ঢাকা, বুধবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অর্থনীতি

তিনমাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে ডিএসই সূচক

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৫ মে ২০১৭,সোমবার, ১৯:৩১


প্রিন্ট

পতন থামছে না পুঁজিবজারের। উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ ছাড়াই প্রতিদিন দরপতনের ঘটনা ঘটছে পুঁজিবাজারগুলোতে।
আজ সোমবার এ পতন গড়াল সপ্তম দিনে। সংশ্লিষ্টরা চলমান বাজার আচরণকে স্বাভাবিক সংশোধন মনে করলেও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারিদের একটি বড় অংশই ইতোমধ্যে তাদের পুঁজির ১০ থেকে ২০ শতাংশ হারিয়ে বসে আছেন।

প্রসঙ্গত: সর্বশেষ গত ৩ মে বুধবার দেশের দুই পুঁজিবাজারে সূচকের উন্নতি ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার থেকেই পতন শুরু। মাঝখানে পুরো একটি সপ্তাহ পতনের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকার পর এ সপ্তাহের প্রথম দু’টি কার্যদিবসও একইভাবে পার করলো পুঁজিবাজারগুলো। আর এ সাত দিনে প্রধান সূচকের ১১৬ পয়েন্টের বেশি হারায় ডিএসই। এর আগে গত ৫ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল ১০ কার্যদিবস টানা অবনতির শিকার ছিল দেশের পুঁজিবাজারগুলো। ওই ১০ দিনে ডিএসই সূচক হারায় ৩৪০ পয়েন্টের বেশি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আজ ৩২ দশমিক এক পয়েন্ট হ্রাস পায়। পাঁচ হাজার ৪৬০ দশমিক সাত পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি আজ দিন শেষে স্থির হয় পাঁচ হাজার ৪২৮ দশমিক পাঁচ পয়েন্টে। আর এভাবে গত তিনমাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে ডিএসই সূচক। গত ৮ ফেব্রুয়ারির পর আর এত নিচে নামেনি ডিএসইএক্স সূচকটি। অন্য দু’টি সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৬২ ও আট দশমিক ৬৩ পয়েন্ট।

দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৮৫ দশমিক ৫০ ও ৫৩ দশমিক এক পয়েন্ট। এখানে সিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় নয় দশমিক দুই পয়েন্ট।
সূচকের অবনতির এ দিনে কমেছে ডিএসইর লেনদেনও। দেশের প্রধান এ পুঁজিবাজারটি আজ ৫৩৭ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ১৩ কোটি টাকা কম। রোববার ডিএসই’র লেনদেন ছিল ৫৫০ কোটি টাকা। তবে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে আগের দিনের ২৯ কোটি টাকায় স্থির ছিল লেনদেন।

সূচক ও লেনদেনের টানা অবনতি নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বাজারের সাথে সম্পৃক্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের। সক্ষমতার দিক থেকে পিছিয়ে থাকা এসব বিনিয়োগকারিরা ইতোমধ্যে তাদের মূলধনের একটি বড় অংশ হারিয়েছেন। পতনের এ ধারা অব্যাহত থাকলে তাদের সীমিত মূলধনের পুরোটাই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে এমনটিই আশঙ্কা তাদের।

আজ ডিএসই’র শীর্ষস্থানীয় এ ব্রোকার হাউসে কয়েকজন বিনিয়োগকারির সাথে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললে তারা নয়া দিগন্তকে এ আশঙ্কার কথা জানান।

তারা বলেন, গত একমাসেরও বেশি সময় ধরে বাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। মাঝখানে কয়েকদিন দরপতন থামলেও তারা লোকসানের মুখে হাতে থাকা শেয়ার ছাড়েননি। কিন্তু পরবর্তিতে বাজারে আবারও পতন শুরু হয়। আর এরি মধ্যে তারা তাদের মূলধনের প্রায় ২০ শতাংশ হারিয়েছেন। আর যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেন তাদের অবস্থা আরো খারাপ। যেকোনো সময় ঋণ প্রদানকারি প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে ঋণ সমন্বয় করে নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে মূলধনের পুরোটাই ঝুঁকি মধ্যে পড়বে।

রোববারের মতো আজও লেনদেন শুরুর আধঘণ্টার মধ্যে বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে বাজারগুলো। ঢাকা শেয়ারবাজারে পাঁচ হাজার ৪৬০ দশমিক সাত পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স সূচকটি সকাল ১১টা পর্যন্ত আগের দিনের অবস্থান ধরে রাখলেও পরবর্তিতে বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে সূচকের অবনতি ঘটতে শুরু করে। বেলা পৌণে ১২টায় ডিএসই সূচক নেমে আসে পাঁচ হাজার ৪৩৩ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের ২৭ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। বেলা ১২টার পর সূচক কিছুটা ঊর্ধমুখি হলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দুপুর ১টার দিকে বিক্রয়চাপ বাড়তে থাকলে পরবর্তি একঘণ্টায় সূচকটি পাঁচ হাজার ৪২৪ পয়েন্টে নেমে আসে। শেষ মুহূর্তে এসে হারানো সূচকের কিছুটা ফিরে পায় ডিএসই। দিনশেষে ৩২ দশমিক দুই পয়েন্ট হারিয়ে পাঁচ হাজার ৪২৮ দশমিক পাঁচ পয়েন্টে স্থির হয় ডিএসই সূচক।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আজ রোববারের হারানো দরের একটি অংশ ফিরে পায়। কিন্তু তা দিনের সূচকের পতন ঠেকাতে যথেষ্ট ছিল না। কারণ একই সময় বীমা, জ্বালানি, টেক্সটাইল, রসায়ন ও সিমেন্ট খাতে ব্যাপক দরপতন ঘটে। মিশ্র প্রবণতা ছিল সিরামিকস, খাদ্য, তথ্য প্রযুক্তি, চামড়া ও বিবিধ খাতে। আবার আগের দিনের মতো আজও স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। বিভিন্ন খাতের এসব স্বল্প মূলধনী কোম্পানি আজও দুই পুঁজিবাজারের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয়। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩২৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১১২টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১৭২টি। অপরিবর্তিত ছিল ৪২টির দর। অপরদিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৩৮টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৮০টির দাম বাড়ে, ১৩৮টির কমে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫