ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

থেরাপি

সখিনা ফেল করেছে

জোবায়ের রাজু

১১ মে ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মেট্রিক পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ হয়েছে ক’দিন আগে। দুর্ভাগ্যবশত সখিনা ফেল্টুস (ফেল) মেরেছে। ফেল করার অপরাধে সখিনাকে বকাবকি না করে তার পরিবার-পরিজনদের কার কী করা উচিত, জানাচ্ছেন জোবায়ের রাজু

বাবা-মা : সখিনার রেজাল্টের মধ্য দিয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেছে। তারা বড় আশা করেছেন মেয়েটা পাস করলে চার দিক থেকে বিয়ের জন্য ভালো ভালো সম্বন্ধ আসতে থাকবে। কিন্তু সখিনা সারা দিন ফেসবুকে থাকার কারণে না পড়ে পরীক্ষায় ফেল করে তাদের সে আশায় গুড়েবালি মেখে দিয়েছে। তবে সখিনার বাবা-মা এখন তাদের স্বপ্নের হাল না ছেড়ে নতুন ফন্দি পাততে পারেন। চার দিকে প্রচার করেন যে, সখিনা পরীক্ষায় পাস করেছে। মণে মণে মিষ্টি এনে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে থাকেন। সবাই একসাথে জানবে সখিনা বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্ব¡ল করেছে।
সখিনার ভাবী : ফেল করার বেদনায় সখিনা ভেঙে পড়েছে। সেই ননদের এহেন অবস্থায় সখিনার ভাবী তার পাশে পাশে থাকাটা এখন বড় জরুরি। কাঁদতে কাঁদতে সখিনা যখন অজ্ঞান হয়ে যাবে, ভাবীর উচিত সখিনার মাথায় পানি ঢালা। সংসারের কাজে সখিনাকে এখন থেকে আর জড়াতে না দেয়া, যাতে পরের বার ভালো রেজাল্ট নিয়ে সখিনা পাস করতে পারে। তবে তত দিন সখিনার মোবাইলটা ভাবী লুকিয়ে রাখবে, যাতে সখিনা ফেসবুক চালাতে না পারে।
সখিনার বড় ভাই : সখিনার বড় ভায়ের যদি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ফেসবুকে পড়ে থাকার বাতিক থাকে, তাহলে তিনি ফেল্টুস বোনের পক্ষে ভুয়া স্ট্যাটাস দিতে পারেন এভাবেÑ ‘আমার বোনটা গোল্ডেন এ প্লাস নিয়ে এসেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’
ছোট ভাই : বুবু ফেল করে সারা দিন কান্নাকাটি করছে আর দু’চোখে পদ্মা-মেঘনা-যমুনার জল ঝরাচ্ছে। বুবুর এই দুঃখ সইতে না পারলে ছোট ভাইটার উচিত এক দৌড়ে বাজারে গিয়ে এক বাক্স টিস্যু পেপার এনে বুবুকে দেয়া। বুবু কাঁদবে আর টিস্যু দিয়ে সে চোখের পানি মুছবে।
দাদী মা : মেট্রিক পরীক্ষায় আন্ডা মেরে নাতিনের কাঁদতে কাঁদতে বেহুঁশ হয়ে যাওয়ার দশা দেখে দাদী মায়ের উচিত নাতনীর পাশে বসে বসে তাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা এবং নাতনী যাতে মানসিক শান্তি পায়, সে জন্য দোয়া দরূদ পড়ে নাতনীর বুকে ফুঁ দেয়া। ঘরে ট্যাংয়ের শরবত থাকলে দাদী মা ইচ্ছে করলে নাতনীকে এক গ্লাস শরবত এনে দিতে পারেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫