ইইউ’র বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধার এসিড টেস্ট বৃহস্পতিবার : রাষ্ট্রদূত মায়াদু

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু বলেছেন, ইইউ’র বাজারে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল থাকার বিষয়টি আগামী বৃহস্পতিবার পর্যালোচনা করা হবে। এটি হবে বাংলাদেশের জন্য এসিড টেস্ট। এ ইস্যুতে বাংলাদেশ ‘স্পেশাল প্যারাগ্রাফ’র অধীনে রয়েছে। এটা খুব একটা ভালো খবর নয়।

আজ সোমবার মেট্রোপলিটন শিল্প ও বণিক সমিতির (এমসিসিআই) মধ্যাহ্ন ভোজসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত না হলে ইইউ’র ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী হবে না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখনও বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। ব্যবসায় খরচের (কস্ট অব ডুইং বিজনেস) ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরো অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, ট্রেড ইউনিয়ন চালুসহ আইনি কাঠামোতে বেশ কিছু সংস্কার করা না হলে ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আসবে না।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ইইউ’র বাজারে বিনা শুল্কে অস্ত্র ছাড়া সবকিছু (ইবিএ) রফতানির সুযোগ পাচ্ছে। স্বল্পোন্নত ৪৯টি দেশ ইইউ’র বাজারে ইবিএ সুবিধা পাচ্ছে। আর বাংলাদেশ এই সুবিধাকে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারছে। আগামীতে এ সুবিধা অব্যাহত রাখতে হলে জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত ২৭টি কনভেনশন বাংলাদেশকে মেনে চলতে হবে।

বৈশ্বিক সামাজিক নিরাপত্তা, সুশাসন ও প্রযুক্তির উন্নয়ন- এই তিনটি বিষয়ে বাংলাদেশ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক কারখানার অগ্নিনির্বাপন ও ভবন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ট্রেড ইউনিয়ন চালুর ক্ষেত্রে এখনও বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। বাংলাদেশকে এসব সমস্যা সমাধানে আরো উদ্যোগী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে ইইউ একক বৃহত্তম বাজার। ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট রফতানির প্রায় ২৪ শতাংশই হয়েছে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ইইউ’র অংশীদারিত্বের সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.