ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৭ জুলাই ২০১৭

ময়মনসিংহ

দুই প্রফেসরকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বাকৃবি সংবাদদাতা

১৮ মে ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৬:৫৪


প্রিন্ট

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কর্তৃক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের দুই প্রফেসরকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনের করিডোরে ওই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে ওই ইউএনও’র শাস্তি দাবি করেছে অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

গত ৬ মে শনিবার পিতার মৃত্যুর খরব পেয়ে শোকাহত কন্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের প্রফেসর ড. মারজিয়া রহমান ও তার স্বামী একই অনুষদের সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মাহমুদুল আলম সন্তানদের নিয়ে নিজবাড়ি ভূয়াপুর উপজেলার তাড়াইলের উদ্দেশে রওনা দেন। ঘাটাইলের গলগন্ডা এলাকায় রাস্তার পিছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি লাল পাজেরো বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবাসটিকে অতিক্রম করার সময় ঘষা লাগে। রাস্তার ধারে পুকুর এবং খড় বিছানো থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ির চালক ঠিক মতো সাইড দিতে পারেননি। এসময় লাল পাজেরো গাড়িটি থেকে আব্দুর রহমান নামের একজন সহকারী নেমে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ির চালককে বকাবকি করেন এবং গাড়ি থেকে টেনে নিয়ে যান। এতে মাহমুদুল আলম প্রতিবাদ করলে তাদেরকে এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন।

একপর্যায়ে মাহমুদুল আলম তার মরহুম শ্বশুরের বাড়ির দিকে যাওয়ার কথা বললে ওই কর্মচারী বলেন, ‘আপনারা যেখানে খুশি সেখানে যান’ এবং শিক্ষক পরিচয় দিলে বলেন, ‘রাখেন আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর। আপনাদের কোনো মেজিস্ট্রেসি পাওয়ার নেই।’

কথাগুলো ইউএনও গাড়িতে বসে শুনেন এবং ড্রাইভারকে বলেন, আপনার স্যারকে এখানে ডাকেন। শোকাহত মার্জিয়ার ও তার হতবিহব্বল স্বামী গাড়িতে বসে থাকা ইউএনওকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলে তিনি (ইউএনও) বলেন, ‘কি আর করার আপনারা যখন মরার বাড়িতে যাচ্ছেন, চলে যান।’

এসব পরিস্থিতি দেখে গাড়িতে থাকা প্রফেসর দম্পতির শিশু সন্তানেরা হাউমাউ করে কান্না করতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয় জানা সত্ত্বেও গাড়িতে বসে থাকা ইউএনও আবুল কালাম মো: শাহীন কোনো প্রতিবাদ করেননি বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের আয়োজন করেন। তারা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মুঠোফোনে ইউএনও আবুল কালাম মো: শাহীনের সঙ্গে কথা বললে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন এবং বলেন আব্দুর রহমান একজন নি¤œ শ্রেনীর কর্মচারী, তাদের মধ্যে কি কথা হয়েছে তা আমি জানি না। তবে তারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিচয় জানার পর আমি সালাম দিয়ে বিদায় দিয়েছি। ইউএনও আবুল কালাম মো: শাহীন বিসিএস ২৪তম ব্যাচের বিসিএস (প্রশাসন) কর্মকর্তা।

এদিকে ইউএনও’র বক্তব্য অসত্য উল্লেখ করে ঘটনা প্রসঙ্গে প্রফেসর ড. মাহমুদুল আলম বলেন, ইউএনও’র একজন সহকারী প্রকাশ্যে দুইজন শিক্ষককে অপমান ও অপদস্ত করছেন, তা ওই ইউএনওর আচার-ব্যবহার ও কর্মকান্ডের বহিঃপ্রকাশ। ঘটনাস্থলে গাড়িতে বসে একজন বিশ্বদ্যিালয়ের প্রফেসরকে ড্রাইভার দিয়ে তার কাছে ডেকে তিনি অসৌজন্য আচরণ ও পদমর্যাদার বরখেলাপ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র একজন প্রফেসর গ্রেড-৩ (গ্রেড-২, গ্রেড-১) পদমর্যাদার অন্যদিকে ইউএনও গ্রেড-৭ পদমর্যাদার। এঘটনার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাকে অবমাননা করেছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫