ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২২ জুন ২০১৭

নির্বাচন

২৩ এপ্রিল চূড়ান্ত হবে ইসির রোডম্যাপ : ইসি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ মে ২০১৭,রবিবার, ২০:১৯


প্রিন্ট

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অগ্রাধিকারমূলক কাজের বাস্তবায়ন সূচি নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের সভায় ‘রোডম্যাপের’ খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছে। আগামী কমিশন সভায় এ কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

আজ রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে চতুর্থ কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, রোডম্যাপের কর্মপরিকল্পনাগুলো পুরোপুরি কমিশন আলোচনা করতে পারেনি। সেক্ষেত্রে কমিশনের আগামী বৈঠকে ২৩ মে এ কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হতে পারে।

তিনি জানান, রোডম্যাপের কাজ গুছিয়ে আনতে প্রয়োজনে পরামর্শকও নেয়া হতে পারে। এ কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তের পর তা বই আকারে প্রকাশ করা হবে।

রাজনৈতিক দলের সাথে কবে নাগাদ শুরু করা হবে জানতে চাইলে সচিব বলেন, রোডম্যাপ চূড়ান্ত না হলে এটা বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা এ বছরের কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যে ধরণের রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছিল এবারও প্রায় একই ধরণের রোডম্যাপের খসড়া করা হয়েছে। অতিরিক্ত হিসাবে কয়েকটি এজেন্ডা অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তবে আজকের কমিশন সভায় খসড়া রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হলে দু’টি এজেন্ডায় বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি ভোটারের বাড়ি বাড়ি ভোটার স্লিপ প্রদানের যে প্রস্তাবনা রোডম্যাপে সংযুক্ত করা হয়েছিল তা বাদ দেয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে কমিশন বলছে, ভোটার স্লিপ প্রদানের ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ হবে। এছাড়াও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নির্বাচনী ব্যয় মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাবনাও রোডম্যাপ থেকে বাদ দিয়েছে কমিশন।

খসড়া রোডম্যাপে আগামী বছরে ২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আগামী বছরের নভেম্বরে নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক প্রস্তুতি হিসাবে ২৩ দফা করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ও বিধি সংশোধন, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন প্রস্তুতকরণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী সরঞ্জামাদি মুদ্রণ ইত্যাদি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ২৫ দিন পূর্বে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ ও নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের সাথে বৈঠকেরও কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বরে। তার আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনের তফসিল হয় ২ নভেম্বর। সর্বশেষ দশম সংসদের অধিবেশন ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি শুরু হওয়ায় এবার মেয়াদ শেষের আগের ৯০ দিনের মধ্যে ভোট করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে। ভোটের আগে সংসদ নির্বাচনের অন্যতম পাঁচটি অনুষঙ্গকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০১৮ সালের আগস্টের মধ্যে সেসব কাজ শেষ করার কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

কমিশন সভায় মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন-সংক্রান্ত ইস্যুটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কোনো মৃত ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কারণ মৃত ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে গেলে নতুন করে আইন-বিধিতে সংশোধনী আনা লাগবে। এ কারণে ঝুঁকি নেয়নি কমিশন।

সভায় স্থানীয় পর্যবেক্ষক নীতিমালার খসড়া উপস্থাপন করা হলে তা ওয়েবসাইটে প্রদান করে জনসাধারনের মতামত গ্রহনের নির্দেশনা দেয়া হয়। ফলে আগামীকাল সোমবার স্থানীয় পর্যবেক্ষক নীতিমালার খসড়া ওয়েবসাইটে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। আগামী সাতদিন পর্যবেক্ষক নীতিমালার উপর মতামত নেয়া পর তা আবার কমিশন সভায় উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫