চোখের জ্বালাপোড়া

ডা: আবু আহনাফ

কনজাংটিভাইটিসের প্রধান কারণ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সংক্রমণ। এ ছাড়া অ্যালার্জি অথবা কন্টাক্ট লেন্স সম্পর্কিত জটিলতাও এর জন্য দায়ী। শরীরের কোথাও জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলে আপনি আপনার হাত দিয়ে সেগুলো চুলকালে এবং ওই হাত কোনোভাবে চোখে লাগলে তাহলে ওই জীবাণু চোখে গেল এবং চোখে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া শুরু হয়ে গেল

চোখ জ্বালাপোড়া কমবেশি সবারই হয়ে থাকে। চোখের অন্য কোনো সমস্যা থেকে লক্ষণ হিসেবে জ্বালাপোড়া করে থাকে। এসব সমস্যার মধ্যে সাধারণভাবে ড্রাই আই সিনড্রম অন্যতম। আরো রয়েছে কনজাংটিভাইটিস, ব্লেফেরাইটিস, পিঙ্ক আই, অ্যালার্জি, ফটো ফোবিয়া, রোজেসিয়া, ওয়েজনার’স গ্র্যানুলোম্যাটোসিস ইত্যাদি। পরিবেশগত কারণেও চোখ জ্বালাপোড়া করে থাকে। যেমন- ধুলোবালি, রোদ, ধূমপান, বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। অ্যালার্জি হিসেবে রয়েছে পরাগরেণু, ধুলা, মোল্ড, পশুর পশম ইত্যাদি। নানা ধরনের সুগন্ধি দ্রব্যও চোখ জ্বালার কারণ হয়ে থাকে। বয়সজনিত কারণে শরীর তার তেলগ্রন্থির নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। ফলে চোখে শুকনো ভাবের সৃষ্টি হয়। এর জন্য চোখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। কোনো কোনো ওষুধ সেবনের কারণেও চোখ জ্বালাপোড়া করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে হবে।
অসম্ভব চোখ জ্বালা হয় কনজাংটিভাইটিস হলে। কনজাংটিভাইটিসের প্রধান কারণ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সংক্রমণ। এ ছাড়া অ্যালার্জি অথবা কন্টাক্ট লেন্স সম্পর্কিত জটিলতাও এর জন্য দায়ী। শরীরের কোথাও জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলে যেমন- ব্যাকটেরিয়ার কারণে চামড়ায় ইনফেকশন হলে, অর্থাৎ ধরুন কারো চামড়ায় ফোঁড়া বা চুলকানি হয়েছে। আপনি আপনার হাত দিয়ে সেগুলো চুলকানো এবং ওই হাত কোনোভাবে চোখে লাগল কিংবা ওই হাত দিয়ে চোখ চুলকালেন, তাহলে ওই জীবাণু চোখে গেল এবং চোখ চুলকানি ও জ্বালাপোড়া শুরু হয়ে গেল। অথবা কারো চোখ উঠেছে, এমন ব্যক্তির রুমাল বা তোয়ালে ব্যবহার করলেও চোখে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে। ফলে কনজাংটিভাইটিস হয়ে চোখ জ্বালা হতে পারে। আমাদের মতো দেশে ‘ব্যাসিলাই’ নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে অ্যাপিডেমিক কনজাংটিভাইটিস হয়ে থাকে, যা অত্যন্ত মারাত্মক আকার ধারণ করে মহামারী রূপে দেখা দেয়।
গনোরিয়া এক ধরনের মারাত্মক যৌনরোগ। এর জীবাণুর নাম নাইসেরিয়া গনোরিয়া। গনোরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের এ জীবাণুর সংক্রমণে কনজাংটিভাইটিস হতে পারে। এ ধরনের রোগীদের প্রথমে ডান চোখ এবং পরে বাম চোখে সংক্রমণ ঘটে। গনোরিয়া আক্রান্ত কোনো মহিলা যখন সন্তান প্রসব করে তখন তার শিশুটি ওই জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়; যাকে বলা হয় অপথ্যালমিয়া নিওনেটোরাম বা নবজাতকের চোখ ওঠা। বড়দের মতো শিশুটিরও তখন অন্যান্য লক্ষণের সাথে চোখ জ্বালা করে।
যেসব ভাইরাসে চোখ প্রদাহ ঘটে থাকে তারমধ্যে রয়েছে হারপিস ও অ্যাডোনা ভাইরাস। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও আরেকটি জীবাণুর সংক্রমণে চোখে প্রদাহ হয়ে থাকে যার নাম ‘ক্ল্যামিডিয়া’। ব্যাকটেরিয়ার অনুপাতে এরা অনেক ছোট এবং ভাইরাসের অনুপাতে বড়। কিন্তু দুটোর বৈশিষ্ট্যই ক্ল্যামিডিয়ায় বিদ্যমান। এদের আক্রমণে ট্র্যাকোমা হয়, যা এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী চোখ ওঠা এবং সময়মতো এর চিকিৎসা না হলে বছরের পর বছর তা থাকতে পারে। সাধারণত যারা অস্বাস্থ্যকর আবহাওয়ায় বসবাস করেন তাদেরই ট্র্যাকোমা বেশি হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই ট্র্যাকোমা ঠেকানোর প্রধান উপায়। এই রোগ অত্যন্ত সংক্রামক। আঙুলের স্পর্শ বা ব্যবহৃত রুমাল-তোয়ালে থেকে সহজেই অন্যদের চোখে তা সংক্রমিত হতে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনধারাই এ রোগ ঠেকাতে পারে।
ব্লেফ্যারাইটিসের কারণেও চোখে জ্বালা হতে পারে। সব বয়সের মানুষেরই এটা হতে পারে। অসংক্রামক বলে পরিচিত এ রোগ ব্যাকটেরিয়ার কারণেও সংক্রমিত হতে পারে। ফটোফোবিয়ার সাথে সম্পর্কিত সমস্যাগুলো হলো- কালার ভিশন ডিফেক্টস, কনজাংটিভাইটিস, ক্যারাটাইটিস ও আইরিটিস ইত্যাদি। এর কারণে ড্রাই আই সিনড্রমও তৈরি হতে পারে।
চোখ জ্বালাপোড়ার সাথে পরিবেশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ধুলোবালি, নোংরা আবর্জনা, ধূমপান, রোদের প্রখরতা, রাসায়নিক দ্রব্য ও আবহাওয়াগত প্রভাব ইত্যাদি অনেক কিছুই জড়িত। তাই চোখের সমস্যায় সময় মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ বাঞ্ছনীয়। আলোচনায় জেনেছি, সংক্রমণের মাধ্যমেই চোখের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। তাই সংক্রামক রোগ থেকে বাঁচার জন্য অনন্য পথ হলো স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন থাকা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.