ঢাকা, সোমবার,২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অবকাশ

আমার মা ও একটি চুমু

ওয়ালীউল্লাহ্

১৪ মে ২০১৭,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সম্ভবত ১৯৯৯ সালের কথা।
বয়স আর কত? এই দশের মতো হবে। আমি তখন সবুজ সাথী কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি ক্যাডেট স্কুলে পড়ি। 
সে বছর বার্ষিক পরীার পর হঠাৎ সিদ্ধান্ত হলো আমাকে মাদরাসায় পড়ানো হবে। নানাভাই এমন আকাক্সা ব্যক্ত করে গেছেন, তাই।
সুতরাং একদিন আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হলো। তখন এতকিছু বোঝার বয়স হয়নি। ঢাকায় পড়তে আসছি এই খুশিতেই আমি বিভোর ছিলাম। বাড়ি ছেড়ে আসার যে কি যন্ত্রণা, এত কিছু কি আর বুঝতাম?! 
কিন্তু মা তো ঠিকই জানতেন, তার বুকের ধন যে কোথায় যাচ্ছে! সারা দিন খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকা তার ছেলেটা যে এবার খাঁচায় বন্দী হতে যাচ্ছে, সেই কথা ভেবে মায়ের আকুল মন কি আর মানে?! 
আমি প্রতিদিনের মতো খেলাধুলা শেষ করে, বন্ধুদেরকে ঢাকায় পড়তে আসার খবর দিয়ে, বাড়ি এসে তৈরি হয়ে নিলাম। বাড়িতে আত্মীয়স্বজনে ভর্তি ছিল। দাদী ও ফুফুরা নানা উপদেশ দিলেন।
রান্নাবান্না ইত্যাদি নিয়ে মা-ও ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু রওনা দেয়ার কিছুণ আগে হঠাৎ আমাকে একা পেয়ে তিনি একবার বললেনÑ‘আব্বু,একটা চুমা দিয়ে যাও’! 
সে দিন বেখেয়ালে হোক অথবা লজ্জায় হোক আমি মাকে একটা চুমু দিয়ে আসতে পারিনি। কিন্তু বুঝ হওয়ার পর থেকে যতবারই আমার ঘটনাটা মনে পড়েছে, নিজেকে কেমন ছোট মনে হয়েছে, অপরাধী মনে হয়েছে। 
আজও আর দশজন মানুষের মতো আমি আমার মাকে জড়িয়ে ধরতে পারি না। চুমু দিতে পারি না। কেন যেন আমার লজ্জা লাগে। ছোটবেলা থেকেই কেমন যেন একটা জড়তা আমার ভেতরে কাজ করে। কিন্তু নির্জনে যখন আমার মাকে নিয়ে আমি চিন্তা করি, আমার মনে হয়, আমার মাকে আমি ভালোবাসি, খুব ভালোবাসি। 
মা, তুমি হয়তো এই লেখাটা পড়বে না। হয়তো কোনোদিন শুনতেও পারবে না, কেন সেদিন আমি তোমাকে একটা চুমু দিতে পারিনি। কিন্তু আমার বিশ্বাস, তোমার মন তোমাকে আসল কারণটা সেদিনই জানিয়ে দিয়েছে। কেননা, তুমি তো জানোÑ তোমার ছেলেটা এমনই।
৫৮ মধ্য পাইকপাড়া, মিরপুর-১, ঢাকা

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫