ঢাকা, শুক্রবার,২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নিত্যদিন

ভুতুড়ে ট্রাংক

রকিব হাসান

১৭ মে ২০১৭,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

উনিশ.

সকাল থেকেই মেঘলা ছিল আকাশ। টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে এখন। মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল জুলিয়ার। একটা রিকশা ডেকে বাড়ি ফিরে এলো।
বাকি দিনটা বিছানায় পড়ে রইল সে। শরীর খারাপ হয়েছে ভেবে মা-ও বিরক্ত করলেন না। জুলিয়া একটা কথা বুঝে গেছে, তার মাথা খারাপ হয়নি। চিলেকোঠায় সত্যি কিছু আছে, যে তার ওপর ভর করতে চাইছে। বেশি সময় দিলে পুরোপুরি কাবু করে ফেলবে ওকে ওটা। তারপর কী করবে ওকে নিয়ে? মেরে ফেলবে? গায়েব করে দেবে? রীতার মতো?
ভীষণ বিপদের মধ্যে আছে সে। যতই সময় যাবে, বাড়বে সেটা। বাঁচতে চাইলে যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে। কিন্তু কী করবে? কী করলে শান্তি মিলবে সবিতার অশান্ত আত্মার?
একটা উপায় আছে, এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া। তার জন্য পুরো পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে হোক, এটা চায় না সে। তার বাবা সবে বদলি হয়ে এসেছেন, বেতনও তেমন বেশি পান না যে এখুনি অন্য বাসায় উঠে যাবেন। যেতে হয়তো পারেন, তাহলে অনেক টাকা অহেতুক ব্যয় হয়ে যাবে ভাড়ার পেছনে। তা ছাড়া...তা ছাড়া, আরো একটা ব্যাপার, এই বাড়িটাকে ভালোবেসে ফেলেছে সে-ও। এই অন্ধকারেরও যেন কেমন একটা নেশা রয়েছে। বাইরে দিনের আলো, ঘরের মধ্যে অন্ধকার, বাতি জ্বেলে সব কাজ করতে হয়। তার ওপর নীরবতা। ঢাকা শহরের প্রচণ্ড কোলাহলের খুব সামান্যই পৌঁছায় এখানে। অন্য বাড়িতে গেলে শব্দের চোটেই কান ঝালাপালা হয়ে যাবে হয়তো।
(চলবে)

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫