ঢাকা, সোমবার,১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

স্বাস্থ্য

টেনশন থেকে শরীরের ক্ষতি

ডা: মনিরুজ্জামান

১৬ মে ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৪:০৯


প্রিন্ট

আধুনিক সভ্যতার অগ্রযাত্রার সাথে সাথে মানুষের শরীরেও ব্যাপকভাবে দেখা দিচ্ছে নানা অসুখ-বিসুখ। এগুলোর কারণ কোনো জীবাণু নয়, ভিটামিনের ঘাটতিও নয়, বিশেষ অঙ্গের বৈকল্যও নয়। বরং এসব অসুস্থতার কারণ দৈনন্দিন জীবনের নানা উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ, বিষণœতা।
স্নায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, টেনশন বা উৎকণ্ঠা বা স্ট্রেস হচ্ছে এমন একটি রোগ প্রক্রিয়া বা মানসিক অবস্থা যা ব্রেইনের বাস্তব কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে শারীরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে মানুষকে অসুস্থ করে তোলে।
মানুষের প্রায় প্রতিটি অসুখের পেছনে মানসিক চাপের কিছু না কিছু ভূমিকা আছে। ডা: হার্বাট বেনসন ও ডা: অ্যাডমন্ড জ্যাকবসন মনোদৈহিক রোগের এক দীর্ঘ তালিকা তৈরি করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিষণ্নতা, বদমেজাজ, অনিন্দ্রা উচ্চ রক্তচাপ। হৃদরোগ, বাতব্যথা, পেপটিক আলসার, বহুমূত্র, হাঁপানি, আলসারেটিভ, কোলাইটিস বা পেটব্যথা, আমবাত, মাইগ্রেন, প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া বা মাসিকের সময় পেটব্যথা।
চিকিৎসা : শরীরের কোনো রোগের জন্য যেমন অপারেশন, ওষুধ বা ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হয় মনোদৈহিক রোগের ক্ষেত্রেও শারীরিক চিকিৎসার সাথে সাথে মনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। মনের চিকিৎসাকে বলা হয় সাইকোথেরাপি। যোগাসন, মেডিটেশন বা ধ্যান, প্রাণায়াম ইত্যাদির মাধ্যমে সাইকোথেরাপি করা হয় এবং এতে উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ফল পাওয়া যায়।
মেডিটেশন বা ধ্যানের স্তরে অটোসাজেশন এবং ইমেজথেরাপি বা মনছবি মনোদৈহিক রোগ নিরাময়ে কার্যকরী পন্থা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পরিশেষে মনোদৈহিক রোগ থেকে মুক্তির জন্য এবং এ ধরনের রোগ প্রতিরোধের জন্য যা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হলো সঠিক জীবনদৃষ্টি। ঈর্ষা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্ষোভ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে প্রো-অ্যাকটিভ বা স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনই এসব রোগ থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে।
লেখক : কো-অর্ডিনেটর, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, শান্তিনগর, ঢাকা

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫