ঢাকা, সোমবার,২৯ মে ২০১৭

নগর মহানগর

ফসলহানি নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী মিথ্যাচার করছেন

আশপাশের লোকদের সম্পর্কে সতর্ক থাকুন : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার আশপাশের লোকদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লাভ নেই, আপনার আশপাশের লোকদের সম্পর্কেই সতর্ক থাকুন। যে গণতন্ত্রকে বন্দী করেছেন সেটিকে মুক্ত করুন, মানুষের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিন, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন, আবারো একদলীয় নির্বাচনের বাসনা পরিত্যাগ করুন, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। হিংসাপরায়ণ রাজনীতি পরিহার করুন, মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য, কদর্য ও কুৎসিত রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখুন। গণতন্ত্রের  ধারা সচল থাকলে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারে না। গতকাল সকালে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব বলেন। এ ছাড়া হাওরাঞ্চলের ফসলহানি নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ডাহা মিথ্যাচার করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের জন্য দলের ভেতরের মানুষদের ষড়যন্ত্রকেই দায়ী করে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে তার ‘কিছুটা সত্য উপলব্ধি’ হয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলে সরকারপ্রধান যে বক্তব্য রেখেছেন সেখানে কিছুটা উপলব্ধি থাকলেও বেশির ভাগই হচ্ছে তার স্বভাবসুলভ এবং অনর্গল মিথ্যাচারের পুনরাবৃত্তি। তিনি কিছুটা হলেও উপলব্ধি করেছেন যে, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সাথে আওয়ামী লীগের নেতারাও ছিলেন। আমি বলব, অন্যদের দিকে অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই, আপনার আশপাশের লোকদের সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। 
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রাখতে চাইÑ যারা আপনার বাবার রক্ত ডিঙিয়ে শপথ নিয়েছেন এবং সেই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন, তারা ১৯৮১ সালের ১৭ মে থেকে কী করে আপনার অধীনে রাজনীতি করলেন, এমপি হলেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা হলেন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেন? আপনি কী করে এইচ টি ইমামকে সহ্য করছেন, মন্ত্রী পদমর্যাদায় আপনার উপদেষ্টা বানিয়েছেন। ওই সময়ের সেনাপ্রধান ছিলেন জেনারেল শফিউল্লাহ (এ কে এম শফিউল্লাহ), যার কাছে আপনার বাবা রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহায্য চেয়েছিলেন, তখন শফিউল্লাহ সাহেব আপনার পিতাকে প্রাচীর টপকিয়ে পালিয়ে যেতে বলেছিলেন, গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে রা করা যার দায়িত্ব ছিল, তিনি কি না কাপুরুষোচিত পরামর্শ দিলেন রাষ্ট্রপতিকে। সেই ব্যক্তিকে আপনি আপনার দলের টিকিটে এমপি ও একটি সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরপর তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পিকার আবদুল মালেক উকিলের লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে দেয়া ‘ফেরাউনের পতন হয়েছে’Ñ এ বক্তব্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, সেই মালেক উকিলের পুনরুজ্জীবিত আওয়ামী লীগেই আপনি সভানেত্রী হয়েছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ ছিল কয়েক খণ্ডÑ আওয়ামী লীগ (মালেক উকিল), আওয়ামী লীগ (মিজান)। আওয়ামী লীগ (মালেক উকিল) অংশের সভানেত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা, আজকের প্রধানমন্ত্রী। তাকে কিভাবে সহ্য করলেন যিনি ওই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এত বড় কথা বলার পরও। শুধু তা-ই নয়, যারা ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিল, সেই ইনু-মতিয়ারা এখন আপনার মন্ত্রিসভা আলোকিত করে বসে আছে।
এসব কথা কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বুধবার আলোচনা সভায় বলেননি। শুধু আক্রমণ করছেন বিএনপি ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাকে দেশে আসতে বাধা দিয়েছিলেনÑ প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য সঠিক নয় মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তাহলে আপনি ১৯৮১ সালে ১৭ মে কী করে দেশে ঢুকলেন? তখন তো জিয়াউর রহমানই রাষ্ট্রমতায় ছিলেন। বরং আপনি দেশে আসার ১৩ দিনের মাথায় জিয়াউর রহমান নিহত হলেন।
মানুষ এ-ও বিশ্বাস করে যে, আপনার পথের কাঁটা ভেবে আপনার পৃষ্ঠপোষকেরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ সন্তান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছে। স্বৈরশাসক এরশাদ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে বন্দুকের নলের মুখে মতাচ্যুত করে সামরিক আইন জারি করলেও আপনি বলেছিলেন, ‘আই অ্যাম নট আন হ্যাপি’।
এ দিকে বিভিন্ন মামলায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় ােভ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, এটি সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতির আরেকটি বহিঃপ্রকাশ।
স্বেচ্ছাচার ও দুর্নীতির চাপে গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদকে মাটির নিচে মিশিয়ে দিয়ে সরকার জনরোষকে আটকানোর জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশে কারাগারে আটকিয়ে রাখছে। বরকতউল্লাহ বুলুর আটক সেই অশুভ পরিকল্পনারই অংশ বলে আমরা মনে করি। অবিলম্বে বুলুর মুক্তি দাবি জানান তিনি।
চালের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ৯ বছর ধরে পণ্যবাজার সিন্ডিকেটসহ ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি ব্যাংক-বীমা সব কিছু গ্রাস করে নেয়ার পরও নির্লজ্জভাবে খাদ্যমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীরা নিজেদের অকর্মণ্যতার চালসহ মানুষের খাদ্য নিয়ে মহাদুর্যোগ আড়াল করার জন্য অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্রের দাম আজ লাগামহীন। চার দিকে এখন হাহাকার চলছে। মিথ্যার বেসাতি করে খাদ্যমন্ত্রীরা রেহাই পাবেন না, জনগণ সব কিছুরই হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় আদায় করে নেবে। হাওরাঞ্চলের ফসলহানি নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী ডাহা মিথ্যাচার করেছেন। উনি ফসলহানি নিয়ে যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন, তার সাথে বাস্তবতার মিল নেই।
এ দিকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার দণি তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষের নির্বাচিত চেয়ারম্যান নূর উদ্দিন দর্জির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির নিন্দা জানান রিজভী।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫