ঢাকা, শনিবার,২২ জুলাই ২০১৭

কূটনীতি

নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও জঙ্গি হামলার শঙ্কা দূর হয়নি : ডেনমার্ক রাষ্ট্রদূত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

১৬ মে ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:২২


প্রিন্ট

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিকায়েল হেমনিতি উইন্টার বলেছেন, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে গত জুলাইয়ে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলার পর সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও বিদেশী কূটনীতিকদের মন থেকে জঙ্গি হামলার শঙ্কা এখনো দূর হয়নি। কূটনীতিকরা এখনো ঝুঁকি অনুভব করেন। তাদের চলাফেরায় সতর্কতা বজায় রাখতে হয়। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা বহাল রেখেছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতির (ডিকাব) সাথে মতবিনিময়ে তিনি একথা বলেন।

‘ডিকাব টক’ নামে পরিচিত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস।

স্বাগত বক্তব্য দেন ডিকাব সাধারণ সম্পাদক পান্থ রহমান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, গুলশান হামলার মত ঘটনা বাংলাদেশে আর না ঘটায় বিদেশী কূটনীতিকরা মানসিকভাবে স্বস্তি অনুভব করছেন। পাশাপাশি এই অনুভূতিও তাদের রয়েছে যে বিদেশীরা এখনো জঙ্গি হামলার হুমকিতে আছেন। অবশ্য এই ঝুঁকি পৃথিবীর অনেক দেশেই আছে। বিশ্বের ১৪০টি দেশ কম-বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা কার্যক্রম ভালো।

সুন্দরবনের নিকটবর্তী স্থান রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণে বিশেষজ্ঞ মতামত নেয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি জানি ইস্যুটি নিয়ে বির্তক রয়েছে। দেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ যেমন জরুরি, তেমনি পরিবেশ সুরক্ষার ভাবনাও ছেটে ফেলা যাবে না। তাই রামপালে বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া প্রয়োজন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, চার দশক আগের তুলনায় বিশ্ব অনেকটাই বদলে গেছে। সে অনুযায়ী চিন্তা করতে হবে। উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেটা প্রকৃতিকে সংকটে ফেলে নয়।

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে উইন্টার বলেন, এটি একটি জটিল সমস্যা। এ ধরনের ইস্যুতে সব সময় আন্তর্জাতিক কনভেনশনগুলোর প্রতি দৃষ্টি রেখে পদক্ষেপ নিতে হয়। রোহিঙ্গা ইস্যু মিয়ানমারের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। আমরা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমস্যাটি নিরসনে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ডেনমার্ক মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে ডেনমার্ক বাংলাদেশের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে সংকটের মুখে রয়েছে বাংলাদেশ, তা থেকে এখানকার মানুষকে রক্ষার কাজও করে চলেছে দেশটি।

উইন্টার বলেন, দারিদ্র্য নিরসন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ডেনমার্ক বাংলাদেশে পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, কৃষি, মানবাধিকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই ডেনমার্কের সহযোগিতার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সবুজ প্রবৃদ্ধি অর্জনে ডেনমার্কের অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে ডেনমার্কের দক্ষতা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ডেনমার্ক ২০৫০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বিদেশী বিনিয়োগ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, জিডিপির আকার অনুযায়ী বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ আশানুরুপ নয়।

গত বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর ডেনমার্ক সফরের সময় দুই দেশ সবুজ প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশিষ্ট বিষয়ে একসাথে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। ডেনমার্কে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ভোগ করায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশটিতে তৈরি পোশাক বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য হলেও ওষুধ, সিরামিক ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার খোঁজা হচ্ছে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫