১৬ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন

সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন ল্যাবে চালু হলো ৬টি নতুন ব্যবসা

ইউনূস সেন্টার আয়োজিত ৫৮৩তম সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন ল্যাব গত বুধবার গ্রামীণ ব্যাংক অডিটোরিয়াম কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ভারত, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৫০ জন অংশগ্রহণকারী এই ল্যাবে যোগ দেন। ডিজাইন ল্যাবে সভাপতিত্ব করেন নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। 
আজকের ডিজাইন ল্যাবে ৬টি নতুন ‘নবীন উদ্যোক্তা’ ব্যবসা পরিকল্পনা উপস্থাপিত হয়। ব্যবসাগুলোর মধ্যে ছিল দু’টি দর্জি দোকান, দু’টি পোলট্রি খামার, একটি চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী ব্যবসা এবং একটি মনোহারি দোকান।
কলিম উল্লাহ উপস্থাপন করেন তার ‘মাহি লেডিস ও জেন্ট্স টেইলার্স’ প্রকল্পটি। এ পেশায় সাত বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কলিম উল্লাহ তার ব্যবসাকে সম্প্রসারিত করার এবং এলাকার  তরুণ-তরুণীদের কাজের সুযোগ করে দেয়ার স্বপ্ন দেখছেন। আতিকুর রহমান উপস্থাপন করেন তার ‘এ এইচ অ্যাগ্রো ফার্ম’ প্রকল্প। তিনি পোলট্রি খাতে নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন। তিনি তুর্কি মোরগ চাষ করছেন এবং তাজা গোশত ও ডিমের নতুন উৎস ক্রেতাদের কাছে নিয়ে গেছেন। তার ব্যবসার অন্যতম বৈশিষ্ট্য তিনি সামাজিক মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইনে ক্রেতা আকৃষ্ট করছেন। ডিজাইন ল্যাবে তার চামড়ার ওয়ার্কশপ উপস্থাপনা করেন ডিপজল দাস। তিনি মহিষের চামড়া থেকে নলকূপের ওয়াশার তৈরি করে তা পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন। দক্ষ কারিগর সুমন চক্রবর্তী উপস্থাপন করেন তার ‘মন মোহনী স্টোর’। তিনি বিশেষ করে বিয়ে, জন্মদিন, পূজা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের জন্য বাঁশ ও কাগজ দিয়ে আকর্ষণীয় সব জিনিস তৈরি করেন। তিনি তার কারুনৈপুণ্য দিয়ে হিন্দু কমিউনিটি ও তাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরছেন। ফারজানা বেগম উপস্থাপন করেন তার ‘ফাহিম টেইলারিং’ প্রকল্পটি। নিজ পেশায় উদ্যোমী ও দক্ষ ফারজানা শিশুদের পোশাক তৈরি করেন সারা বছর ধরে বিশেষ করে উৎসবগুলোতে যার বিপুল চাহিদা থাকে। ডিজাইন ল্যাবে উপস্থাপিত সর্বশেষ প্রকল্পটি ছিল হারুনুর রশীদের ‘হারুন পোলট্রি ফার্ম’। তিনি এলাকার হাঁস-মুরগির গোশতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করছেন। নবীন উদ্যোক্তাদের সবাই গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা পরিবারের সন্তান।
জানুয়ারি ২০১৩-এ সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন ল্যাব শুরু হওয়ার ৫৮২তম ল্যাব পর্যন্ত ১৬ হাজারেরও বেশি প্রকল্প মূলধনী বিনিয়োগের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে। 
বুধবারের ডিজাইন ল্যাবে একটি সামাজিক ব্যবসাও চালু করা হয়। ‘শিশির’ নামের এই পরিষ্কার ও নিরাপদ পানির সমাধানটির মাধ্যমে সহজে ও টেকসই উপায়ে নদীর পানি পানযোগ্য করে তা জারের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ করা হবে। 
ডিজাইন ল্যাব সমাপ্তির আগে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ২৮-২৯, ২০১৭ অনুষ্ঠেয় ৭ম সামাজিক ব্যবসা দিবসে অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানান। বিজ্ঞপ্তি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.