ঢাকা, শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭

বাংলার দিগন্ত

৪০ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোতে পারাপার

মু. জাবির হোসেন রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

১৯ মে ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট
রাঙ্গাবালীর বড় বাইশদিয়া তিন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সাঁকো : নয়া দিগন্ত

রাঙ্গাবালীর বড় বাইশদিয়া তিন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সাঁকো : নয়া দিগন্ত

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের তিন গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। স্থানীয় এমপি অথবা জনপ্রতিনিধির কাছে এলাকাবাসী তাদের এ ভোগান্তির কথা জানালেও কোনো প্রতিকার হয়নি। শিশু, বৃদ্ধ, বনিতাসহ সব বয়সী মানুষের ওই খেয়াটি পার হয়ে জীবিকার চাহিদা মেটাতে হয়। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। 
এলাকাবাসী জানান, রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাব্বুনিয়া এলাকায় রাবনাবাদ নদীর একাংশ মরা খালে পরিণত হয়ে বারোই খাল নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। নদীর চার দিকে গাব্বুনিয়া, ফেলাবুনিয়া, স্লুইসঘাট গ্রাম অবস্থিত। এই তিন গ্রামে নানা পেশার অন্তত ১০ হাজার মানুষ বাস করে আসছেন। গ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য নিজেরাই একটি বাশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন। এর পর থেকে ওই গ্রামের মানুষগুলোর হাটবাজার, ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতসহ সব ধরনের কাজ করতে হয় খালের ওপর সাঁকোটি পার হয়ে। বর্ষা মওসুমে সাঁকোটির কাদা মাটিতে প্রলেপ থাকায় প্রায়ই ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। যদি সাঁকোটি বাদ দিয়ে মানুষকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে হয়, তাহলে তিন থেকে চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে অন্য এলাকা হয়ে তাদের চাহিদা মেটাতে হয়। ফলে ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষগুলোকে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। এ ছাড়া কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে কৃষকদের অধিক খরচ বহন করতে হয় বলে জানান একাধিক কৃষক। 
গাব্বুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিার্থী গোলাম রাব্বী, হৃদয়, রামিন জানায়, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে আমরা যাতায়াত করি। বর্ষাকালে আমাদের বেশি কষ্ট হয়। এ ছাড়া সঁাঁকোটি পুরনো হওয়ায় মাঝে মধ্যে আমরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। অনেক সময়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালের মধ্যে পড়ে যাই। গায়ে কাদামাটি লাগায় ওই দিন আর কাস করতে পারি না। 
গাব্বুনিয়া গ্রামের মো: সোহাগ মিয়া বলেন, এর আগে অনেকবার ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দাবি জানিয়েছি খালের ওপর সেতু তৈরি করার জন্য। তিনি শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। কিন্তু সাঁকোর বদলে এই খালে সেতু হয়ে ওঠেনি। বর্তমান বাঁশের সাঁকোটি গ্রামবাসী মিলে তৈরি ও মেরামত করেছেন।  
গাব্বুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো: মফিজ খান বলেন, বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই পা পিছলে খালের মধ্যে পড়ে যায়। বেশির ভাগ সময় স্কুলের শিশুরা সাঁকো পার হতে গিয়ে খালের পানিতে পড়ে যায়। পরে লোকজন তাদের উদ্ধার করে। এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য মরা খালের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। প্রায় দশ ফুট পরপর দু’টি করে বাঁশের খুঁটি ১৮টি স্থানে বসানো হয়েছে। বাঁশের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় ওপরে ধরার জন্য আড়াআড়ি বাঁশ বাঁধা হয়েছে। ৪০ বছর ধরে এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই চলাচল করছে। এ উপজেলায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে; কিন্তু সাঁকোটি পাল্টায়নি। 
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া বলেন, মালামাল নিয়ে যাওয়া যায় না। নসিমন ভাড়া করে অনেক দূরের পথ ঘুরে যেতে হয়। তাই আমাদের ব্যবসায় লাভের তুলনায় খরচ বেশি হয়। জন্ম থেকে এই খালটিতে সাঁকো দেখে আসছি। অনেক কিছুর উন্নতি হয়েছে; কিন্তু সাঁকোটি বদলায়নি। 
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তিন গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিকবার ওপর মহলকে জানানো হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫