ঢাকা, বুধবার,২৪ মে ২০১৭

অন্যদিগন্ত

ট্রাম্পশিবির-রাশিয়া গোপন যোগাযোগ হয়েছিল ১৮ বার

রয়টার্স

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সের্গেই ল্যাভরভের সাক্ষাতের এই ছবিটি গত মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজ : এএফপি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সের্গেই ল্যাভরভের সাক্ষাতের এই ছবিটি গত মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজ : এএফপি

গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ সাত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের মাইকেল ফিন ও অন্যান্য উপদেষ্টারা রাশিয়ার কর্মকর্তা ও ক্রেমলিন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে অন্তত ১৮ বার গোপনে ফোন কল এবং ই-মেইল চালাচালি করেছেন।
ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছেন। রেকর্ডে থাকা আগের গোপন কয়েকটি যোগাযোগই এখন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই খতিয়ে দেখছে। এ দিকে কংগ্রেসের তদন্তকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তপে এবং ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের সাথে রাশিয়ার আঁতাতের বিষয়টি তদন্ত করছে।
রয়টার্সকে জানানো আগের ছয়টি গোপন যোগাযোগের মধ্যে রয়েছেÑ যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলায়াক এবং ফিনসহ ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে করা ফোন কল। বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। এ ছয়টি ফোনকলের সাথে আছে দু’পরে মধ্যকার আরো ১২টি ফোনকল এবং ই-মেইল কিংবা টেক্সট মেসেজ চালাচালির ঘটনা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠজনদের সাথে ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের উপদেষ্টাদের এসব যোগাযোগ হয়েছে।
বর্তমান চার মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্পের উপদেষ্টা ফিন এবং রাশিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিসলায়োকের মধ্যে কথাবার্তা আরো ত্বরান্বিত হয়েছিল ৮ নভেম্বরের পর। সে সময় তারা দু’জন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যোগাযোগের জন্য একটি গোপন চ্যানেল চালু করা নিয়ে কথা বলেছিলেন। সম্পর্ক উন্নয়নের েেত্র যেটি দু’পরে কাছেই বৈরি বলে গণ্য। জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ প্রাথমিকভাবে গত বছরের নির্বাচনী প্রচারের সময় রাশিয়ার সাথে কোনো রকম যোগাযোগের কথা অস্বীকার করে। এরপর থেকে হোয়াইট হাউজ এবং ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের উপদেষ্টারা ওই সময় কিসলায়াক এবং ট্রাম্প উপদেষ্টাদের মধ্যে চারটি বৈঠক হওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানায়।
তবে রয়টার্সকে ট্রাম্পশিবির এবং রাশিয়ার মধ্যে গোপন যোগাযোগের তথ্য দেয়া কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, এ পর্যন্ত ওই যোগাযোগগুলো খতিয়ে দেখে দু’পরে মধ্যে কোনো ভুল কিছু করা বা আঁতাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে গোপন যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় এখন গত বছরের নির্বাচনের সময় রুশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের পূর্ণ তথ্য এফবিআই এবং কংগ্রেসকে দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
ফোনকল ও ই-মেইলে ১৮ বার যোগাযোগটি হয়েছিল ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে। যে সময়টিতে মার্কিন নির্বাচন রুশ হ্যাকারদের কবলে পড়েছিল বলে জানুয়ারিতে উপসংহার টেনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। ওই হ্যাকিংয়ের কারণেই ভোট ট্রাম্পের পে যায় এবং প্রতিপ হিলারি কিনটন তার কাছে হেরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, ওই সব গোপন আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক মেরামত। যে সম্পর্ক মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে চলছিল। এ ছাড়াও ছিল, সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং উদীয়মান শক্তি চীনের রাশ টেনে ধরায় সহযোগিতা করা।
গোপন এসব যোগাযোগের ব্যাপারে হোয়াইট হাউজ কোনো মন্তব্য করেনি। মাইকেল ফিনের আইনজীবীও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মস্কোয় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্য দিকে ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাসের মুখপাত্রও বলেছেন, তারা স্থানীয় আলোচকদের সাথে দৈনন্দিন যোগাযোগ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেন না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫