ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

থেরাপি

জীবনজুড়ে আতঙ্ক

শরীফ বিল্লাহ

১১ মে ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আতঙ্ক সব সময় আমাদের মধ্যে কাজ করে। আমরা জীবনভর আতঙ্কে থাকি। শৈশব থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত এই আতঙ্ক আমাদের কাছ থেকে যায়-ই না। এখন আমরা দেখব কিভাবে সারা জীবন এই আতঙ্ক আমাদের গ্রাস করে রাখেÑ

শৈশব
শৈশবেই আপনার মনে প্রথম আতঙ্ক শুরু হয়। আপনি ভুলবশত মায়ের কোলে যেই না জলবিয়োগ করে দেন তখনই খান এক রাম ঝাড়ি। ‘কাঁদবি না, একদম চুপ’ বলে আপনার মা আপনাকে শাসাতে থাকে। এতে করে আরো বেশি জলবিয়োগের সমূহ চান্স আপনার মধ্যে থেকে যায়। এ সময় আপনি ভ্যান ভ্যান করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

কৈশোর
এ সময় আপনি মহা-আতঙ্কে থাকেন আপনার শিক্ষকের। পড়া না পারার জন্য তিনি যা তা করে ফেলেন। ‘পড়া পারস না খালি বাঁদরামি... আইজ তোরে ...’ বলে তিনি আপনার ওপর বেত নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পুরো কৈশোর সময়টা তার বেতের আতঙ্কে কাটিয়ে দিতে হয়। তা ছাড়া তেল মাখানো বান্দরের অঙ্ক নিয়ে মহা-আতঙ্কিত থাকেন। বান্দরের লাফালাফি এ সময় থামেই না।

যৌবন
‘কী আমার সাথে প্রেম... সাহস তো কম না। আমার ক্যাডার ভাইরে দিয়ে তোমাকে এমন প্যাঁদানি দেবো...’- এ সময়টা চলতে থাকে প্রেমিকা ও তার ভাই কর্তৃক মারের আতঙ্কে। প্রেম তো হয়ই না উল্টো প্রেমিকার ভাইয়ের মারের আতঙ্ক নিয়ে যৌবনটা কাটিয়ে দিতে হয়। ‘হারামজাদা লায়েক হয়েছ। ঘরে বসে বিড়ি ফুঁকা হচ্ছে?’ পিতা কর্তৃক এ জাতীয় কঠিন শাসনের আতঙ্কে কাটাতে হয় দিন-রাত। ঘরের তের চিপাতে বসে বিড়ি টানলেও পিতা মিয়া ঠিকই ধরে ছাড়েন।

প্রৌঢ়
এ সময়টা যায় বসের ঝাড়ির আতঙ্কে। ফাও ফাও বস এমন চটে যান কাঁপাকাঁপিতে জান শেষ। ‘কী কাজ করেন? একদম ফায়ার করে দেবো।’ বলে বস সব সময় মহা সুনামির মধ্যে রাখেন। বসও এমন জিনিস গরম হওয়া ছাড়া তিনি থাকতেই পারেন না। গরম হতে পারলেই মনে হয় তার বসগিরি থাকে।

বৃদ্ধ
এ সময় চলে বউয়ের আতঙ্ক। বউ কথায় কথায় মারের ভয় দেখায়। একটু থেকে একটু হলে সে ঝাড়– হাতে নেয় মারার জন্য। ‘কী আমি বেহিসাবি খরচ করি। তবেরে মিনসে...’ বলেই সে গায়ের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় হাতে যা পায় তাই ছুড়ে মারে। তা ছাড়া এ সময় জায়গা-জমির সীমানা নিয়ে পাশের বাড়ির লোকটির জন্য আতঙ্কিত থাকেন। ‘হালায় কী করছে... দেখেন অবস্থাডা... আমার সীমানার মধ্যে গাছটা হান্দায়া দিছে...’ বলে তিনি সব সময় আপনাকে কথা শোনায়। তা কথায় আপনি নিজে অতঙ্ক বোধ করেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫