ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৯ জুন ২০১৭

নগর মহানগর

মহামায়া প্রকল্প আধুনিকায়নে নেয়া হচ্ছে মহা প্রকল্প

ব্যয় হবে ২৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
মিরসরাইয়ে মহামায়া বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে পর্যটকের ভিড় : নয়া দিগন্ত

মিরসরাইয়ে মহামায়া বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে পর্যটকের ভিড় : নয়া দিগন্ত

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মহামায়া সেচ প্রকল্প ও বোটানিক্যাল গার্ডেন ইকোপার্ক এলাকাকে আধুনিক পর্যটন জোন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের কর্মকর্তারা।
তারা জানিয়েছেন, ২০১০ সালে মহামায়া সেচ প্রকল্প বাস্তাবায়নের পর ওই এলাকায় পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা দেখা দেয়। সেখানে বনবিভাগের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক। বর্তমানে পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের গোবানীয়া, জোরারগঞ্জ ও হিঙ্গুলী বিটের এ এলাকাটি। সরকার এখানকার পর্যটন সুবিধা কাজে লাগিয়ে নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারের বৃহৎ এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন সংরক্ষক (ডিএফও) আ ন ম আবদুল ওয়াদুদ জানান, ‘মহামায়াকে আধুনিক পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রথমে ২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এর পরপর সরকারের তিনজন মন্ত্রী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে আরো কিছু কাজের পরামর্শ দেন। সে হিসেবে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সংশোধন করে ২৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন  হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। বিকশিত হবে ইকো-ট্যুরিজম খাত। রক্ষা হবে জীববৈচিত্র্য, পুনরুদ্ধার হবে প্রতিবেশ।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ওই প্রকল্পের মাধ্যমে মহামায়াকে নতুন রূপে গড়ে তোলা হবে। এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ের সংযোগে স্থাপন করা হবে ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে দুই দ্’ুটি ঝুলন্ত সেতু, প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হবে তিনতলা বিশিষ্ট পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ৭০০ মিটার দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর, ২০০ মিটার অভ্যন্তরীণ পাহাড়ি সড়ক, চারটি পিকনিক স্পট, কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র, পর্যটকদের জন্য শেড নির্মাণ ও খাবার পানি সরবরাহ, সংস্কার করা হবে প্রাকৃতিক ঝর্ণাগুলো, পর্যটকদের জন্য লেকের পানিতে থাকবে পরিবেশবান্ধব নৌকা, নির্মাণ করা হবে জলজ পক্ষিশালা, বাস্তবায়ন করা হবে ৫০ হেক্টর শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষের বনায়ন, ২০০ হেক্টর দেশীয় প্রজাতির ফলদ বৃক্ষের বনায়ন, ৫০ হেক্টর ওষধি বৃক্ষের বনায়ন ও ২০০ হেক্টর এলাকায় বিলুপ্ত দেশীয় প্রজাতির বনায়ন। এ ছাড়া দেশী-বিদেশী পর্যটকদের জন্য ট্যুরিজমের নানা সুবিধা স্থাপনে ছোট ছোট নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রস্তাবিত ওই প্রকল্পে। 
প্রথম দফায় প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর চলতি বছরের ৩০ মার্চ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তারা নৌকায় ঘুরে দেখেন ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মহামায়া লেক। তারা মহামায়ার উন্নয়নে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দেন। পরে গত এপ্রিল মাসে প্রকল্পের আওতা আরো বর্ধিত করে ২৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ের মিরসরাইয়ের ঠাকুরদীঘি বাজার থেকে পৌনে এক কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত মহামায়া সেচ প্রকল্প। ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর এটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর থেকে এ প্রকল্পের সুবাদে উপজেলার ১২০০ হেক্টর অনাবাদি জমি সেচের আওতায় আসে। পরে বনবিভাগ এটিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক হিসেবে ঘোষণা দেয়। এরপর কিছু কিছু উন্নয়ন কাজও হাতে নেয় সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ২০১৪ সালে এটি ইজারা দেয়া হয়। বর্তমানে আহসান ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান এটি ইজারা নিয়ে কাজ করছেন। 
প্রস্তাবিত প্রকল্পে যা থাকছে
২৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার এ প্রকল্পের আওতায় মহামায়াকে নতুন আদলে গড়ে তোলা হবে। দুই হাজার একর বনভূমি ঘিরে তৈরি এ পর্যটন এলাকায় সংরক্ষণ করা হবে উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ৩০টির মতো উন্নয়ন খাত। এসবের মধ্যে বিস্তারিত মহাপরিকল্পনাসহ পার্কের প্রাকৃতিক বিবরণ সংক্রান্ত ডিজিটাল জরিপ, দু®প্র্রাপ্য ও বিপদাপন্ন দেশীয় প্রজাতির দীর্ঘমেয়াদি ৩০০ হেক্টর নতুন বনায়ন, দেশীয় প্রজাতির ৩০০ হেক্টর ফলদ বৃক্ষের বনায়ন, ওষুধি বৃক্ষের ৫০ হেক্টর, গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য পাঁচ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, পার্কিং এলাকার উন্নয়ন, আবাসিক ফাংশানাল ভবন নির্মাণ, নিরাপত্তার জন্য ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে দুই দু’টি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ, পাহাড়ে আরসিসি সিঁড়ি ও প্লাটফর্ম নির্মাণ, তিনতলা বিশিষ্ট পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ, একটি করে পিকনিক শপ ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, চারটি পিকনিক স্পট, কচ্ছপ প্রজনন ও জলজ পক্ষিশালা স্থাপন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পার্কের বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন স্থাপন, পর্যটকদের জন্য শৌচাগার এবং ওয়াশরুম নির্মাণ, পর্যটকদের জন্য পার্কের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হবে আরসিসি বেঞ্চ, পার্কের ভেতরে ২০০ মিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক ও পায়ে চলাচলের জন্য দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ, গভীর নলকূপ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ ও ৩০০ মিটার গাইডওয়াল নির্মাণ প্রকল্প। 
মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মহামায়া নিয়ে আমার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি বন ও পরিবেশ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রীকে নিয়ে আমি মহামায়া এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রী বাস্তব অবস্থা দেখেছেন। আমিও আমার পরিকল্পনা তাদের দিয়েছি। নতুন যে প্রকল্প সেটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটকেরা বেশ সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পাহাড়ের জীববৈচিত্র রক্ষা হবে।’

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫