ঢাকা, শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭

বাংলার দিগন্ত

দৌলতদিয়ায় পদ্মার ভাঙন হুমকির মুখে ৪ ফেরিঘাট

এম মনিরুজ্জামান রাজবাড়ী

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
দৌলতদিয়ায় ভাঙনকবলিত ৪ নম্বর ফেরিঘাট : নয়া দিগন্ত

দৌলতদিয়ায় ভাঙনকবলিত ৪ নম্বর ফেরিঘাট : নয়া দিগন্ত

পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়েছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার সব ক’টি ফেরি ঘাট। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় নদীতে ঘাট বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ না করলে গত বছরের মতো ফেরি সার্ভিস বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ভাঙন থেকে ঘাট রায় বিআইডব্লিউটিএ প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে বল্লি পাইলিং ও বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে। 
এ ছাড়া প্রস্তাবিত নতুন ঘাট নির্মাণে কালপেণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিআইডব্লিউটিএর বিরুদ্ধে। 
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপ (বিআইডব্লিউটিএ) দুই নম্বর ঘাটের পাশে মিড ওয়াটার লেভেলে ঘাট তৈরি করছে। পাশাপাশি ভাঙন রায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে। এ ছাড়া ৪ নম্বর ঘাটের কাছে ভাঙন আরো বেড়েছে। ঘাট এলাকার কয়েকটি পরিবার আতঙ্কিত হয়ে অন্যত্র চলে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে ঘাটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, নতুন ফেরিঘাটের প্রস্তাবিত রাস্তার ওপর অবস্থিত পরিবারগুলোকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে পুনর্বাসনের জন্য কর্তৃপরে কাছে অনুরোধ জানান। এ ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে ৪ নম্বর ঘাট রায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা প্রয়োজন। 
লঞ্চ ঘাট মালিক সমিতি প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী বলেন, পাশের দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার তার বাড়ির সামনে মরা পদ্মায় বাঁধ দেয়ায় পানি বাধা পেয়ে গ্রোত এসে সরাসরি ঘাটে লাগে বলে ঘাট ভাঙছে। 
বিআইডব্লিউটিএর উপসহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, ঘাট রায় ৪ এপ্রিল থেকে ফেরিঘাটের ৪৫০মিটার দৈর্ঘ্যরে এলাকায় বল্লি পাইলিং, বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ১ নম্বর ফেরি ও লঞ্চ ঘাটের মাঝামাঝি স্থানে নতুন দু’টি ফেরিঘাট নির্মাণে সওজ এখনো সড়কের কাজ শুরু না করায় তারা ঘাট তৈরি করতে পারছে না। ২ থেকে ৪ নম্বর ঘাট পর্যন্ত রায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা প্রয়োজন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়ার ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ৪ নম্বর ঘাটে ভাঙন শুরু হয়েছে যা আসছে বর্ষা মওসুমে ঘাট থাকবে না। ঘাটের সামনে থাকা চর ভেঙে যাওয়ার কারণে পানির গ্রোত এসে সরাসরি ঘাটে আঘাত করায় ঘাট ভেঙে যাচ্ছে। নতুন ফেরি ঘাটের সংযোগ সড়ক দ্রুত নির্মাণের জন্য তিনি সওজের প্রতি অনুরোধ জানান। 
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গৌর পদ সূত্রধর জানান, ফেরিঘাটে কাজের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই বলে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে না। বরাদ্দ দেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে আবেদন করা হয়েছে। দেবগ্রামের মরা পদ্মায় বাঁধের কারণে পানির স্্েরাত ফেরিঘাটে চাপ সৃষ্টি করছে। বাঁধটি অপসারণ করা দরকার। 
সওজ রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, নতুন ফেরিঘাটের জমি বুঝে পেয়েছি, কার্যাদেশও হয়েছে। রাস্তার ওপর কিছু বাড়িঘর রয়েছে। আদালতে মামলা করায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতা কামনা করেন। সমাধান হলেই তিনি দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করতে পারবেন বলে জানান। 
জেলা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেলের আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, প্রস্তাবিত নতুন দু’টি ফেরিঘাট নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করাসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হয়েছে। দেবগ্রামের বাঁধের ব্যাপারে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। 
এ ছাড়া বর্ষার আগেই (ঈদের আগে) ঘাটের সব কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫