ঢাকা, বুধবার,২৬ জুলাই ২০১৭

বিবিধ

৬৮ কারাগারে চিকিৎসক ৬ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ মে ২০১৭,রবিবার, ১৯:৩০


প্রিন্ট
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ (ফাইল ফটো)

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ (ফাইল ফটো)

চিকিৎসা পাওয়া একজন বন্দির মৌলিক অধিকার। দেশের ৬৮টি কারাগারে ১১৭ জন চিকিৎসকের চাহিদা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ছয়জন। অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে নয়টি। যেসব নার্স আছে তারাও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছেন।

বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অবস্থা নাজুক বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন।

আজ রোববার সকালে কারা অধিদফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) ও বাংলাদেশ কারা অধিদফতর যৌথভাবে আগামী ১৬ থেকে ১৮ মে ঢাকায় চতুর্থ এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সিনিয়র কারেকশনাল ম্যানেজারদের আঞ্চলিক সম্মেলন আয়োজন করেছে। ‘কারাগারের মধ্যে নিরাপত্তা এবং মানবিক চাহিদার ভারসাম্য’ শিরোনামে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের ২৮ জন সিনিয়র কারেকশনাল ম্যানেজার অংশ নিবেন। তবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এ সম্মেলন যোগ দিচ্ছে না।

আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারের সামর্থের অভাবেই বন্দিদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কতোদিন থাকবে সেটা চিকিৎসকের ওপর নির্ভল করে। ফলে আসামিরা দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। যেসব বিত্তবান কারাগারে আসেন, তাদের ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেসার কমন। কিন্তু আদালত থেকে আমাদের নির্দেশ দেওয়া থাকে বন্দির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। যখন কোনো বন্দি বলবেন অসুস্থ অনুভব করছেন, তখন তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়।

বন্দিদের এখন চিকিৎসা করতে গিয়ে যদি চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ভর্তি করে রাখেন, তখন আমাদের কিছু করার থাকে না। আমাদের দায়িত্ব বন্দিদের নিরাপত্তা দেয়া। চিকিৎসকরা রিলিজ না দিলে যদি আমরা বন্দিকে নিয়ে আসতে চাই তাহলে বন্ড দিয়ে আনতে হবে। আর আনার পর যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তার সব দায়দায়িত্ব আমাদের উপরই বর্তায়।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, মালয়েশিয়ার আদলে বাংলাদেশের উখিয়ায় উন্মুক্ত কারাগার (ওপেন জেল) স্থাপনের জন্য ১৩৪ একর জায়গা অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে ফিসারিজ, ফার্মমিং এবং বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। বন্দিদের সেখানে পাঠানো হবে এবং তারা বিভিন্ন ধরনের কাজ করবে। বন্দিদের শারিরিক ও মানসিক কল্যাণ সাধন এবং তাদের চিকিৎসা ও বন্দিত্বের পরিবেশ যাতে আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুয়ায়ী হয় তা নিশ্চিত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আইসিআরসি বাংলাদেশের হেড অব ডেলেগেশন ইখতিয়ার আসলানভ বলেন, আইসিআরসি সুষ্ঠুভাবে কারাগার ব্যবস্থাপনা করতে এশীয়-প্রশান্ত মহানসাগরীয় দেশগুলিকে একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে উৎসাহিত করে। গত ১৪০ বছরের বেশি সময় ধরে আইসিআরসি ৯০টিরও বেশি দেশে কারাবন্দিদের জন্য বন্দি পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫