ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২২ জুন ২০১৭

সংসদ

সাংবাদিকদের নির্ভীকভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান স্পিকারের

বিশেষ সংবাদদাতা

১৩ মে ২০১৭,শনিবার, ১৯:০৭ | আপডেট: ১৩ মে ২০১৭,শনিবার, ১৯:১৮


প্রিন্ট

সংবাদপত্রের মাধ্যমে জাতি ও সরকার নিজেরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সংবাদপত্র, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে গণমাধ্যম সমাজের চিত্র প্রস্ফুটিত করে। ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রামসহ জনগণের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতে সাংবাদিক সমাজ ঝুঁকি নিয়ে কঠিন দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সাংবাদিক সমাজকে নির্ভীকভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে চট্টগ্রাম বিভাগ সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা (সিডিজেফডি) আয়োজিত বার্ষিক সাধারন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিডিজেফডির সাধারণ সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম চৌধুরী।

বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ প্রমূখ।

সিডিজেফডির আহবায়ক মাহমুদুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক সমাজের অধিকারের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। বর্তমান সরকার সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে দুস্থ ও অস্বচ্ছল সাংবাদিকদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। যেখানে প্রতিবছর দুই থেকে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়াও সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন ও বাস্তবায়নের প্রতিও রয়েছে তার সজাগ দৃষ্টি। লেখনীর মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজ যে দায়িত্ব পালন করেন তা অত্যন্ত গর্বের ও গৌরবের। মেধা ও দক্ষতা বিকশিত করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেলে নানা বাঁধা বিপত্তি আসতে পারে। সব প্রতিকুলতার ঊর্ধ্বে উঠে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে সাংবাদিকদের এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমৃত্যু জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থেকে জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন। দীর্ঘ ২৪ বছরের জেল জুলুম হুলিয়াকে উপেক্ষা করে বাঙালী জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন স্বাধীনতার রক্তিম পতাকা। বিশ্বের মানচিত্রে সূচিত হয়েছিল সার্বভৌম বাংলাদেশ। রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পর তারই সুযোগ্য কন্যা অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে নিরলস নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। যার লক্ষ্য ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ।

স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালী জাতিকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখিয়েছেন অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে পরিণত করেছেন উন্নয়নের রোল মডেলে। সেকারণে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে সবাইকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ‘ভিশন ২০২১’ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। যা বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করবে। ইতোমধ্যেই দারিদ্রতার হার ৪০ ভাগ থেকে কমে ২২ ভাগে এসেছে, মাথাপিঁছু আয় ৫০০ ইউএসডি থেকে বেড়ে ১৪৬৫ ইউএসডিতে উন্নীত হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন তিন হাজার মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট হয়েছে ও গ্যাস, সৌরচালিত বিদ্যুৎসহ জ্বালানী খাতে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রসূতি ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি ও বিদ্যালয়গামী কোমলমতি শিশুদের মাঝে বিনামূলে বই বিতরণের মাধ্যমে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা হয়েছে, প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে দেয়া হচ্ছে বিশেষ সুবিধা। এছাড়া পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, বহিঃসমুদ্র বন্দরসহ বৃহৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভওয়ে উদ্বোধন করেছেন। এসব উন্নয়নের মাধ্যমেই অর্জিত হবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫