ঢাকা, মঙ্গলবার,২৭ জুন ২০১৭

অর্থনীতি

বিআইবিএম’র গবেষণা প্রতিবেদন

অর্ধেক ব্যাংক কর্মকর্তাই আইটি নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৬ মে ২০১৭,মঙ্গলবার, ২০:০১


প্রিন্ট


দেশে সাইবার হামলার ঝুঁকি যখন বেড়ে যাচ্ছে তখন বোমা ফাটানোর মতো তথ্য দিলো বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)। আইটি নির্ভর ব্যাংকিং খাতের অর্ধেক কর্মকর্তাই আইটি নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞ।

প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইটি নিরাপত্তা সম্পর্কে ৫০ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তাই অজ্ঞ। যার মধ্যে ২৮ শতাংশ খুবই অজ্ঞ এবং ২২ শতাংশ কিছুটা কম অজ্ঞ। এছাড়া যৎ সামান্য ধারণা রয়েছে ২০ শতাংশ কর্মকর্তার।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরস্থ বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘ব্যাংকে তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা’ শীর্ষক কর্মশালার এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম। কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস. কে. সুর চৌধুরী।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ব্যাংকগুলোতে আইটি নিরাপত্তা সম্পর্কে খুবই ভালো ধারণা রয়েছে মাত্র চার শতাংশ কর্মকর্তার। এছাড়া কিছুটা ভালো ধারণা ১০ শতাংশ এবং মোটামুটি ধারণা রয়েছে ১৬ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তার। ২১টি ব্যাংকের উপর এই জরিপ চালায় বিআইবিএম। যার মধ্যে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১৪টি, রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক তিনটি এবং বিদেশী ব্যাংক তিনটি। বাংলাদেশের ৫৭টি ব্যাংকে প্রায় দুই লাখ কর্মকর্তা রয়েছেন।

বিআইবিএমের প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ৯০ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে। ব্যাংকিং খাতের তথ্য নিরাপত্তা বাধায় আরো কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- নতুন প্রযু্ক্তি সম্পর্কে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অজ্ঞতার অভাব, গ্রাহকদের অসচেতনা, ব্যাংকগুলোর বাইরের আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর অতি নির্ভরশীলতা, ব্যাংকিং খাতে আইটি এক্সপার্টের অভাব, প্রশিক্ষণ না থাকা এবং বাজেটের স্বল্পতা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, সাইবার নিরাপত্তার জন্য গত কয়েক বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিবছর আইটি নিরাপত্তায় রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরো দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এর পরও দেশের অনেক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী নিরাপত্তার মানে পৌঁছাতে পারেনি। এ কারণে ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি এখনও রয়েছে।

কর্মশালায় দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সাইবার সিকিউরিটি ইন ব্যাংক শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাজডেক টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজ আহমেদ। অ্যান এক্সপ্লোরেশন অব দ্যা ডিজিটাল ব্যাংকিং রেভ্যুলেশন ইন বাংলাদেশ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী বলেন, সাইবার ঝুঁকিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এ ধরণের একটি বড় ঝুঁকি ব্যাংকিং খাতে থাকলেও ব্যাংকিং খাতে দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। তাই ভারতের মতো আলাদা প্রতিষ্ঠান গড়ে ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তা না হলে আরো ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক দেবদুলাল রায় বলেন, সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে গাইডলাইনে বেশকিছু পরিবর্তন আনা হবে। আইটি নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ আলী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে আইটি নিরাপত্তা খাতে আরো জোর দিতে হবে। কোনো সংকেত এলেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাংকে অ্যালার্ট ম্যাসেজ দেখলেও ঠেকানোর জন্য দক্ষ জনবল নেই।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫