ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

থেরাপি

আগামীকাল থেকে পড়তে বসব!

সুদিপ্ত কুমার নাগ

১১ মে ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

পরীার আগের রাতে যা একটু পড়া হয়! এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় সিনিয়র জুনিয়র সব শিার্থীর হল লাইফ কেটে যায় কিন্তু সেই আগামীকাল আর আসে না!
হ সুদিপ্ত কুমার নাগ

এসএসসি ও এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করার জন্য পড়ার টেবিলে বসতে না চাইলেও বাপ-মায়ের ধাওয়া খেয়ে ঠিকই শেষ পর্যন্ত বই নিয়ে পড়তে বসতাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় লাইফে তো হলে থাকা হয়। ঠেকায় না পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিার্থীই পড়তে বসে না। আর যদি হলে থাকা হয়, তাহলে তো আরো! (এ েেত্রও সব জায়গার মতো দুই একজন এলিয়েন টাইপের মেধাবী থাকে, যারা সব সময় পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে!)।
যেহেতু হলে থাকা হয়, সেহেতু মজামাস্তি সবই হয়। মজামাস্তি করতে করতে ঠিকই পরীা চলে এলো। আমাদের রুমে যারা থাকি, সবাই একটু সিরিয়াস হলো। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ‘আগামীকাল থেকে পড়তে বসব’।
পরের দিন কাস শেষ করে হলে এসে বিকেল বেলা ফুটবল খেলে পার করে দিলাম। সন্ধ্যায় চা-নাশতা খেয়ে হলে আসতে প্রায় পৌনে ৮টা বেজে গেল। ৮টার সময় রাতের ডাইনিংয়ের খাবার দেয়। তাই আর ১৫ মিনিটের জন্য আমরা বন্ধুরা পড়তে বসলাম না। একবারে ডাইনিংয়ে খাবার খেয়ে রুমে এলাম। এরপর কিছুণ ফেস বুকের টাইমলাইন ঘাঁটতেই কিভাবে জানি রাত ১১টা বেজে গেল! মনে হয় যেন, কেউ সময়টাকে ছিনতাই করে নিয়ে গেছে! এবার ভাবলাম পড়তে বসব। এমন সময় রুমে গানের আসর আর গিটার নিয়ে এলোমেলো আড্ডা শুরু হয়ে গেল। আসর আর আড্ডা শেষ হতে হতে রাত ২টা বেজে গেল। সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আজকে আর এত রাতে পড়তে না বসে আগামীকাল থেকে ঠিকভাবে পড়া শুরু করব।
এভাবে প্রতিটা দিন কেটে যায়; কিন্তু সেই আগামীকালে আর লেখাপড়া শুরু হয় না। শুধু পরীার আগের রাতে যা একটু পড়া হয়! এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় সিনিয়র জুনিয়র সব শিার্থীর হল লাইফ কেটে যায়; কিন্তু সেই আগামীকাল আর আসে না! আর যুগ যুগ ধরে সবাই বলে আসছে, আগামীকাল থেকে পড়তে বসব!

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫