ভুতুড়ে ট্রাংক

রকিব হাসান
আঠার.

হইচই শোনা গেল। বাস্তবে ফিরে এলো জুলিয়া। দেখল, সহপাঠীরা অবাক হয়ে তাকাচ্ছে ওর দিকে। মিসেস জামান বললেন, ‘জুলিয়া, তুমি বাড়ি চলে যাও। তোমার শরীর খারাপ।’
সহপাঠীদের দৃষ্টি সহ্য করতে পারল না জুলিয়া। বইখাতা হাতে নিয়ে বেরিয়ে এলো। তবে বাড়ি গেল না। কী হয়েছিল জানতে ইচ্ছে করছে। কমনরুমে এসে এক কোণে বসে রইল চুপচাপ। ঘণ্টা বাজল। শেষ হলো একটা কাস। আরো পনেরো সেকেন্ড সময় দিয়ে কমন রুম থেকে বেরোল সে। নিজের কাসে এসে দেখল, টিচার বেরিয়ে গেছেন কি না। বাইরে থেকেই ইশারায় শিউলিকে ডাকল।
বারান্দায় বেরিয়ে এলো শিউলি। ‘তুমি যাওনি?’
‘না। কী করেছিলাম জানতে ইচ্ছে করছে।’
অবাক দৃষ্টিতে তাকাল শিউলি। ‘সত্যি কিছু মনে নেই তোমার?’
‘না।’
‘কী বলেছ, কিছুই মনে নেই?’
নীরবে মাথা নাড়ল জুলিয়া।
ভুরু কুঁচকে দীর্ঘ একটা মুহূর্ত জুলিয়ার দিকে চেয়ে রইল শিউলি। ‘তুমি বলেছ, চেঁচিয়ে বলেছÑ আশীষ, তুমি এ কাজটা কী করে করতে পারলে আমার সঙ্গে! আমি তোমার পথ চেয়ে বসে থেকেছি, কত দিন বসে থেকেছি...’
‘আর কিছু?’
‘না। ওই যে, টিচার এসে গেছেন, যাই। তুমি বাড়ি চলে যাও। একা যেতে পারবে? না পারলে টিচারকে বলে দিয়ে আসি তোমাকে?’
‘না, লাগবে না, পারব।’
(চলবে)

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.