ঢাকা, বুধবার,২৬ জুলাই ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

নির্বাচনকালীন সরকার ভাবনা

ইকতেদার আহমেদ

১৫ মে ২০১৭,সোমবার, ২০:২০


ইকতেদার আহমেদ

ইকতেদার আহমেদ

প্রিন্ট

দলীয় সরকারবহির্ভূত বাংলাদেশে চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ চারটি নির্বাচন হলো কর্মরত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচন, সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত সপ্তম ও অষ্টম সংসদ নির্বাচন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের নেতৃত্বাধীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচন। উপরি উক্ত চারটি নির্বাচনের মধ্যে সপ্তম ও অষ্টম সংসদ নির্বাচন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত বিধানাবলির অনুসরণে অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চম সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠান পরবর্তী সংবিধানের একাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কর্মরত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকারকে বৈধতা দেয়া হয়। নবম সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠান পরবর্তী অদ্যাবধি সংসদ কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের নেতৃত্বাধীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বৈধতা দেয়া না হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত মামলায় আপিল আদেশে অপ্রাসঙ্গিক আলোচনার অবতারণাক্রমে আদালত কর্তৃক এটিকে বৈধতা দেয়া হয়।
উপরে উল্লিখিত চারটি নির্বাচনের মধ্যে পঞ্চম ও অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) বিজয়ী হয়, অপর দিকে সপ্তম ও নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। উপরি উক্ত চারটি নির্বাচনের কোনোটিরই বিজিত দল পরাজয় স্বীকার করে বিজয়ী দলের প্রধানকে অভিনন্দন জানায়নি বরং নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এমন অভিযোগে সংসদ অধিবেশনে যোগদান হতে নিজেদের বিরত রাখে।
বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও দশম এ ছয়টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও দশম এ চারটি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ছিল না। উপরি উক্ত ছয়টি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের মধ্যে প্রথম পাঁচটির কোনোটিই নির্ধারিত মেয়াদকাল পূর্ণ করতে পারেনি। ষষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদটি বর্তমানে বহাল আছে এবং এটির মেয়াদকাল পূর্ণ করলে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ অক্টোবর হতে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান-পূর্ববর্তী আদালত কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম ও ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষিত হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদ বহাল থাকাবস্থায় দলীয় সরকারের অধীন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান প্রবর্তন করে। এ বিধান প্রবর্তন-পরবর্তী অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন দেশের প্রধান দু’টি দলের একটি দল বিএনপি বর্জন করে। নির্বাচন বর্জনের পেছনে বিএনপির মূল যুক্তি দলীয় সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। ইতঃপূর্বে একই যুক্তিতে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফলে এ দেশে সাংবিধানিকভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের বড় দু’টি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে নির্বাচনবিষয়ক যে বিরোধ তা হলো একটি সরকারের মেয়াদ অবসান-পরবর্তী কোন ধরনের সরকারের অধীন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে সংবিধানের বর্তমান যে বিধান তাতে মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংসদের নির্ধারিত মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিধানাবলি অনুসরণে ইতোমধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগে উল্লেখ করা হয়েছে বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ হতে বিরত থাকে।
ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনের মতো দশম সংসদ নির্বাচনটি অস্বচ্ছ, কলুষিত ও গোলযোগপূর্ণ ছিল। এ দু’টি নির্বাচনের প্রথমোক্তটি আওয়ামী লীগ এবং শেষোক্তটি বিএনপি বর্জন করে। প্রথমোক্ত নির্বাচনটি অনুষ্ঠান পরবর্তী তৎকালীন বিএনপি সরকার দেশের অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আওয়ামী লীগের দাবি মেনে নিয়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান প্রবর্তনপূর্বক ওই সংসদ বাতিল করে। অতঃপর যথারীতি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে বিএনপির আন্দোলন ও নির্বাচন বর্জনের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায় থেকে বলা হয়েছিল নিছক সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষার্থে এ নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং নির্বাচনটি অনুষ্ঠান পরবর্তী স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। নির্বাচন অনুষ্ঠান-পরবর্তী দেখা গেল আওয়ামী লীগ তার শীর্ষ নেতৃত্বের পূর্বাবস্থান থেকে সরে এসে বলতে শুরু করেছে নির্ধারিত মেয়াদঅন্তে যথারীতি সংবিধানের বিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীন ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের শেষ দিকে অথবা ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দশম সংসদ নির্বাচনে একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্যের মধ্যে ১৫৪ জন সদস্য বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের জন্য উন্মুক্ত অর্ধেকেরও অধিকসংখ্যক আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলে সে ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধিবিধান অনুসরণপূর্বক সংসদ গঠিত হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উদয় অমূলক নয়।
একাদশ সংসদ নির্বাচন দশম সংসদ নির্বাচনের মতো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর অধীন অনুষ্ঠিত হলে এখন পর্যন্ত বিএনপির যে অবস্থান তাতে ধারণা করা যায় দলটি নির্বাচনটিতে অংশগ্রহণ হতে বিরত থাকবে। এ দিকে দলীয় সরকারের অনুপস্থিতিতে কোন ধরনের সরকারের অধীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে বিএনপির অবস্থান এখনো সুস্পষ্ট নয়। বিএনপির একটি অংশ বাতিলকৃত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্জীবিতের মাধ্যমে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির অধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সপক্ষে। বিএনপির এ দাবি মেনে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হলে সে ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের আবশ্যকতা দেখা দিবে। বর্তমান সংসদে বিএনপির উপস্থিতি নেই। এমতাবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের আকাক্সক্ষার বিপরীতে সংসদের বাইরে থেকে এ দাবি বাস্তবায়ন কঠিন ও দুরূহ। প্রণিধানযোগ্য যে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যকলাপ বিষয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলের অবস্থান সুখকর নয়। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে পরাজিত বিএনপির কাছে যেমন এ সরকারটির প্রধান নির্বাচন-পরবর্তী অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়েন অনুরূপ অষ্টম সংসদ নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামী লীগের কাছে এ সরকারটির প্রধান নির্বাচন-পরবর্তী অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়েন অথচ নির্বাচন-পূর্ববর্তী উভয় দলের কাছে এরা উভয়ে সমভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল। তা ছাড়া অষ্টম সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চাদালতের বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়িয়ে নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার যে প্রয়াস নেয়া হয়েছিল ওই সংশোধনীটি বহাল থাকার কারণে এর রেশ অক্ষুণœ থাকায় অনুরূপ পছন্দের ব্যক্তির তত্ত্বাবধায়কের প্রধান হওয়ার অবকাশে কোনোরূপ ছেদ ঘটেনি।
বিএনপির অপর একটি অংশ তত্ত্বাবধায়কের পরিবর্তে সহায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বললেও এ সরকারের রূপরেখা কেমন হবে সে বিষয়টি অদ্যাবধি স্পষ্ট করেনি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর অধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানে আগেকার মতো অনড় থাকলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অন্তরায় দেখা দিবে। দেশের স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির স্বার্থে এ ধরনের অন্তরায় অনাকাক্সিক্ষত, অপ্রত্যাশিত ও অনভিপ্রেত। আর তাই নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে বড় দু’টি দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সংলাপ বা আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়ে নির্ধারণ করতে হবে কোন ধরনের সরকারের অধীন কী পদ্ধতিতে আসন্ন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদের যেকোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ইতঃপূর্বে দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন কমিশন দলীয় সরকার বহাল থাকাকালে যেসব নির্বাচন পরিচালনা করেছে এর প্রতিটিতেই দলীয় সরকারের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। সম্প্রতি যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে এটিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যার স্থান হয়েছে তার রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশিত হওয়ার কারণে তিনি যে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সমর্থ হবেন এ বিষয়ে অন্ততপক্ষে বিএনপি আশ্বস্ত হতে পারছে না। তা ছাড়া কমিশনার হিসেবে যাদের নেয়া হয়েছে এদের অন্তত তিনজনের সামর্থ্য ও দক্ষতা বিষয়ে যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে তা নিরসনে তাদের পদক্ষেপ আশাব্যঞ্জক নয়। এমতাবস্থায় ক্ষমতাসীন সরকার প্রকৃত অর্থেই সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রত্যাশী হলে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন প্রধান বিবেচ্য।
নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও আমাদের পাশের রাষ্ট্র ভারত আমাদের দেশের নির্বাচন বিষয়ে সবসময়ই তৎপর। তাদের এ তৎপরতার বিষয় আমাদের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টি প্রধানের বক্তব্য হতে স্পষ্ট প্রতিভাত। ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি আক্ষেপ করে বলেছেন, ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা জঅড বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। তার এ বক্তব্য পরবর্তী ভারত সরকার বা জঅড-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অদ্যাবধি কোনো প্রতিবাদ না করায় বক্তব্যটি যথার্থ বিবেচিত হয়। দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান পূর্ববর্তী ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব বিশেষ বিমানে ঝটিকা সফরে ঢাকা এসে জাতীয় পার্টির প্রধানের সাথে মতবিনিময়কালে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে এ দেশে মৌলবাদের উত্থান ঘটবে। মৌলবাদের উত্থান বলতে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব বিএনপি ও জামায়াতের বিজয়ী হওয়াকে বুঝিয়েছেন। এর প্রায় বছরখানেক পর ভারতে যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেটিতে দেখা গেল উগ্র, সাম্প্রদায়িক ও হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি বিজয়ী হয়েছে। সুতরাং যে দেশ নিজ দেশে মৌলবাদ উত্থানে ব্যর্থ সে দেশ কী করে তার পাশের দেশে তথাকথিত মৌলবাদের উত্থানের আশঙ্কা ব্যক্ত করে তা বোধগম্য নয়।
পৃথিবীর প্রায় সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই ক্ষমতাসীন সরকারের অধীন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের দেশে বড় দু’টি রাজনৈতিক দল যথা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস না থাকার কারণে সেটি এখনো গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। তা ছাড়া আমাদের দেশে দলীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর কোনোটিই বিজিত দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। এমতাবস্থায় দলীয় সরকার বা সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচন আগের মতো বিতর্কের জন্ম দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য যে অন্তরায় হিসেবে দেখা দিবে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের এ পথ পরিহারই কাম্য। এখন প্রশ্নের উদয় হতে পারে সে ক্ষেত্রে কোন ধরনের সরকারের অধীন আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হলে আলোচনার বিকল্প নেই এবং সে আলোচনা অবশ্যই হতে হবে বড় দু’টি দল কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে। আর আলোচনা ব্যতিরেকে বাইরে থেকে যেকোনো দলের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের প্রস্তাব সমাধানের পথে না এগিয়ে বিতর্ককেই দীর্ঘায়িত করবে।লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান ও রাজনীতি বিশ্লেষক

E-mail : iktederahmed@yahoo.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫