ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

বাংলার দিগন্ত

বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ফসল ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
শিবগঞ্জে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কিচক বালিকা বিদ্যালয়ের লণ্ডভণ্ড টিনের চাল : নয়া দিগন্ত

শিবগঞ্জে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কিচক বালিকা বিদ্যালয়ের লণ্ডভণ্ড টিনের চাল : নয়া দিগন্ত

বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখীতে নানাজাতের ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শিবগঞ্জ (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, মশুলধারে শিলাবৃষ্টি আর কালবৈশাখীতে আবারো বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নিচু এলাকার ইরি-বোরো পাকা ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন শাকসবজি ক্ষেতেরও। গত দু’দিনের কালবৈশাখীতে তলিয়ে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। উড়ে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কাঁচাপাকা বাড়িঘরের টিনের চালা। ঝড়ের পরপরই বিদ্যুৎ চলে গেছে। বিভিন্ন স্থানে দু’দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। 
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑ উপজেলার নান্দুড়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা, কিচক আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়, শোলাগাড়ী নি¤œম্যাধমিক বিদ্যালয়, হরিপুর-মাটিয়ান মহিলা দাখিল মাদরাসা, গড়িয়ারপাড়া ইবতেদায়ি মাদরাসা ও বালাবত্রিশ মাদরাসা। নান্দুড়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মনিরউর তালেব, শোলাগাড়ী নি¤œম্যাধমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: রোস্তম আলী জানান, গত কালবৈশাখীতে তাদের প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি শ্রেণী কক্ষের টিনের চালা উড়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে কাস নিতে হচ্ছে। কিচক সাতপাড়ার কৃষক মামুনুর রশিদ, রেজাউল করিম, আবদুল আলিম জানান, এবারের ঝড় বৃষ্টিতে তাদের নিচু চার-পাঁচ বিঘা জমির ইরি-বোরো পাকা ধানের ফসল তলিয়ে গেছে। মোকামতলা টেপাগাড়ীর সবজিচাষি মো: মিজানুর রহমান জানান, এবারের বৃষ্টিতে তার সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। 
কিচক বাজারে চা দোকানি মো: ইউসুফ আলী জানান, দু’দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা দারুণ সমস্যায় পড়েছেন। পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানদের পড়ালেখা নিয়ে তিনি চিন্তিত। এ ব্যাপারে মোকামতলা জোনাল অফিসের ইঞ্জিনিয়ার মো: তাহের জানান, গত সোমবার রাতে ঝড়ের গতি ছিল প্রচণ্ড। এতে বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার ও মিটারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জনবল স্বল্পতায় মেরামতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, শ্যামনগরের কাশিমাড়ী কে এ আদর্শ দাখিল মাদরাসা ও পাতাখালী ফাজিল মাদরাসা ভৌত অবকাঠামো প্রচণ্ড ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। কে এ আদর্শ মাদরাসার সুপার মাওলানা খবির উদ্দীন জানান, গত সোমবার রাত ১টায় প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টিতে মাদরাসার সেমি-পাকা বিল্ডিংয়ের চারটি শ্রেণী কক্ষ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এতে শ্রেণীকক্ষের দেয়াল, টিনের চাল, চেয়ার, বেঞ্চসহ অন্যান্য শ্রেণীকক্ষ ব্যবহার উপযোগী উপকরণসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর আনুমানিক মূল্য পাঁচ লাখ টাকা। পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের পাতাখালী ফাজিল মাদরাসার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা অন্যান্য রুমে অতি কষ্টে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষা শেষের আগেই মাদরাসাটি সংস্কার না হলে ছাত্রছাত্রীদের খোলা আকাশের নিচে পাঠ গ্রহণের কার্যক্রম করতে হবে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মাদরাসাটি পরিদর্শন করেছেন। এ দিকে রাবেয়া খাতুন মহিলা দাখিল মাদরাসারও ক্ষতি হয়েছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সাহায্যের জন্য সরকারের সাহায্য কামনা করেছেন। 
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, কালবৈশাখীতে ও ভারী বর্ষণে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গোটা উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও কালবৈশাখীর কবলে পড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা, আবাদি ফসল ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জানা যায়, বুধবার রাতে আকস্মিক কালবৈশাখী নাগরপুরে আঘাত হানে। এতে গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। ফলে প্রায় ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন ছিল গোটা উপজেলা। এ ছাড়া ভারী বর্ষণে উপজেলার নি¤œাঞ্চলের বেশির ভাগ কাঁচাপাকা ধানসহ বিভিন্ন ফসল বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। 
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাগরপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো: রফিকুল ইসলাম খান জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কালবৈশাখীর আঘাতে গাছপালার ডাল ভেঙে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে গত রোববারের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে আট গ্রাম। বাড়িঘর, গাছপালা, ফসল, সবজি বাগান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ এমন কিছু নেই ক্ষতি হয়েছে। পৌরসভাসহ আট ইউনিয়ন, দেওয়ানগঞ্জ, চুকাইবাড়ী, চিকাজানী, বাহাদুরাবাদ, হাতিভাঙা, পাররামপুর, চরআমখাওয়া ও ডাংধরা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেলেও সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের। ওই ইউপির পোল্লাকান্দী, চর পোল্লাকান্দী, খুটারচর, কুতুবেরচর, মদনেরচর, মাদারচর, সরদারপাড়া, শেখপাড়া গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িঘর, গাছপালা, ফসল, সবজি বাগান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। সরকারি হিসাব মতে আহতের সংখ্যা ৪৬ জনকে উল্লেখ করা হলেও কয়েক শ’ নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ১০ জন। ১০ জনের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। অন্য আহতরা স্থানীয় কিনিক, ফার্মেসি ও বাড়িঘরে চিকিৎসা নিচ্ছে। রোববারের ঘূর্ণিঝড়ের পরদিন সোমবার দিনগত রাতেও প্রবল বেগে ঝড় তুফান হয়েছে। এতেও অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি জিলবাংলা চিনিকলের গোডাউনের ৩ শ’ ফিট চালাও উড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কামাল আজাদ, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো: এনামুল হাসান। তারা জানান, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১২৬ জনকে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এক বান্ডিল করে ঢেউটিন তিন হাজার করে টাকা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৩৭৫ জনকে ২০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে। বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: শাকিরুজ্জামান রাখাল জানান, তার ইউনিয়নের অন্তত ১০ গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি এমন এক সময় হয়েছে যে সময় নেক ব্লাস্টে বোরো ধানের সর্বনাশ, আগাম বন্যার আশঙ্কায় আশঙ্কিত এবং রহস্যজনক কারণে চালের মূল্যবৃদ্ধিতে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়েছে। তিনি আরো বেশি করে ত্রাণ সাহায্য দানের জন্য সরকারের কাজে আবেদন জানিয়েছেন। 
কলাপাড়ায় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের সাতটি গরু মারা গেছে
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সাংবাদদাতা জানান, কলাপাড়ায় বুধবার রাতে এবং বিকেলে কালবৈশাখীর দুই দফা ঝড়ে চরবালিয়াতলী গ্রামের বেড়িবাঁধের স্লোপের আটটি পরিবারের ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব ঘরের মালিক হচ্ছেন ফুলবানু, আবু সরদার, ইউসুফ, হাওয়া বেগম, হেলাল হাওলাদার, কামাল হোসেন, হেরিয়া বেগম ও নুরুন্নাহার। ওই এলাকার ইউপি মেম্বার মোহসিন হাওলাদার জানান, এসব দরিদ্র মানুষ এখন গৃহহারা। এ ছাড়া বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের সাতটি গরু মারা গেছে। এসব গরুর মালিক হচ্ছেন হাড়িপাড়ার আলতাফ গাজী, ফরিদ আকন, কাংকুনিপাড়া গ্রামের মোশারেফ খান, চরবালিয়াতলী গ্রামের জলিল হাওলাদার ও বিপ্লব হাওলাদার।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫