ঢাকা, মঙ্গলবার,২৭ জুন ২০১৭

সংগঠন

মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল সচলে অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তদন্ত কমিটি গঠন দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ মে ২০১৭,বুধবার, ১৭:৩৫ | আপডেট: ১৭ মে ২০১৭,বুধবার, ১৭:৫৬


প্রিন্ট
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল সচলকরণে গত চার বছরের কর্মকান্ড ও অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের সুপারিশ করেছে নদী পানি পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি সুন্দরবন ও নদ-নদীসহ প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের প্রকল্প বাতিলেল দাবি করেন তারা।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে কমরেড মণি সিংহ সড়কের মুক্তি ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তারা এই তাগিদ দেন। বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি এক আলোচনা সভায় এসব সুপারিশ করা হয়।

বক্তারা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খননসহ নৌপথ সংলগ্ন এলাকায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ এই তিনটি সরকারি সংস্থার সমন্বয়হীনতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মংলা-ঘষিয়াখালী নিয়ে দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধের দাবিও জানান তারা।

এতে সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে এর ভেতর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে বিকল্প নৌপথ মংলা-ঘষিয়াখালী সারা বছর সচল রাখার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘সংকটে মংলা-ঘষিয়াখালী, শংকায় সুন্দরবন’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে। জাতীয় কমিটির উপদেষ্টাম-লীর সদস্য হাজী মোহাম্মদ শহীদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, সিটিজেন্স রাইট্স মুভমেন্টের মহাসচিব তুসার রেহমান ও উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্যসচিব আমিনুর রসুল বাবুল।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিআইডব্লিউটিএর সাবেক পরিচালক এমদাদুল হক বাদশা, জাতীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক জসি সিকদার, যাত্রী অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথে সারা বছর জাহাজ চলাচলের উপযোগী নাব্যতা সংরক্ষণসহ সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখা এবং নদী ও নৌপথ সুষ্ঠুভাবে খননের স্বার্থে আট দফা সুপারিশ উত্থাপন করা হয়।

সুপারিশের মধ্যে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প সংশোধনপূর্বক জোয়ারাধার নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার। প্রকল্পে উল্লেখিত ৮৩টি খালের সঠিক নাম ও এলাকাভিত্তিক প্রকৃত দৈর্ঘ্য নির্ধারণ। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থে চলমান বক্সকালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প বাতিল। বিআইডব্লিউটিএর মংলা-ঘষিয়াখালী খনন কাজ তদারকির জন্য নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ। বিআইডব্লিউটিএর ২৪ নৌপথ খনন প্রকল্পের বর্তমান পরিচালককে অপসারণ। মংলা-ঘষিয়াখালী এলাকায় স্টেট ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সকল সরকারি খালের অবৈধ বাঁধ ও পরিবেশবিনাশী সকল চিংড়ি ঘের উচ্ছেদ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫