ঢাকা, সোমবার,২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রংপুর

মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবাদিক সম্মেলন

রংপুর মহানগর মুক্তিযোদ্ধা বাছাইয়ে অর্থের লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ

পুনরায় যাচাই-বাছাই দাবি

রংপুর অফিস

১৭ মে ২০১৭,বুধবার, ১৬:১৮


প্রিন্ট

রংপুর মহানগর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির করা তালিকাকে ‘অর্থের লেনদেন ও অনিয়মের মাধ্যমে ভূয়া ও অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা’ দাবি করে তালিকাটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ৬নং সেক্টরের যুদ্ধকালীন কোম্পানী কমান্ডার এবং এফ.এফ.জে.এল প্রশিক্ষক-মুজিব ক্যাম্প ও বৃহত্তর রংপুরের সাব সেক্টর সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ বীরঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্বারা।

আজ বুধবার রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে তারা এই দাবি জানান। এসময় তারা যুদ্ধকালীন কমান্ডারগণের সমন্বয়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই এবং ভু মুক্তিযোদ্ধা তৈরীর সাথে জড়িতদের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন। পরে একই দাবিতে ডিসির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।

রংপুর মহানগরীর অধিকার বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যানারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বুধবার দুপুরে রিপোর্টার্স ক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ৬নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার সেকেন্ড ইন কমান্ড এবং ভারতের মুজিব ক্যাম্পের এফ.এফ.জে.এল প্রশিক্ষক মোজাফফর হোসেন চাঁদ। এসময় উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ৬নং সেক্টরের যুদ্ধকালীন কোম্পানী কমান্ডার, সাবেক বৃহত্তর রংপুর ইউনিট কমান্ডর, রংপুর পৌর সভার সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রশাসক অপিল উদ্দিন আহম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন টনু, সৈয়দ মোহাম্মদ শফি, কে এফএম আতোয়ারুজ্জামান, আব্দুল হাকিম সরকার, আজাদুল ইসলাম, জাহেদুল ইসলাম, তাহের আলী, নুরুল ইসলাম, তবারক হোসেন, সুশীল চন্দ্র সিং, রাজেন রায়, বীরাঙ্গনা সুইটি আখতার পুতুলসহ ২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা, মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্ত্রী ও সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রংপুর মহানগর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করার পর ৩০ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই তালিকায় অর্থের বিনিময়ে ও অনিয়মের মাধ্যমে ভু অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা অনলাইনে আবেদনকৃত দালিলিক স্বাক্ষীর মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করলেও যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যগণকে ম্যানেজ করতে না পারায় তা বাদ দেয়া হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, ওই যাচাইবাছাই কমিটিতে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি হিসেবে জসিম উদ্দিন আহমেদকে সদস্য করা হয়। যার ঠিকানা বরিশাল। তিনি ৬নং সেক্টরের কোথাও যুদ্ধ করেননি। তবুও তাকে যাচাই-বাছাই কমিটিতে রাখা হয়েছে। কমিটির যে ২২ জনের লিস্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে তাতে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেন হয়েছে। একারণে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-জামুকার প্রতিনিধি হিসেবে কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম ওই তালিকাতে সাথে ‘দ্বিমত আছে’ উল্লেখ করে সই করেন। বিষয়টি তিনি মহাপরিচালক (জামুকা) বরাবরে লিখিত অভিযোগেও জানান। পরবর্তীতে ডিসি অফিসে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে দ্বিমত আছে কথাটি কাটতে বাধ্য করে একটি ইনিসিয়াল সই নেয়। সেখান থেকে বের হয়ে এসে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করে কোতয়ালী থানায় জিডি করেছেন (জিডি নং-৫৪১, তাং-০৯ মে ২০১৭) এছাড়াও তিনি অর্থের বিনিময়ে ও অনিয়ম করে তালিকা তৈরির জন্য রংপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত কোতয়ালীতে একটি মামলাও করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভারতের মুজিব ক্যাম্পে লঙ্গরখানায় দায়িত্বরত থাকা রংপুর মহানগরীর মোঃ গোলাম মোস্তফা ৩জন প্রত্যক্ষ সাক্ষীসহ যাচাই-বাছাই কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন এবং উপস্থিত হাউজের সকল মুক্তিযোদ্ধা তার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন, কিন্তু শুধুমাত্র কমিটির সদস্যগণকে আর্থিকভাবে ম্যানেজ করতে না পারায় বাছাই তালিকায় তার ঠাঁই হয়নি। একইভাবে মহানগরীর মোঃ জালাল উদ্দিনের পক্ষে ৩ জন সঠিক সাক্ষী দিয়েও তিনি বাছাই তালিকায় স্থান পাননি। অপরদিকে একই সাক্ষী, একই কাগজপত্র দিয়ে অন্য ২ জন বাছাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। শুধুমাত্র কমিটির সদস্যগণকে সন্তুষ্ট করতে না পারায় এমন ঘটনা অহরহ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর যাছাই বাছাই কমিটির তালিকা বাতিল এবং যুদ্ধকালীন কমান্ডারগণের সমন্বয়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই এবং অধিকারবঞ্চিত আবেদনকৃত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাগণকে তালিকাভুক্ত করা এবং তালিকা থেকে ভূয়া ও অমুক্তিযোদ্ধাদের বিতাড়িত করে যারা নিজেদের আখের গোছাতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরী করে চলেছেন সেইসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়।

এ ব্যাপারে কথা বলতে যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মুবিম প্রতিনিধি মনজরুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫