ঢাকা, শনিবার,২২ জুলাই ২০১৭

কূটনীতি

অবৈধ বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে নেয়ার তাগিদ দিয়েছে ইইউ, বাংলাদেশের ইতিবাচক সাড়া

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

১২ মে ২০১৭,শুক্রবার, ১৯:৫২


প্রিন্ট

অবৈধভাবে থাকা বাংলাদেশী নাগরিকদের ফিরে নেয়ার তাগিদ দিয়েছে ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জোটটির মতে, এর ফলে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে বৈধ অভিবাসনের দরজা খুলবে। গত বছর ২০ হাজার বাংলাদেশী ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বৈধভাবে থাকার নিবন্ধন পেয়েছে।

ব্রাসেলসে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সাথে বৈঠকে অভিবাসন, স্বরাষ্ট্র ও নাগরিকত্ব বিষয়ক ইউরোপিয় কমিশনার দিমিট্রিস অভ্রমোপোলাস বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানান।

তার এ আহ্বানে দুই মন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দেন।

সম্প্রতি লিবিয়া হয়ে নৌকাযোগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারীদের মধ্যে বাংলাদেশী নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া ইইউ উদ্বিগ্ন।

অভ্রমোপোলাস জানান, স্বদেশে ফিরে যাওয়া বাংলাদেশীদের দক্ষতার উন্নয়ন ও জীবিকার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নে আগ্রহী ইইউ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আনিসুল হক বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অবৈধ বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্য যা যা করা প্রয়োজন সরকার সবই করবে।

তিনি বলেন, প্রায় এক কোটি দক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশী কর্মী বিদেশে কাজ করছে। বাংলাদেশ নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক ও নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করে।

এসময় রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে ইইউ’র সহযোগিতা কামনা করেন দুই মন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদ দমনে ইইউ ও বাংলাদেশ একসাথে কাজ করতে একমত হন তারা।

এদিকে মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপিয় পার্লামেন্টারি কমিটির ভাইস চেয়ার ক্রিশ্চিয়ান ড্যান প্রেদার সাথে আলাদাভাবে বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। প্রেদা ২০১৫ সালে তার বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন। ইইউ ও বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। এ বছরের মার্চে ঢাকা সফর করে আসা ইউরোপীয় সংসদ সদস্যরা বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন বলে জানান প্রেদা।

আইনমন্ত্রী প্রেদাকে জানান, বাংলাদেশে মানবাধিকার ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। জনগণের, বিশেষ করে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার সম্পর্কে আনিসুল হক বলেন, রফতানি প্রক্রিয়াকরন অঞ্চল (ইপিজেড) আইন পর্যালোচনা করতে সংসদ থেকে আইনটির খসড়া প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সাথে আলোচনা করেই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।

বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া আধুনিক করতে নির্বাচনী সংস্কারে সহায়তা দেয়ার জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

অনুষ্ঠানে বেলজিয়াম ও ইইউ’তে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক (ইউরোপ) মোহাম্মদ খোরশেদ এ. খাস্তগীর উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তী সময়ে আইনমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইউরোপিয় পার্লামেন্টের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ডেলিগেশন সদস্যদের সাথে বৈঠকে করেন। এতে তারা বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও অর্জনগুলো তুলে ধরেন।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫