ঢাকা, শনিবার,২২ জুলাই ২০১৭

নগর মহানগর

নারীশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হলেই কেবল প্রবৃদ্ধির সঠিক পরিমাপ সম্ভব : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
গৃহস্থালিতে নারীশ্রমের মূল্যায়ন নারী-পুরুষ সমতায়ন ও জাতীয় প্রবৃদ্ধির সঠিক চিত্রায়ন একান্ত জরুরি বলেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, গৃহস্থালির কাজসহ সব অনানুষ্ঠানিক কাজের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে সাহায্য করবে। নারীশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হলেই কেবল প্রবৃদ্ধির সঠিক পরিমাপ সম্ভব। নতুবা, বিপুল নারীশ্রম জাতীয় প্রবৃদ্ধি হিসেবের বাইরে রয়ে যায়। 
গতকাল বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে গৃহস্থালি কর্মকাণ্ডে নারীর শ্রম শীর্ষক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অ্যাকশন এইডের সহায়তায় পিআইবি এ কর্মশালার আয়োজন করে। 
তিনি বলেন, ২০৩০ এর মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অর্জনে লিঙ্গ বৈষম্য সম্পূর্ণ দূর করতে হবে। শ্রমবিষয়ক খবর এবং সেখানে নারীর শ্রম কতটুকু মূল্যায়িত  হচ্ছে সেদিকে সাংবাদিকদের নজর রাখতে হবে। দেখা যায়, গৃহস্থালির কাজ সংসারের নারীরা যখন করে তা মূল্যায়িত হয় না। কিন্তু সেই একই কাজ যখন অর্থের বিনিময়ে নিয়োজিত কেউ করে তাহলে তার মূল্যায়িত হয়।
নারীশ্রমের মূল্যায়ন বিষয়ে গবেষণা ও তা সবার জন্য প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি। 
পিআইবির মহাপরিচালক মো: শাহ আলমগীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ড. মেঘনা গুহ ঠাকুরতা ও অ্যাকশন এইডের প্রতিনিধি শেখ মনজুর-ই-আলম উদ্বোধনী সভায় বক্তব্য রাখেন।
এদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধ, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসরদের পরিচলিত গণহত্যা এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চিত্র দেশ ও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য ফটোসাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
গতকাল দুপুরে রাজধানীতে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে ‘ফটোসাংবাদিকতা বিষয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তায় পিআইবি এ সেমিনারের আয়োজন করে।
ফটোসাংবাদিকরা ইতিহাস ধরে রাখেন, তাদের আলোকচিত্র সত্যের সাক্ষী, উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, ঘৃণ্য গণহত্যা এবং নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে তাদের তোলা ছবিগুলো এ দেশের মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রামকে সফলতার পথে এগিয়ে নিয়েছে। এ জন্য আমরা ফটোসাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’ 
ফটোসাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকিভাতা প্রচলনের যুক্তি এবং ‘ক্যামেরাম্যান’ ও ‘ফটোসাংবাদিকের পার্থক্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘সংবাদ ও গণমাধ্যম বিষয়ে জ্ঞান প্রয়োগ করে আলোকচিত্র ধারণ ও মুদ্রণ নিয়ে কাজ করেন ফটোসাংবাদিকেরা। তাদের কাজে ঝুঁকি বেশি বলে ঝুঁকিভাতা থাকা উচিত।’ 
এ সময় সেমিনারে যোগ দেয়া নেপালের জাতীয় ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের দশ সদস্যের দলকে স্বাগত জানান তিনি। ইনু বলেন, তাদের এ অংশগ্রহণ দুই দেশের সংবাদজগতের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে। 
পিআইবির মহাপরিচালক মো: শাহ আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এ কে এম মহসীনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং নেপাল ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি তেজ বাহাদুর ব্যাসনেট।
সেমিনার উদ্বোধনের পর নেপালের জাতীয় ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের দশ সদস্যের দলটি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সাথে পিআইবি বোর্ডরুমে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫