হাসান রুহানি;	ইব্রাহিম রইসি
হাসান রুহানি; ইব্রাহিম রইসি
ইরানে নির্বাচন আজ

রুহানি ও রইসির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা

টেলিগ্রাফ
ইরানে আজ শুক্রবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। পশ্চিমাদের সাথে বিরোধ মোকাবেলার মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির নীতির বিপরীতে থাকা কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত ইব্রাহীম রইসি মধ্য থেকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেবেন ইরানের ভোটাররা। 
গত চার বছর দায়িত্ব পালনকালে রুহানি ইরানকে বৈষ্ণিক অবস্থার সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। পারমাণবিক কর্মসূচি শিথিল করার শর্তে ২০১৫ সালে বিশ্ব শক্তিগুলোর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, যার মাধ্যমে ইরানের ওপর থেকে অনেক নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি বাতিল করার হুমকি দিলেও অবশেষে তা নবায়ন করেছেন তিনি। চলতি সপ্তাহে তিনি ইরানের তিক্ত আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব সফর করবেন। এতে তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরো ঝুঁকির মধ্য পড়তে পারে। নির্বাচনে রুহানির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রইসি। পারমাণবিক চুক্তি সম্পর্কে তার কোনো দ্বিমত নেই তবে তিনি মনে করেন পশ্চিমাদের প্রতি প্রেসিডেন্ট অনেক বেশি দুর্বল। 
৫৬ বছর বয়সী রইসি টেলিভিশন বিতর্কে বলেন, ‘শত্রুদের প্রতি আমাদের কোনো দুর্বলতা প্রকাশ করা উচিত নয়।’
পারমাণবিক চুক্তির পর দেশটিতে এটি প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। মূলত নেতৃত্ব স্থানীয় রক্ষণশীল নেতারা যখন এককাতারে এসে দাঁড়িয়েছেন তখনই নির্বাচন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে মনে করা হচ্ছে। সোমবার তেহরানের মেয়র মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে রইসির প্রতি সমর্থন জানান। মঙ্গলবার সংস্কারবাদী ভাইস প্রেসিডেন্ট ইশহাক জাহাঙ্গীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে রুহানির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরো জোরদার করেছে। 
৬৮ বছর বয়সী রুহানি বৃহত্তর নাগরিক স্বাধীনতা অথবা চরমপন্থা বেছে নিতে বলেছেন। বেসরকারি জরিপে তিনি এখনো এগিয়ে আছেন। তবে এটি ঠিক কয়েক মাস আগে পর্যন্ত নির্বাচন যেমনটি হবে আশা করা হচ্ছিল, এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তার চেয়ে অনেক কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধীরা বলছেন, রুহানির অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আশাব্যঞ্জক নয় এবং তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও দারিদ্র্য ও বেকারত্ব মোকাবেলায় খুব বেশি সফল হয়নি। 
রইসি আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ 
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ লোক এবং আত্মীয় হিসেবে পরিচিত রইসি। এবং তিনি ওই চারজন বিচারকের একজন যারা ১৯৮৮ সালে হাজার হাজার রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। আগামী জুলাই মাসে ৭৮ বছর বয়সে অবসরে যাওয়ার কথা খামেনির। ইরানের গণমাধ্যম খামেনির উত্তরাধিকার হিসেবে রইসিকে নিয়ে আলোচনা করছে অনেক দিন ধরে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করার সময় রাজনীতিতে অপরিচিত মুখ ছিলেন রইসি। তার পরিচয় ছিল প্রধান প্রসিকিউটর এবং ইমাম রেজা চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের প্রধান হিসেবে। শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরির ক্ষেত্রে তার ওপর আস্থা আছে। এ ছাড়া বিদেশী নির্ভশীলতা কমিয়ে আত্মনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা ক্ষেত্রেও তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। রইসি আর্থিক সহযোগিতা বাড়িয়ে দিয়ে কর্ম পরিষদের ভোট চেয়েছেন। পাশাপাশি বংশমর্যাদায় তিনি সৈয়দ। তিনি লাখ লাখ চাকরির পদ সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গরিবদের ভোট চেয়েছেন। 
রুহানির পূর্বসূরি মুহাম্মদ আহমাদিনেজাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে কারাদণ্ড ভোগ করা ইরানের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সৈয়দ লিয়ালাইজ বলেন, ‘অবাস্তব হলেও এ ধরনের প্রতিশ্রুতি লাখ লাখ ভোটারের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।’ যদিও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে সব দলের জন্যই সমান। তার পর তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একটি ভোট দিতে পারেন। এ ভোট রক্ষণশীলদের পক্ষেই যাবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.