ঢাকা, শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭

নারী

সফল মা হালিমা খাতুন

শওকত আলী রতন

১৪ মে ২০১৭,রবিবার, ১৯:১৭


প্রিন্ট

পৃথিবীর সব মা’ই তার সন্তানদের আগলে রেখে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে প্রাণপণ চেষ্টা করে থাকেন। সন্তান থাকুক দুধে ভাতে এমনটাই প্রত্যাশা সবার। কিন্তু সংসারের টানাপড়েনে ক’জনই পারেন সে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে যারা সন্তানদেরকে সফলতার সাথে গড়ে তোলার কাজটি করতে পারেন তারাই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকেন মানুষের কাছে। এমনই একজন মহীয়সী নারী যিনি দারিদ্র্যের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সন্তানদের যোগ্য করে হয়েছেন সফল জননী। মেধা ও শ্রম দিয়ে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য বদলে দেয়া উদ্যমী সফল এই নারীর নাম হালিমা খাতুন। হালিমা খাতুনের জন্ম ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার উত্তর জয়পাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম কিতাব উদ্দিন।
জানা যায়, হালিমা খাতুনের স্বামী বশির উদ্দিন তাঁতের শাড়ির নকশার কাজের জন্য ব্যবহৃত কাঠ দিয়ে ফ্রেম তৈরি করে তা বিক্রি করে কোনোরকম চালাতেন তাদের অভাবের সংসার। হালিমা খাতুন ঘর গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি স্বামীর কাজে সহযোগিতা করতেন। পাঁচ ছেলে আর দুই কন্যাসন্তান নিয়ে বশির উদ্দিনের উপার্জনের টাকা দিয়ে চলত পুরো সংসার।
এমন অভাবেব সংসারের যেখানে তিনবেলার আহার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয়েছে সেখানে সন্তানদের লেখাপড়ার বিষয়টি খুবই তুচ্ছ মনে হলেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজেদের আগ্রহেই স্কুলে পাঠিয়েছেন। সন্তানেরা বাবা-মায়ের হাড়ভাঙা খাটুনি দেখে তারাও সবাই লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়ে উঠার পাশাপাশি বাবার কাজের সহযোগিতা করেন। আর্থিক অনটনের কারণে বার বার সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে কিন্তু মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী শতবাধা উপেক্ষা করে লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন। বাধা-বিঘœ অতিক্রম করে তার সন্তানদের মধ্যে ইমান আলী সফল ব্যবসায়ী, মাকসুদুর রহমান এমবিবিএস ডাক্তার, খুরশেদ আলম সোনালী ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম, বিল্লাল হোসেন বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার , হেলাল উদ্দিন (কৃষিবিদ) নিউজিল্যান্ড প্রবাসী, জালাল উদ্দিন এমবিবিএস ডাক্তার আর দুই মেয়ে লেখাপড়া শেষে বিয়ে করে নিজ নিজ সংসারে। সফল এই জননীর সন্তানেরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় তাকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বেগম রোকেয়া দিবস ২০১৬ উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মহিলাবিষয়ক অধিদফতর ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় গত ২৯ এপ্রিল ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জয়ীতা (সফল জননী) হিসেবে হালিমা খাতুনের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন। হালিমা খাতুন জানান, আমাদের সময় আমরা যে কষ্ট করেছি, জীবনের শেষ সময়ে এসে তা যেন কোনো কষ্টই মনে হচ্ছে না।
আমাদের সময়টা সত্যের একটা যুগ ছিল। ছিল না কোনো ছলচাতুরী বা প্রতারণার আশ্রয়। সফল জননীর পুরস্কারের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জীবনের শেষ দিন শেষ পর্যায়ে এসে সফল জননীর স্বীকৃতি পেলাম এর চেয়ে আর আনন্দের কী হতে পারে। এখন আর কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। ছেলে সন্তানেরা সবাই ভালো আছে । আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন জীবনের শেষ দিনগুলো যেন সুস্থতার সাথে ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে কাটিয়ে যেতে পারি এখন এটাই বড় চাওয়া পাওয়া। ৮৮ বছর বয়সী রতœগর্ভা এই জননী মনে করেন ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো কঠিন কাজই করা সম্ভব।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫