ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৯ জুন ২০১৭

নগর মহানগর

ঢাবির সেমিনারে বক্তারা

ফারসি ভাষাকে জীবন্ত করেছেন ফেরদৌসি

বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
ঢাবির কলা ভবনে ফারসি ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব উদ্বোধন করছেন প্রো-ভিসি ড. মো: আখতারুজ্জামান ও ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজি দেহনাভী : নয়া দিগন্ত

ঢাবির কলা ভবনে ফারসি ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব উদ্বোধন করছেন প্রো-ভিসি ড. মো: আখতারুজ্জামান ও ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজি দেহনাভী : নয়া দিগন্ত

মহাকবি ফেরদৌসি এমন একজন কবি যিনি ফারসি ভাষাকে জীবন্ত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। ফেরদৌসি তার অমর সৃষ্টি শাহনামার মাধ্যমে ফারসি ভাষাকে বিশে^র কাছে সুপরিচিত করে এই ভাষাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন বলে মন্তব্য করেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ফারসি ভাষার মর্যাদা সমুন্নত দিবস  উপলক্ষে মহাকবি ফেরদৌসি স্মরণে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। ঢাকার ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ঢাবির ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাবির প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো: দেলোয়ার হোসাইন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা দেন ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাউন্সেলর সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফেরদৌসি তার রচনার মাধ্যমে মানুষের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করেছেন। আর এ ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন কিংবদন্তি ও সমসাময়িক বিষয়কে অবলম্বন করেছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আজ ফারসি ভাষার সুরক্ষা ও উচ্চমর্যাদায় সমাসীন হওয়ার দিন। যারা ইরানি সাহিত্যের ইতিহাসের  সাথে পরিচিত তারা ভালোভাবেই জানেন যে ফারসি ভাষার সংরক্ষক হিসেবে যার নাম উচ্চারণ না করলে এই ভাষাকে সমৃদ্ধ করার মূল কারিগরকেই অস্বীকার করা হবে তিনি হলেন হাকিম আবুল কাসেম ফেরদৌসি।
তারা বলেন, হাজার বছরেরও বেশি সময় আগেই ইরানি জাতি ফেরদৌসির মতো এক মহাকবির সান্নিধ্য পেয়েছিল। তারও কয়েক শতাব্দী পর হাফিজ, সাদি, আত্তার, খৈয়াম ও রুমির মতো আরো অনেক কবি-সাহিত্যিকের আগমন ফারসি ভাষা ও সাহিত্যকে অধিক সমৃদ্ধ করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, মহাকবি ফেরদৌসির শাহনামার মতো কোনো কবি কর্তৃক এত বড় রচনা বিশ্বে দ্বিতীয়টি আর নেই। এই অমর গ্রন্থ ৩৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এতেই বোঝা যায় ফেরদৌসির এ কর্মের মূল্য কত বেশি।
ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী বলেন, মহাকবি ফেরদৌসি একজন মহাপণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, দর্শন প্রভৃতি বিষয়ে তিনি অগাধপাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাবির কলা ভবনে অবস্থিত হাফিজ প্রাঙ্গণে ফারসি ল্যাংগুয়েজ ল্যাব উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান ও ঢাকার ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী।
অনুষ্ঠানে অ্যাকাডেমিক সেশনে ঢাবির ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক ড. কুলসুম আবুল বাশার মজুমদারের সভাপতিত্বে ইরানের জাতীয় কবি ফেরদৌসির জীবন ও সাহিত্য কর্ম, বাংলাদেশে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রকাশনা ক্ষেত্রে অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক আবু মূসা মো: আরিফ বিল্লাহ, ড. মো: কামাল উদ্দীন, ড. মো: আবুল হাশেম ও গবেষক আবদুল কুদ্দুস বাদশা।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫