ঢাকা, সোমবার,২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

থেরাপি

গোল আলু

শরীফ বিল্লাহ

১৮ মে ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

গোল আলু উন্নত এক সবজি। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা এই সবজি পছন্দ করে। এটা দিয়ে কী না হয় ? চিপস, চটপটি, ভাজি , ভর্তা, আলুর দম। এক কথায় দৈনন্দিন জীবনে আলু আমাদের সাথে মিশে আছে। বলতে পারেন ব্লাডের সাথে মিশে আছে। পাক্কা রক্তের সম্পর্ক।
সমাজে ‘গোল আলু’ মার্কা ছেলের অনেক কদর। ছেলেটা যদি হয় লম্বা, শ্যামবর্ণ এবং ‘আলু মার্কা’ চেহারা। দেখবেন মেয়েদের পছন্দ। মেয়ের বাপেরও পছন্দ। আপনি বিয়ে করতে গেলেন। বেশি চালাকি করতে যাবেন না। চালাকি করতে গেলে ধরা। ‘আলু মার্কা’ সেজে বসে থাকবেন। বুঝাবেন, কিছুই বোঝেন না। মেয়ে পক্ষ বুঝবে আপনি সহজসরল। বর্তমান জামানায় সহজসরল ছেলেদের কদর বেশি। এই সুযোগে কোনোমতো একবার বিয়েটা করতে পারলে বুঝিয়ে দেবেন আপনি সরল নাকি কত কঠিন। আপনি যে কত অষ্টপ্যাঁচ নিয়ে চলতে পারেন তা বুঝিয়ে দিতে পারবেন।
আলু একটা নিরীহ সবজি। বলতে পারেন একেবারে নিরীহ প্রাণী। তার মধ্যে কোনো প্যাঁচ-ট্যাঁচ নেই। যেখানে তাকে বসাবেন সে ফিট। যেখানে তাকে শোয়াবেন সেখানেও ফিট। মাছে দেন আর মাংসে দেন সব জায়গায় সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। সব জায়গায় সে সুস্বাদু।
ভর্তা হিসেবে আলু খুব জনপ্রিয়। আলু দিয়ে নানা পদের ভর্তা তৈরি করা যায়। শুঁটকি আর কাঁচামরিচ যা কিছু খেতে মন চায় তা যদি আলু দিয়ে কোনোমতে ঢলা দিতে পারেন ভর্তা হয়ে যেতে বাধ্য। অবশ্য যদি কাঁচামরিচ বেশি দিয়ে দেন তাহলে ভর্তা খাওয়া শেষ। দেখবেন ভর্তা খেতে গিয়ে নাকের জল আর চোখের জল একাকার করে ফেলেছেন। জল মোছার জায়গা খুঁজে পাবেন না।
কেউ বেশি চালাকি করলে আপনি তাকে আলুভর্তা বানাতে পারেন। সে ভর্তা হবে কাঁচামরিচ পেঁয়াজ ছাড়া। আর সে জন্য তাকে মারতে হবে। তবে খালি হাতে মারলে আপনি হালকা ব্যথা পেয়ে যেতে পারেন। তাই মারবেন লাঠি দিয়ে। মারতে মারতে তাকে ভর্তা করে ফেলবেন। তবে আলুভর্তা করতে গিয়ে খেয়াল করবেন যেন পটোলভর্তা না হয়ে যায়। পটোলভর্তা মানে ‘পটল তোলা’। আর একবার পটল তুলে ফেললে আপনি কিন্তু কট। সোজা লাল দালানে।
তবে কাউকে মারতে গিয়ে মাথার উপর মারবেন না। তাহলে মাথায় আলু উঠবে। কোনো ধরনের চাষাবাদ ছাড়া এই আলু মাথার উপর উঠে যাবে। তখন ডাক্তার দেখিয়েও কোনো লাভ নেই। কোনো ডাক্তার এই আলু সহজে মাঠ থেকে উঠাতে পারবে না। আর যদি ডাক্তার এই আলু সহজে সারাতে না পারে তাহলে আলু আপনার পিঠের ওপর পড়বে। আপনি না খেয়ে বেঁচে যাবেন তাতো হয় না।
যাদের শরীর অত্যন্ত মোটা তাদের জন্য আলু খাওয়া নিষেধ আছে। আলু শরীরকে মোটা করে দেয়। আর যারা এমনিতেই মোটা তারা যদি লাগাতার আলু খায় তাহলে কি পরিমান মোটা হবে তা একবার ভেবে দেখুন। হয়তো এত পরিমাণ মোটা হবে একেবারে কলাগাছের মতো ফেটে যেতে পারে। তখন এই শরীর কোনোভাবেই জোড়া দেয়া যাবে না। তবে যাদের বাড়িতে ফেভিকল আছে তাদের ভিন্ন কথা। এই জিনিস দিয়ে আপনি হয়তো জোড়া লাগিয়ে দিতে পারবেন আপনার শরীর। কিন্তু যাদের বাড়িতে ফেভিকল নেই তারা সুপার গ্লু ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এতে কিছুটা কাজ হতে পারে। আপনি অন্তত মানইজ্জত নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫