হাসপাতালের বিছানায় মজনু
হাসপাতালের বিছানায় মজনু
নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশের পর

শিকলের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেল সেই মজনু

রফিক মোল্লা, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)

শিকলে বন্দি জীবন থেকে রক্ষা পেলো সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সরাতৈল গ্রামের দিনমুজুর সুলতান শেখের ছেলে মজনু (২১)।

গত ১৩ মে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় ‘১০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা জীবন’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। খবরটি খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসকদের নজরে আসে। তারা হাসপাতালের পরিচালক ড. রুবায়েৎ ফারজানাকে বিষয়টি অবগত করেন। আজ বুধবার দুপুরে পরিচালকের নির্দেশে মজনুকে বাড়ি থেকে এনে হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসার ব্যায়ভার বহন করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মানসিক রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: চঞ্চল আজাদের তত্ত্বাবধানে দেয়া হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।

জানা যায়, মজনুর জন্ম হয়েছিল সুস্থ ও স্বাভাবিক শরীর নিয়েই। এক বছর বয়সে বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়ে হঠাৎ করে মাথায় আঘাত পায়। সে সময় হত-দরিদ্র বাবা-মা ঝাঁড়ফুক ছাড়া উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে পারেনি। যে কারণে ওই সময় থেকেই মাথায় ব্যাথা নিয়ে বেড়ে ওঠে মজনু। ৯ বছর বয়সে তার চলাফেরা ও কথাবর্তায় কিছুটা অস্বাভাবিক দিক লক্ষ্য করা যায়। তখন থেকে বস্ত্রহীন হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, পানিতে পড়ে থাকে, ছোট ছেলে-মেয়েদের মারধর করে এবং কুকুর সহ গরু-ছাগলের মুখে হাত দিয়ে খেলা করে। পরে মজনুর জীবনের নিরাপত্তা ও অন্যের অনিষ্ট করা থেকে বিরত রাখতে ১১ বছর ধরে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। এমন খবর দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় সচিত্র প্রকাশ করে।

এবিষয়ে মজনুর মা মমতা বেগম জানায়, দেশবাসীর কাছে মজনুর চিকিৎসায় আর্তি জানিয়ে ছিলাম। খাজা হাসপাতালের ডাক্তারা পত্রিকায় আমার ছেলের করুণ দশা দেখে চিকিৎসা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় এবং নয়া দিগন্ত পত্রিকায় খবরটি প্রকাশ করায় কর্তৃপক্ষকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি অত্যন্ত খুশি, আল্লাহ যেন আমার মজনুকে সুস্থ ও সুন্দর করে আমদের মাঝে ফিরিয়ে দেয়, আপনারা দোয়া করবেন।

এ ব্যাপারে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: চঞ্চল আজাদ বলেন, মজনুকে হাসতপাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর রোগ সর্ম্পকে সুস্পষ্ট জানা যাবে। তবে মাথায় প্রচন্ড আঘাতের কারনেই সমস্যার সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। আশা করি স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.