ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ মে ২০১৭

ঢাকা

মির্জাপুরে তালিকাভুক্ত হতে ৬৩২ জন মুক্তিযোদ্ধার আবেদন

শামীম সুমন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)

১৮ মে ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৬:০৫


প্রিন্ট

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন করেছেন ৬৩২ জন। গত মঙ্গলবার থেকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পাঁচ দিনব্যাপী অনলাইনে আবেদনকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তির যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ইসরাত সাদমীন জানান, প্রকৃত ও সঠিক মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির জন্য নতুনভাবে আবেদনকৃত ৬৩২ জন মুক্তিযোদ্ধার যাচাই-বাছাই গত ১৬ মে থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম দিন উপজেলার মহেড়া, জামুর্কী, ফতেপুর, তরফপুর, লতিফপুর, বানাইল ও বাঁশতৈল ইউনিয়ন এবং বুধবার ভাদগ্রাম, বহুরিয়া, গোড়াই, ভাওড়া, আজগানা, ওয়ার্শি, আনাইতারা ইউনিয়ন ও পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলায় বর্তমানে ৮৪২ জন মুক্তিযোদ্ধা (গেজেটভুক্ত) তালিকাভুক্ত রয়েছেন। যারা গেজেটভুক্ত হয়ে নিয়মিত ভাতাসহ সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন তাদের যাচাই-বাছাই হবে আজ থেকে তিনদিন। নতুন আবেদনকৃত এবং পূর্বে যারা রয়েছেন তাদের মিলে এখন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৪শ’।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাপক প্রচারণা করা হচ্ছে।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যদের সামনে সাক্ষাতকার দিচ্ছেন।

নতুনভাবে অনলাইনে আবেদনকৃত কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আমরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে আমাদের অবহেলার চোখে দেখে আমাদের গেজেটভুক্ত করেনি একটি মহল। দীর্ঘ ৩৬ বছর আমরা দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু আমাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। অনেকেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে।

অপরদিকে অনেক মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করেছেন, নতুন তালিকায় তাদের নাম কর্তন করা হয়েছে। কিন্ত কে বা কারা তাদরে নাম কর্তন করেছেন সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। এখন তারা কি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় থাকবে, না থাকবে না এ বিষয়ে প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদও কিছু বলতে পারছেন না। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন করে জটিলতা।

এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার দুর্লভ বিশ্বাস বলেন, প্রকৃত ও সঠিক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সঠিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই গ্রহণের জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আবেদনকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাত গ্রহণ করে আসছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, সঠিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা হলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো: একাব্বর হোসেন এমপি, সভাপতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি (সভাপতি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন (সদস্য সচিব)। অন্য সদস্যরা হলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আলী আকবর খান ডলার, টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আব্দুস সাত্তার ভুইয়া ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: খলিলুর রহমান।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫