ঢাকা, শনিবার,২২ জুলাই ২০১৭

স্বাস্থ্য

পিত্তনালীর ক্যান্সার

ডা: মো: সহিদুর রহমান

১৬ মে ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৪:৩৭


প্রিন্ট

এটি একটি মারাত্মক ব্যাধি। পিত্তনালীর কাজ হলো লিভার থেকে পিত্তরস প্রবাহ করা। এই পিত্তরস খাবারের হজমে সাহায্য করে। লিভার প্রতিদিন পিত্তরস তৈরি করছে। এই রস পিত্তনালীতে জমা হচ্ছে। যখন প্রয়োজন পড়ে তখন এই রস পিত্তথলি থেকে বের হয়ে ডিওডেনামে যায়। এই রস সাধারণত চর্বিজাতীয় খাবারের পরিপাকে ব্যবহার হয়।
শ্রেণী বিভাগ : পিত্তনালীর টিউমারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়- (১) বেনাইন, (২) ম্যালিগন্যান্ট। (১) বেনাইন, (২) ম্যালিগন্যান্ট। ১. বেনাইন টিউমার : সাধারণত ক্ষতিকারক নয়। এখানে দুই ধরনের টিউমার আছে- এডেনোমা ও প্যাপিলোমা।
২. ম্যালিগন্যান্ট টিউমার : যা কোলানজিওকারসিনোমা নামে পরিচিত। যেকোনো বয়সে এই রোগ হয়। তবে ৫০-৬০ বছরে এই রোগের হার বেশি। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের অধিক মাত্রায় হয়। কারণ : ১. প্রকৃত কারণ জানা নেই। ২. ২০-৫০ শতাংশ রোগীর পিত্তপাথর থাকলে এই রোগ দেখা দেয়। ৩. পিত্তরসে লবণ থাকে, যা এই রোগের কারণ হিসেবে ধরা হয়। ৪. যাদের টাইফয়েড জ্বর হয় তাদের এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ৫. কেঁচোকৃমি এই রোগের কারণ।
লক্ষণ : ১. পেটে ব্যথা : প্রথম দিকে বুকের মাঝখানে হালকা ব্যথা অনুভূত হয়। ব্যথা স্বল্পস্থায়ী হয়। দিনে দিনে রোগ বৃদ্ধি হতে থাকলে ব্যথার তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। অল্প ব্যথা ওষুধ খেলে চলে যেত। এখন আর ওষুধে কাজ হয় না।
২. জন্ডিস : শুরুতে হালকা জন্ডিস থাকে। জন্ডিসের মাত্রা কখনো কম, কখনো বেশি মনে হয়। রোগ অ্যাডভান্স হলে জন্ডিস আর কমে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। হেপাটিককমায় চলে যায়। ৩. খাওয়ার অরুচি। ৪. বমি ও বমি বমি ভাব। ৫. শরীরের ওজন কমে যায়। ৬. সমস্ত শরীর, চোখ, প্রস্রাব হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
পরীক্ষায় : ১. আলট্রাসাউন্ড : যা একটি অতীব সাধারণ পরীক্ষা। খরচও আওতার মধ্যে। দ্রুত রোগ নির্ণয় করা যায়। অনেক সময় অনেক টেস্ট ও সময় দিয়ে পরীক্ষা করা লাগে না, যা রোগ নির্ণয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
২. সিটিস্ক্যান : পিত্তনালীর রোগ নির্ণয়ে এর গুরুত্ব অনেক। এটি ফাইননিডল বায়োপসি করতে সাহায্য করে।
৩. ইআরসিপি : সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা। টিউমারের অবস্থান দৈর্ঘ্য নির্ণয়ে যথেষ্ট সহায়ক।
৪. পিটিসি বা পিটিবিডি : সামগ্রিক রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন। পিটিবিডি একটি পদ্ধতির নাম, যার দ্বারা পিত্তরস লিভারের ভেতর দিয়ে পিত্তনালীতে পৌঁছে ড্রেন করা হয়। এটির প্রচলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইআরসিপির দ্বারা স্টেন্ট ঢুকাতে ব্যর্থ হলে লিভারের ভেতর প্রবেশ করে বিকল্প পথ তৈরি করা হয় এবং লিভারকে পূর্ণ স্বাভাবিক করে তার পরে অপারেশনে গেলে সফলতা অনেক বেশি পায়।
চিকিৎসা : সার্জারি একমাত্র চিকিৎসা। সফলতা নির্ভর করে ক্যান্সার কতটুকু বিস্তার লাভ করেছে। জন্ডিস হয়েছে মনে করে, আমাদের দেশের লোকেরা সময় নষ্ট করতে থাকে, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে থাকে। ফলে ক্যান্সার বিস্তার ঘটতে থাকে। যা এক সময় অপারেশন- অযোগ্য হয়ে পড়ে। যদি এই ক্যান্সার শুরুতে নির্ণয় করা যায় এবং ক্যান্সার বিস্তার ঘটেনি এই পর্যায়ে পাওয়া যায়, তবে দ্রুত সার্জারি করলে আরোগ্য লাভ সম্ভব। দীর্ঘ দিন আয়ু বাড়বে।
উপসংহার : যেহেতু জন্ডিসই এই রোগের প্রথম উপসর্গ। তাই জন্ডিস মনে করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন। রোগ নির্ণয় সঠিক হলে এবং সঠিক চিকিৎসা দিতে পারলে আপনি আরোগ্য লাভ করবেন। আপনার পরিবার বাঁচবে। অযথা সময়ক্ষেপণ করবেন না, জন্ডিস নিয়ে বসে থাকবেন না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫