালবুপিক্টাসের কামড়ে রোগটি ছড়ায়। সময়টা চিকুনগুনিয়ার না হলেও বর্ষা আগেভাগে চলে আসার কারণে চিকুনগুনিয়ার আক্রমণ বেড়েছ্।ে একই সাথে ডেঙ্গু, টাইফয়েড ও ইনফুয়েঞ্জায়ও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। 
গতকাল মহাখালীর রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) সাংবাদিকদের চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুবিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালায় চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে করণীয় ও সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিরজাদী সেবরিনা ফোরা, রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ। 
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, চিকুনগুনিয়া জ্বর হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে রোগীদের নিরুৎসাহিত করতে চায়। কারণ ভাইরাল জ্বর বলে প্যারাসিটামল ছাড়া এর বিরুদ্ধে অন্য কোনো ওষুধ প্রয়োগ করা যায় না। চার-পাঁচ দিন পর এমনিতেই সুস্থ হয়ে যায়। তবে চিকিৎসকদের অথবা সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে ডেঙ্গু হয়েছে কি না। ডেঙ্গু হলে সতর্কতার সাথে চিকিৎসা করতে হবে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার লক্ষ্মণের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকে। ডেঙ্গু হলে র‌্যাশ হবে, পেশিতে ব্যথা হবে, রক্তের প্লাটিলেট কমে যাবে অথবা প্লাজমা সেল লিকেজ হয়ে রোগী শকে মারা যেতে পারে। কিন্তু চিকুনগুনিয়া হলে প্লাটিলেট কমে না, পায়ে র‌্যাশ হয়।  চিকুনগুনিয়া হলে ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি জ্বর হয়। ডেঙ্গুজ্বরেরর মতো চিকুনগুনিয়ায় প্লাটিলেট (রক্তের সাদা অংশ) কমে না। জ্বর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২১ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে জানানো হয়, চিকুনগুনিয়া হলে কেউ মারা যায় না। কিন্তু হাত ও পায়ের গিঁটে ব্যথা হয় এবং এটা দীর্ঘ দিন থাকতে পারে। জ্বর হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ যেমন অ্যান্টিবায়োটিক অথবা স্টেরওয়েড দেয়া যাবে না। ২১ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর সব ধরনের ওষুধই দেয়া যাবে। গিঁটে ব্যথার ওষুধ হিসেবে চিকিৎসকেরা অন্যান্য ওষুধ দিতে পারবেন। 
এতে বলা হয়, চিকুনগুনিয়া ঢাকায় হাতিরপুল, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান ও রামপুরা এলাকার মানুষকে আক্রান্ত করছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে পাওয়া গেছে জানানো হলেও সেখান থেকে আইইডিসিআরে রক্তের কোনো নমুনা পাঠানো হয়নি। 
আইইডিসিআর’র পরিচালক জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন স্থান থেকে সন্দেহ করে পাঠানো চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত মানুষের ১৩৯টি রক্তের নমুনা পরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে ৮৬টি নমুনায় চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়েছে অর্থাৎ ৬০ শতাংশ নমুনায় চিকুনগুনিয়া পজিটিভ পাওয়া গেছে। 
অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, চিকুনগুনিয়া বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলায় কর্মরত চিকিৎসকদের অবহিত করা হয়েছে। তাদের একটি গাইডলাইনও পাঠানো হয়েছে। 
চিকুনগুনিয়া একটি তাঞ্জানিয়ান শব্দ। তাঞ্জানিয়ায় জ্বরটি হলে মানুষ গিঁটে ব্যথায় সামনের দিকে নুয়ে পড়ত। তাঞ্জানিয়ান ভাষায় সামনের দিকে নুয়ে পড়াকে চিকুনগুনিয়া বলে। এ নাম থেকেই এ জ্বরের নাম দেয়া হয়েছে চিকুনগুনিয়া। বাংলাদেশেও এ জ্বরে আক্রান্তরা জয়েন্টে ব্যথার কারণে সোজা হয়ে হাঁটতে পারে না, ফলে সামনের দিকে নুয়ে হাঁটতে হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫