ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

থেরাপি

পরীায় ফেল ও সফল প্রেমের গল্প

তারেকুর রহমান

১১ মে ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আবুলের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কোনো দিনই ছিল না। পৃথিবীতে পড়াশোনাটাই তার কাছে কঠিন মনে হতো। স্কুলে আসার নাম করে সিনেমা হলে গিয়ে বাংলা সিনেমা দেখা আবুলের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পড়াশোনার অবস্থা বেগতিক দেখে আবুলের বাপের মাথায় চিন্তার ভাঁজ দেখা দিলো। এই পোলাটারে ঠেলেঠুলে অন্তত এসএসসিটা পাস করাতে পারলে তার কিছুটা স্বস্তি আসবে। জোর করেও তাকে পড়ার টেবিলে বসানো যায় না। তার মাথায় সব সময় চিন্তা থাকে কিভাবে কারো গাছের সুপারি চুরি করে সিনেমা দেখা যায়। সুপারিগুলো গঞ্জে বিক্রি করে আবুল সিনেমা দেখে। একদিন সিনেমা হল থেকে বের হতে বাবার কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ল আবুল। আবুলের বাপ আবুলের ওপর জরুরি অবস্থা জারি করলেন। আবুল শুধু স্কুলে যাবে আর বাসায় ফিরে আসবে। এ ছাড়া আর কোনো কাজ নেই তার।
আবুল ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাবার নির্দেশ মেনে নিলো। নিয়মিত স্কুলে যেতে লাগল। স্কুলের তিন কাস জুনিয়র একটা মেয়েকে তার খুব ভালো লাগল। মেয়েটাকে দেখলেই আবুলের বুকের ভেতর এক ধরনের হাহাকার সৃষ্টি হয়। সে সিনেমায় দেখেছে প্রেম করতে হলে আগে নায়িকার সাথে ধাক্কা খেতে হয়। আবুল নতুন ফন্দি আঁটলো, মেয়েটার সাথে বাংলা সিনেমার নায়কের মতো একটি ধাক্কা খেতে হবে। স্কুলে আসার সময় মেয়েটাকে আবুল অনুসরণ করছিল। কিছু দূর হাঁটার পর আবুল এসে মেয়েটাকে একটা ধাক্কা দিলো। মেয়েটা কালবিলম্ব না করে আবুলের গালে দুইটা চড় বসিয়ে দিলো। চড়ের বিষয়টা আবুল বুঝতে পারল না। বাংলা সিনেমায় সে দেখেছে, ধাক্কা লাগলে প্রেম হয় আর এখানে কিনা চড় খেতে হলো!
আবুল মন খারাপ করে বাসায় ফিরল। এরই মধ্যে মেয়েটার নাম জেনে গেল সে। মেয়ের নাম পুতুল। সারা দিন পুতুলের কথা ভাবতেই থাকল আবুল। একটা চিঠি লেখার খুব ইচ্ছা তার। কিন্তু তার হাতের লেখার যে দুরবস্থা তাতে আবার চড় খেতে হবে। আবুল হাতের লেখা সুন্দরকরণ প্রকল্পে নামল। কাসের সবচেয়ে সুন্দর হাতের লেখা ফাহিমের তার কাছ থেকে কয়েক লাইন লিখে এনে আবুল হাত ঘুরাতে লাগল। কিছু দিন প্র্যাকটিস করার পর আবুলের হাতের লেখার উন্নতি ঘটল। খুব সুন্দর করে পুতুলের কাছে একটি চিঠি লেখে আবুল। পুতুলকে সে ভালোবাসে এ কথাটি খুব সুন্দর ভাষায় লিখে দেয়। পুতুল চিঠি পেয়ে মুচকি হাসি দেয়। আবুলের কলিজা মোচড় দিয়ে ওঠে। আবুল ভাবে তার প্রেম মনে হয় হয়েই গেল। হেড স্যার আবুলকে ডাক দিলো। এই চিঠি কেন পুতুলকে লিখেছে তা জানতে চাইল। আবুল কিছুই বলতে পারেনি। হেড স্যার একটা বেত দিয়ে আবুলকে উত্তম মধ্যম দিতে লাগল। আবুলের মার খাওয়া দেখে পুতুল খিলখিল করে হাসতে লাগল। আবুল রাগে ােভে বাসায় চলে এলো। সামনে এসএসসি পরীা আবুল তাই পড়াশোনায় বেশ মনযোগী। সারা বছর কিছু পড়েনি তাই কোনো রকম প্রশ্ন ফাঁস করা যায় কি না ভাবতে লাগল। কিন্তু কোনো কূলকিনারা না পেয়ে নিজেই পড়াশোনা বাড়িয়ে দিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্য আবুল এসএসসি পরীায় ফেল করে বসে। তিন তিনবার এসএসসি দিয়েও আবুল পাস করতে পারেনি। আবুলের এই অবস্থা দেখে তার বাবা একটা রিকশা কিনে দেয়। পড়াশোনা যেহেতু তাকে দিয়ে হবে না তাই রিকশা চালানোই তার জন্য পারফেক্ট হবে। আবুল এখন রিকশা চালায়। পরীায় ফেল করলে রিকশা চালাতে হবে তা সে কখনোই ভাবেনি।
এ দিকে পুতুলও এসএসসি পরীার্থী। পুতুলের বাবা সাফ জানিয়ে দেয় পরীায় ফেল করলে একজন রিকশাওয়ালার সাথে বিয়ে দিয়ে দেবে। পুতুল বাবার কথায় কান না দিয়ে নিজের মতো করে পড়তে লাগল। প্রস্তুতি মোটামুটি ভালোই ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য পরীায় পুতুল ফেল করে বসে। এ বছর পাসের হার কিছুটা কমে যায়। ফলে ফেলের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে যায়। এই ফেলের মধ্যেই পুতুল পড়ে গেল। পুতুলের বাবা আগেই বলেছিল পরীায় ফেল করলে রিকশাওয়ালার কাছে তাকে বিয়ে দিয়ে দেবে। পুতুলের বাবা একজন ভালো রিকশাওয়ালা হন্যে হয়ে খুঁজছে। শেষ পর্যন্ত একজন রিকশাওয়ালা পেয়ে গেল। পুতুলকে না জিজ্ঞেস করেই ওই রিকশাওয়ালার সাথে বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। বেশ ধুমধাম করে তার বিয়ে হয়। বাসরঘরে ঢুকে পুতুল ভ্যাবাচেকা খেয়ে ওঠে। ওমা... এ দেখি সেই আবুল। যে স্কুলে তাকে ডিস্টার্ব করত। যে কিনা তিনবার এসএসসি ফেল করার কারণে তার বাবা তাকে রিকশা কিনে দেয়। পুতুল নিস্তব্ধ হয়ে যায়। এ দিকে আবুল বেশ খুশি শেষ পর্যন্ত তার প্রেম সার্থক হলো। সে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করল। পরীায় ফেল করার কারণে আজ সে তার ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেয়েছে। এমন ভাগ্য কয়জনের হয়? পরীা ফেল তাদের দুইজনকে কাছে নিয়ে এসেছে। অতঃপর আবুল আর পুতুল সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫